EV গাড়ির রোড ট্যাক্সে দামের সীমা নয়, রাজ্যগুলিকে BMW CEO বার্তা
ইলেকট্রিক গাড়ি বা ইভির ক্ষেত্রে রোড ট্যাক্স এবং রেজিস্ট্রেশন ফি ছাড় দিতে গিয়ে গাড়ির দামের উপর সীমা বসানো উচিত নয় রাজ্য সরকারগুলির। এমনই মত বিএমডব্লিউ (BMW) গ্রুপ ইন্ডিয়ার প্রেসিডেন্ট ও সিইও হরদীপ সিং ব্রারের। তাঁর দাবি, দামের ভিত্তিতে সুবিধা সীমিত করা হলে বিলাসবহুল ইলেকট্রিক গাড়ির ক্রেতারা পাশের রাজ্যে গাড়ি রেজিস্ট্রেশন করাতে পারেন। এর ফলে দূষণপ্রবণ অঞ্চলে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়ানোর বৃহত্তর লক্ষ্যও ধাক্কা খেতে পারে।
দিল্লির নতুন ইভি নীতি গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে। সেই নীতিতে ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দামের ইলেকট্রিক গাড়ির ক্ষেত্রে রোড ট্যাক্স এবং রেজিস্ট্রেশন ফি-তে সম্পূর্ণ ছাড় দেওয়া হয়েছে। ৩০ লক্ষ টাকার বেশি দামের গাড়ি এই সম্পূর্ণ সুবিধার আওতায় নেই।
রোড ট্যাক্সে দামের সীমা নিয়ে আপত্তি
২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ভারতে বিএমডব্লিউর মোট বিক্রির ২৬ শতাংশ এসেছে ইলেকট্রিক গাড়ি থেকে। ব্রারের আশা, বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এই অংশ ৩০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। ২০২৭ সালে তা ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশে পৌঁছতে পারে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
২০২৬ সালের ৭ সিরিজ ফেসলিফট ভারতে ১.৯৫ কোটি টাকা প্রারম্ভিক দামে লঞ্চ করার পর আয়োজিত একটি মিডিয়া রাউন্ডটেবিলে ব্রার বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের ইভি নীতির সঙ্গে রাজ্য সরকারগুলির নীতির সামঞ্জস্য থাকা প্রয়োজন। তাঁর মতে, ইলেকট্রিক গাড়ির ক্ষেত্রে রোড ট্যাক্স ছাড় থাকলে সেখানে কোনও দামের সীমা থাকা উচিত নয়।
Advertisements
ব্রারের বক্তব্য, কেন্দ্র এবং রাজ্যের নীতিতে ভিন্নতা থাকলে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। একইসঙ্গে দেশে ইলেকট্রিক গাড়ির ব্যবহার বাড়ানোর বৃহত্তর লক্ষ্যও দুর্বল হতে পারে।
দিল্লির দূষণ নিয়েও প্রশ্ন
বিএমডব্লিউ ইন্ডিয়ার সিইওর মতে, কেন্দ্রীয় সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হল ইভির ব্যবহার বাড়িয়ে দেশের তেল আমদানির খরচ এবং দূষণ কমানো। সেই জায়গা থেকে দিল্লির মতো অত্যন্ত দূষণপ্রবণ অঞ্চলে ইলেকট্রিক গাড়িকে উৎসাহ দেওয়ার নীতি আরও গুরুত্বপূর্ণ।
কিন্তু দামের ভিত্তিতে করছাড় সীমিত করা হলে উল্টো ফল হতে পারে বলে মনে করেন ব্রার। তাঁর বক্তব্য, দিল্লির বিলাসবহুল গাড়ির ক্রেতাদের অনেকেরই গাড়ি প্রতিবেশী হরিয়ানা বা উত্তরপ্রদেশে রেজিস্ট্রেশন করানোর সুযোগ রয়েছে। সেখানে করের বোঝা তুলনামূলক কম হলে ক্রেতারা সেই পথ বেছে নিতে পারেন।
অন্য একটি সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। কোনও ক্রেতা দিল্লিতে ইলেকট্রিক গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে কর সুবিধা না পেলে হয়তো ইভির বদলে পেট্রল বা ডিজেল গাড়ি কিনতে পারেন। বড় ইঞ্জিনের এমন গাড়ি তুলনামূলক বেশি দূষণ তৈরি করতে পারে। ফলে পরিবেশগত দিক থেকেও দামের সীমা কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে তাঁর মত।
দিল্লি-এনসিআর বড় বিলাসবহুল গাড়ির বাজার
