Su-57E-এর জন্য নতুন স্টেলথ মিসাইল, ভারতের সঙ্গে চুক্তির মাঝেই রাশিয়ার বড় অস্ত্রচমক
মস্কো: ভারতের সঙ্গে সু-৫৭ই (Su-57E) যুদ্ধবিমান বিক্রি নিয়ে আলোচনা যখন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে, তখনই নতুন স্ট্যান্ড-অফ অস্ত্র প্রকাশ্যে আনল রাশিয়া। মিশরের এল আলামেইন আন্তর্জাতিক এয়ারশোতে প্রথমবারের…
মস্কো: ভারতের সঙ্গে সু-৫৭ই (Su-57E) যুদ্ধবিমান বিক্রি নিয়ে আলোচনা যখন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে, তখনই নতুন স্ট্যান্ড-অফ অস্ত্র প্রকাশ্যে আনল রাশিয়া। মিশরের এল আলামেইন আন্তর্জাতিক এয়ারশোতে প্রথমবারের মতো প্রদর্শিত হয়েছে এস-৭১কে কোভিয়র, যা রাশিয়ার পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান সু-৫৭ই-এর জন্য তৈরি করা হয়েছে। নতুন এই অস্ত্রটি দূর থেকে শত্রুর স্থল লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।
রাশিয়া একই অনুষ্ঠানে এস-৭১এম মনোক্রোম-ও প্রদর্শন করেছে। মস্কোর দাবি, এস-৭১ পরিবারের এই অস্ত্রগুলি প্রচলিত ক্রুজ মিসাইল এবং কম খরচের অ্যাটাক ড্রোনের মাঝামাঝি একটি নতুন শ্রেণির স্ট্যান্ড-অফ অস্ত্র হিসেবে কাজ করতে পারে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এস-৭১কে কোভিয়র?
এস-৭১কে কোভিয়রের মূল লক্ষ্য হল যুদ্ধবিমানকে শত্রুর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার খুব কাছে না গিয়েই দূর থেকে হামলা চালানোর সুযোগ দেওয়া। বড় ও অত্যাধুনিক ক্রুজ মিসাইলের তুলনায় কম খরচে বেশি সংখ্যক অস্ত্র ব্যবহার করা এই ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য বলে মনে করা হচ্ছে।
অস্ত্রটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে কম দৃশ্যমানতার নকশা। এর চ্যাপ্টা ও কৌণিক আকৃতি রাডারে শনাক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে শত্রুর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে এটি অতিরিক্ত সুবিধা দিতে পারে।
Advertisements
রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা সংস্থা রোস্তেক জানিয়েছিল, এল আলামেইন এয়ারশোতে সু-৫৭ই-এর সঙ্গে এমন কিছু অস্ত্রও প্রদর্শন করা হবে, যেগুলি এর আগে রাশিয়া বা বিদেশে প্রকাশ্যে দেখানো হয়নি।
প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পাল্লা
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এস-৭১কে কোভিয়রে আর৫০০ টার্বোজেট ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে। এর পাল্লা প্রায় ৩০০ কিলোমিটার বলে জানা গিয়েছে। অস্ত্রটিতে রয়েছে ২৫০ কেজির ওএফএবি-২৫০-২৭০ ফ্র্যাগমেন্টেশন ওয়ারহেড। প্রি-প্রোগ্রাম করা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে এটি ইনর্শিয়াল নেভিগেশন ব্যবহার করে। অর্থাৎ, সু-৫৭ই তুলনামূলক নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করেই শত্রুর গুরুত্বপূর্ণ স্থল লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে পারবে। বিশেষ করে যেখানে শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে, সেখানে এই ধরনের স্ট্যান্ড-অফ অস্ত্র যুদ্ধবিমানের ঝুঁকি কমাতে পারে।
ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতার প্রভাব
এস-৭১ পরিবারের অস্ত্র তৈরির পিছনে ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতার প্রভাব রয়েছে বলেও মনে করা হচ্ছে। গত কয়েক বছরে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতে কম খরচের ড্রোন এবং তুলনামূলক সস্তা নির্ভুল হামলার অস্ত্র ব্যাপকভাবে ব্যবহার হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অত্যন্ত দামি ক্রুজ মিসাইলের পাশাপাশি বেশি সংখ্যায় ব্যবহারযোগ্য কম খরচের অস্ত্র মোতায়েনের গুরুত্ব বেড়েছে। এস-৭১কে সেই জায়গাটিই পূরণ করার চেষ্টা করছে। অর্থাৎ, একটি উন্নত যুদ্ধবিমান থেকে একই সঙ্গে একাধিক তুলনামূলক কম খরচের স্ট্যান্ড-অফ অস্ত্র ছোড়া সম্ভব হলে শত্রুর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বেশি চাপের মুখে ফেলা যেতে পারে।
যুদ্ধেও ব্যবহার হয়েছে কি?
