Hero Passion Plus বনাম Bajaj Platina 110: কমিউটার বাইকে কোনটি সেরা? - 24 Ghanta Bangla News
Home

Hero Passion Plus বনাম Bajaj Platina 110: কমিউটার বাইকে কোনটি সেরা?

Spread the love

ভারতের কমিউটার মোটরসাইকেলের বাজারে হিরো প্যাশন প্লাস (Hero Passion Plus) এবং বাজাজ প্লাটিনা ১১০ (Bajaj Platina 110), দুটোই দীর্ঘদিনের পরিচিত নাম। প্রতিদিন অফিস যাতায়াত, বাজার করা কিংবা শহরের ব্যস্ত রাস্তায় নিয়মিত চলাচলের জন্য কম খরচে নির্ভরযোগ্য বাইক খুঁজলে এই দুই মডেলই তালিকায় থাকে।

তবে দুটির চরিত্র কিছুটা আলাদা। হিরো প্যাশন প্লাসে রয়েছে তুলনামূলক আধুনিক ডিজাইন, বেশি ফিচার এবং ১০০ সিসির ইঞ্জিন। অন্যদিকে বাজাজ প্লাটিনা ১১০-এ রয়েছে বড় ইঞ্জিন, বেশি পাওয়ার-টর্ক এবং তুলনামূলক কম দাম।

তাহলে প্রায় একই ধরনের ব্যবহারের জন্য কোন বাইকটি বেশি উপযুক্ত? দাম, ডিজাইন, কমফোর্ট, ফিচার এবং পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে দেখে নেওয়া যাক।

দাম ও ভ্যারিয়েন্ট

দিল্লির এক্স-শোরুম দাম অনুযায়ী দুই বাইকের দাম হল:

Advertisements


   


   

ভ্যারিয়েন্ট হিরো প্যাশন প্লাস বাজাজ প্লাটিনা ১১০
ড্রাম ৮০,৩২৮ টাকা ৭৫,৭৮৭ টাকা
ডিস্ক ৮৪,১২৮ টাকা –

অর্থাৎ ড্রাম ভ্যারিয়েন্টে বাজাজ প্লাটিনা ১১০-এর তুলনায় হিরো প্যাশন প্লাস প্রায় ৪,৫৪১ টাকা বেশি দামি। প্যাশন প্লাসে আবার সামনের ডিস্ক ব্রেকের বিকল্পও রয়েছে।

ওয়ারেন্টির ক্ষেত্রেও সামান্য পার্থক্য রয়েছে। দুটির ক্ষেত্রেই পাঁচ বছরের ওয়ারেন্টি পাওয়া যায়। তবে প্লাটিনা ১১০-এ সর্বোচ্চ ৭৫,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত ওয়ারেন্টি রয়েছে, যেখানে প্যাশন প্লাসে কভারেজ ৭০,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত।

ডিজাইন ও আকারে কে এগিয়ে?

বৈশিষ্ট্য হিরো প্যাশন প্লাস ড্রাম বাজাজ প্লাটিনা ১১০ ড্রাম পার্থক্য
দৈর্ঘ্য ১,৯৮২ মিমি ২,০০৬ মিমি প্যাশন ২৪ মিমি ছোট
প্রস্থ ৭৭০ মিমি ৭২৯ মিমি প্যাশন ৪১ মিমি চওড়া
উচ্চতা ১,০৮৭ মিমি ১,১০০ মিমি প্যাশন ১৩ মিমি নিচু
হুইলবেস ১,২৩৫ মিমি ১,২৫৫ মিমি প্যাশন ২০ মিমি ছোট
সিট হাইট ৭৯০ মিমি ৮০৭ মিমি প্যাশন ১৭ মিমি নিচু
গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স ১৬৮ মিমি ২০০ মিমি প্লাটিনা ৩২ মিমি বেশি
কার্ব ওজন ১১৫ কেজি ১১৬ কেজি প্রায় একই
ফুয়েল ট্যাঙ্ক ১১ লিটার ১১ লিটার সমান

দেখতে দুটো বাইকের আকার কাছাকাছি হলেও চরিত্রে পার্থক্য রয়েছে। হিরো প্যাশন প্লাসে তুলনামূলক যুবকসুলভ এবং শার্প ডিজাইন দেখা যায়। ফ্লোয়িং বডি প্যানেল এবং স্পোর্টি ডুয়াল-টোন গ্রাফিক্স বাইকটিকে আধুনিক চেহারা দিয়েছে।

অন্যদিকে বাজাজ প্লাটিনা ১১০-এর ডিজাইন অনেক বেশি সরল এবং ব্যবহারিক। লম্বা সিট এবং সাধারণ কমিউটার স্টাইলের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। ৭৯০ মিমির সিট হাইটের কারণে প্যাশন প্লাস খাটো উচ্চতার রাইডারদের কাছে বেশি আরামদায়ক হতে পারে। প্লাটিনা ১১০-এর ৮০৭ মিমি সিট হাইট তুলনামূলক লম্বা রাইডারদের জন্য সুবিধাজনক। তবে খারাপ রাস্তা বা স্পিড ব্রেকারের ক্ষেত্রে প্লাটিনা এগিয়ে। এর ২০০ মিমি গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স প্যাশন প্লাসের ১৬৮ মিমির তুলনায় অনেক বেশি। দুই বাইকেই ১১ লিটারের ফুয়েল ট্যাঙ্ক এবং চারটি করে রঙের বিকল্প রয়েছে।