ব্রারের বক্তব্য অনুযায়ী, এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ কারণ দিল্লি-এনসিআর ভারতের অন্যতম বড় বিলাসবহুল গাড়ির বাজার। জাতীয় রাজধানীতে মোট গাড়ি বিক্রির প্রায় ৩ থেকে ৫ শতাংশ বিলাসবহুল গাড়ি। ফলে ইলেকট্রিক বিলাসবহুল গাড়ির ক্ষেত্রে কর সুবিধা সীমিত করা হলে তার প্রভাব শুধু একটি নির্দিষ্ট গাড়ি সংস্থার বিক্রিতে নয়, গোটা বাজারের ইভি গ্রহণের গতিতেও পড়তে পারে।
বিশ্বের মধ্যে দ্রুত বাড়ছে ভারতের গুরুত্ব
বিএমডব্লিউর কাছে ভারত এখন বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল বাজার। ব্রারের দাবি, চলতি বছরে ভারত বিএমডব্লিউর বিশ্বব্যাপী শীর্ষ ২০টি বাজারের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে। গত বছর পর্যন্ত ভারত শীর্ষ ২০-এর বাইরে ছিল। এখন সংস্থার লক্ষ্য ভারতকে বিশ্বের শীর্ষ ১৫টি বাজারের মধ্যে নিয়ে আসা। এর থেকেই ভারতীয় বাজারে বিএমডব্লিউর গুরুত্ব কতটা বাড়ছে, তার ইঙ্গিত মিলছে।
শুধু বড় শহর নয়, দেশের দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারির শহরগুলিতেও বিলাসবহুল গাড়ির বাজার বাড়ছে। বিএমডব্লিউর মোট বিক্রির প্রায় ৭০ শতাংশ আসে শীর্ষ ১০টি বাজার থেকে। ইভি বিক্রির ক্ষেত্রেও শীর্ষ ১০টি বাজারের অবদান প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ।
তবে পাঁচ বছর আগে মোট বিক্রির প্রায় ৮০ শতাংশই শীর্ষ ১০ বাজার থেকে আসত। অর্থাৎ সময়ের সঙ্গে দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারির শহরগুলির গুরুত্ব বাড়ছে।
ডিজেল গাড়িতে চাপ বাড়লেও বিক্রি চলবে
বিএমডব্লিউর ইলেকট্রিক গাড়ির বিক্রি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পেট্রল ও ডিজেল গাড়ির অংশ ধীরে ধীরে কমছে। সরকারের পরিচ্ছন্ন জ্বালানির দিকে শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টার মধ্যে ব্রারের ধারণা, অভ্যন্তরীণ দহন ইঞ্জিনের গাড়িগুলির মধ্যে ডিজেল মডেলগুলিই সবচেয়ে আগে বিক্রির চাপের মুখে পড়তে পারে। তবে ক্রেতাদের চাহিদা যতদিন থাকবে, বিএমডব্লিউ ততদিন ডিজেল মডেল বিক্রি চালিয়ে যাবে বলেও তিনি স্পষ্ট করেছেন।
চলতি বছরে তিনবার গাড়ির দাম বাড়িয়েছে বিএমডব্লিউ
পণ্য ও কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেছেন ব্রার। তাঁর দাবি, ২০২৬ সালে ইতিমধ্যেই তিনবার গাড়ির দাম বাড়িয়েছে বিএমডব্লিউ ইন্ডিয়া। সব মিলিয়ে দাম বেড়েছে প্রায় ৪ থেকে ৫ শতাংশ। মুদ্রার বিনিময় হার এবং কাঁচামালের খরচ বৃদ্ধির চাপের কারণে আগামী মাসেই ফের গাড়ির দাম বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে সংস্থা।
ফলে একদিকে ইভি বিক্রি বাড়ানো এবং করছাড়ের মতো নীতিগত সুবিধা নিয়ে আলোচনা চলছে, অন্যদিকে কাঁচামাল ও মুদ্রার চাপের কারণে গাড়ির দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। ভারতীয় বিলাসবহুল গাড়ির বাজারে আগামী দিনে এই দুই প্রবণতাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
আরও পড়ুন: ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি নিয়ে ভারতে Realme P4S 5G, দাম ৩৪,৯৯৯
আরও পড়ুন: মেড ইন ইন্ডিয়ায় ফের ইতিহাস! দেশের সফল মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার হচ্ছে দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর চিপ
আরও পড়ুন: DRDO র বড় সিদ্ধান্ত! এবার দেশেই তৈরী হতে চলেছে টর্পেডো সাবমেরিন