রাশিয়ার এক অস্ত্র রফতানি প্রতিনিধি রয়টার্সকে জানিয়েছেন, প্রথমবার প্রকাশ্যে প্রদর্শনের আগেই এস-৭১কে কোভিয়র যুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে। ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থার দাবি, অস্ত্রটি প্রথম মোতায়েন করা হয়েছিল ২০২৫ সালের শেষ দিকে। তবে এই দাবিগুলি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির বক্তব্য হিসেবে দেখা উচিত। অস্ত্রটির প্রকৃত যুদ্ধ-ব্যবহার, কার্যকারিতা এবং সাফল্যের মাত্রা নিয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য সীমিত।
ভারতের জন্য কেন তাৎপর্যপূর্ণ?
এস-৭১কে কোভিয়রের প্রকাশ্যে আসার সময়টিও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, রাশিয়া একই সময়ে ভারতের কাছে সু-৫৭ই বিক্রির বিষয়ে জোর বাড়াচ্ছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের আলোচনার এজেন্ডায় ভারতের কাছে সু-৫৭ যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়টি রয়েছে। একই সঙ্গে সু-৫৭ উৎপাদন প্রযুক্তিতে ভারতের প্রবেশাধিকারের অনুরোধ নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে তিনি জানিয়েছেন। মস্কো ইতিমধ্যেই ভারতে সু-৫৭-এর যৌথ উৎপাদনের প্রস্তাব দিয়েছে। রুশ কর্মকর্তারা আগে জানিয়েছিলেন, ভারতে পঞ্চম প্রজন্মের এই যুদ্ধবিমান তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে প্রযুক্তিগত আলোচনা চলছে।
সু-৫৭ই-এর সঙ্গে নতুন অস্ত্রের সমন্বয়
ভারত যদি ভবিষ্যতে সু-৫৭ই কেনার বিষয়ে এগোয়, তাহলে শুধু যুদ্ধবিমান নয়, তার সঙ্গে ব্যবহারের জন্য তৈরি নতুন প্রজন্মের স্ট্যান্ড-অফ অস্ত্রগুলিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এস-৭১কে-এর প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পাল্লা, ২৫০ কেজির ওয়ারহেড এবং কম দৃশ্যমানতার নকশা সু-৫৭ই-কে দূরপাল্লার আক্রমণ সক্ষমতায় আরও শক্তিশালী করতে পারে। বিশেষ করে শত্রুর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বাইরে থেকে আক্রমণ চালানোর ক্ষেত্রে এই ধরনের অস্ত্র ভবিষ্যতের বিমানযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
তবে ভারতের ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত বিষয়টি নির্ভর করবে অস্ত্রটির প্রকৃত কার্যকারিতা, দাম, প্রযুক্তি হস্তান্তরের শর্ত এবং স্থানীয় উৎপাদনের সুযোগ কতটা দেওয়া হচ্ছে তার উপর। সু-৫৭ই নিয়ে মস্কো-নয়াদিল্লির আলোচনা যত এগোবে, এস-৭১কে কোভিয়রের মতো নতুন অস্ত্রও সেই আলোচনায় আলাদা গুরুত্ব পেতে পারে।
আরও পড়ুন: ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি নিয়ে ভারতে Realme P4S 5G, দাম ৩৪,৯৯৯
আরও পড়ুন: মেড ইন ইন্ডিয়ায় ফের ইতিহাস! দেশের সফল মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার হচ্ছে দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর চিপ
আরও পড়ুন: DRDO র বড় সিদ্ধান্ত! এবার দেশেই তৈরী হতে চলেছে টর্পেডো সাবমেরিন