রাইড ও হ্যান্ডলিং

বৈশিষ্ট্য হিরো প্যাশন প্লাস

বাজাজ প্লাটিনা ১১০

ফ্রেম টিউবুলার ডাবল ক্রেডল টিউবুলার সিঙ্গল ডাউন টিউব, স্প্লিট ক্রেডল
সামনের সাসপেনশন টেলিস্কোপিক ফর্ক টেলিস্কোপিক ফর্ক
পিছনের সাসপেনশন টুইন হাইড্রলিক শক অ্যাবজর্বার নাইট্রক্স ক্যানিস্টার-সহ টুইন শক অ্যাবজর্বার
চাকা ১৮ ইঞ্চি অ্যালয় ১৭ ইঞ্চি অ্যালয়
সামনের টায়ার ৮০/১০০-১৮ টিউবলেস ৮০/১০০-১৭ টিউবলেস
পিছনের টায়ার ৮০/১০০-১৮ টিউবলেস ৮০/১০০-১৭ টিউবলেস
সামনের ব্রেক ১৩০ মিমি ড্রাম ১৩০ মিমি ড্রাম
পিছনের ব্রেক ১৩০ মিমি ড্রাম, আইবিএস ১১০ মিমি ড্রাম, সিবিএস

প্যাশন প্লাসে ডাবল-ক্রেডল ফ্রেম ব্যবহার করা হয়েছে, যা ব্রেকিং এবং বেশি লোডের সময় স্থিতিশীলতা বাড়াতে সাহায্য করে। প্লাটিনা ১১০-এ রয়েছে সিঙ্গল ডাউন টিউব এবং স্প্লিট ক্রেডল ফ্রেম।

দুই বাইকেই সামনে টেলিস্কোপিক ফর্ক রয়েছে। তবে পিছনের সাসপেনশনে প্লাটিনা ১১০ কিছুটা এগিয়ে। এতে নাইট্রক্স ক্যানিস্টার-সহ গ্যাস-চার্জড রিয়ার শক অ্যাবজর্বার রয়েছে। ভাঙাচোরা রাস্তায় বেশি সাসপেনশন ট্রাভেল থাকার কারণে প্লাটিনা তুলনামূলক আরামদায়ক হতে পারে।

প্যাশন প্লাসে ১৮ ইঞ্চির বড় চাকা এবং তুলনামূলক ছোট হুইলবেস রয়েছে। প্লাটিনায় ১৭ ইঞ্চির চাকা এবং লম্বা হুইলবেস। ফলে শহরের ট্র্যাফিকে স্থিতিশীলতা এবং সহজে ঘোরানোর মধ্যে দুটো বাইকই নিজেদের মতো করে ভারসাম্য তৈরি করেছে।

দুই বাইকেই সামনে ও পিছনে ড্রাম ব্রেক রয়েছে। তবে প্যাশন প্লাসের পিছনের ১৩০ মিমি ড্রাম ব্রেক প্লাটিনার ১১০ মিমি ড্রামের তুলনায় বড়।

ফিচারে প্যাশন প্লাস এগিয়ে

ফিচার হিরো প্যাশন প্লাস বাজাজ প্লাটিনা ১১০
হেডল্যাম্প এলইডি প্রজেক্টর হ্যালোজেন
ডিআরএল এলইডি এলইডি
ইন্সট্রুমেন্ট ক্লাস্টার ডিজি-অ্যানালগ অ্যানালগ
ফুয়েল সেভিং আই৩এস নেই
ইউএসবি চার্জিং রয়েছে নেই
সাইড-স্ট্যান্ড সেফটি ইঞ্জিন কাট-অফ নেই
ব্রেকিং সেফটি আইবিএস সিবিএস
চাকা ও টায়ার অ্যালয়, টিউবলেস অ্যালয়, টিউবলেস
স্টার্ট কিক ও ইলেকট্রিক কিক ও ইলেকট্রিক

ফিচারের দিক থেকে হিরো প্যাশন প্লাস স্পষ্টভাবে এগিয়ে। এতে এলইডি প্রজেক্টর হেডল্যাম্প, ডিজি-অ্যানালগ ইন্সট্রুমেন্ট ক্লাস্টার এবং ইউএসবি চার্জিং পোর্ট রয়েছে।

এছাড়া রয়েছে আই৩এস প্রযুক্তি। শহরের রাস্তায় বাইক কয়েক সেকেন্ড অলস অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকলে এই সিস্টেম ইঞ্জিন বন্ধ করে জ্বালানি সাশ্রয়ে সাহায্য করে।

দুই বাইকেই ব্রেকিং নিরাপত্তার জন্য আইবিএস বা সিবিএস ব্যবস্থা রয়েছে। প্যাশন প্লাসের ডিস্ক ভ্যারিয়েন্টে সাইড-স্ট্যান্ড ইঞ্জিন কাট-অফের মতো অতিরিক্ত নিরাপত্তা ফিচারও পাওয়া যায়।

অন্যদিকে প্লাটিনা ১১০ আরামের দিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। লম্বা সিট এবং পিছনের তুলনামূলক চওড়া ফুটপেগ দৈনন্দিন ব্যবহারে সুবিধা দিতে পারে।

ইঞ্জিন ও পারফরম্যান্স

বৈশিষ্ট্য হিরো প্যাশন প্লাস বাজাজ প্লাটিনা ১১০
ইঞ্জিন সিঙ্গল-সিলিন্ডার, ৪-স্ট্রোক সিঙ্গল-সিলিন্ডার, ৪-স্ট্রোক, ডিটিএস-আই
কুলিং এয়ার-কুলড এয়ার-কুলড
ইঞ্জিন ক্ষমতা ৯৭.২ সিসি ১১৫.০৬ সিসি
ফুয়েল সিস্টেম ইলেকট্রনিক ফুয়েল ইনজেকশন ইলেকট্রনিক ফুয়েল ইনজেকশন
সর্বোচ্চ শক্তি ৮ পিএস @ ৮,০০০ আরপিএম ৯.৫ পিএস @ ৭,৫০০ আরপিএম
সর্বোচ্চ টর্ক ৮.০৫ এনএম @ ৬,০০০ আরপিএম ৯.৯ এনএম @ ৫,৫০০ আরপিএম
গিয়ারবক্স ৪-স্পিড ৪-স্পিড

পারফরম্যান্সের দিক থেকে বাজাজ প্লাটিনা ১১০-এর বড় ইঞ্জিন স্পষ্ট সুবিধা দেয়। ১১৫.০৬ সিসির ইঞ্জিন থেকে ৯.৫ পিএস শক্তি এবং ৯.৯ এনএম টর্ক পাওয়া যায়। প্যাশন প্লাসের ৯৭.২ সিসি ইঞ্জিন উৎপন্ন করে ৮ পিএস শক্তি এবং ৮.০৫ এনএম টর্ক।

শুধু পাওয়ার বেশি নয়, প্লাটিনার সর্বোচ্চ টর্কও কম আরপিএমে পাওয়া যায়। ফলে শহরের দৈনন্দিন ব্যবহারে প্লাটিনা ১১০ তুলনামূলক দ্রুত এবং শক্তিশালী মনে হতে পারে।

দুই বাইকেই মাল্টিপ্লেট ওয়েট ক্লাচ এবং ৪-স্পিড কনস্ট্যান্ট মেশ গিয়ারবক্স রয়েছে। তবে গিয়ার শিফটিং প্যাটার্নে পার্থক্য রয়েছে। হিরোতে অল-আপ শিফটিং প্যাটার্ন, আর বাজাজে অল-ডাউন শিফটিং প্যাটার্ন ব্যবহার করা হয়েছে। দুই মডেলই বিএস৬, ওবিডি-২বি এবং ই২০ জ্বালানি-সঙ্গতিপূর্ণ।

তাহলে কোন বাইক কিনবেন?

দুটি বাইকের মধ্যে বেছে নেওয়ার বিষয়টি মূলত আপনার অগ্রাধিকারের উপর নির্ভর করবে।

হিরো প্যাশন প্লাস বেছে নিন যদি:

  • আধুনিক ও স্পোর্টি ডিজাইন চান
  • বেশি ফিচার চান
  • এলইডি প্রজেক্টর হেডল্যাম্প প্রয়োজন
  • ইউএসবি চার্জিং দরকার
  • তুলনামূলক কম সিট হাইট চান
  • শহরের দৈনন্দিন ব্যবহারে সহজ রাইডিং চান

বাজাজ প্লাটিনা ১১০ বেছে নিন যদি:

  • কম দামে বাইক কিনতে চান
  • বেশি পাওয়ার ও টর্ক চান
  • খারাপ রাস্তায় বেশি গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স প্রয়োজন
  • উন্নত পিছনের সাসপেনশন চান
  • লম্বা সিট ও আরামকে বেশি গুরুত্ব দেন

হিরো প্যাশন প্লাস ড্রাম ভ্যারিয়েন্টের দাম বেশি হলেও ফিচার এবং প্রযুক্তির দিক থেকে এটি বেশি আধুনিক প্যাকেজ। অন্যদিকে বাজাজ প্লাটিনা ১১০ কম দামে বড় ইঞ্জিন, বেশি পাওয়ার-টর্ক, বেশি গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স এবং উন্নত পিছনের সাসপেনশন দিচ্ছে।

তাই ফিচার ও আধুনিকতার জন্য প্যাশন প্লাস, আর কম দা ম, বেশি পারফরম্যান্স এবং খারাপ রাস্তায় আরামের জন্য প্লাটিনা ১১০ বেশি যুক্তিযুক্ত পছন্দ হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *