৯৮ বছর বয়সে Tesla Model Y কিনলেন ল্যারি, Mustang-কে দিলেন চ্যালেঞ্জ - 24 Ghanta Bangla News
Home

৯৮ বছর বয়সে Tesla Model Y কিনলেন ল্যারি, Mustang-কে দিলেন চ্যালেঞ্জ

Spread the love

৯৮ বছর বয়সেও গাড়ির প্রতি তাঁর ভালোবাসায় এতটুকু ভাটা পড়েনি। নিউ মেক্সিকোর ফার্মিংটনের বাসিন্দা ল্যারি নতুন করে কিনেছেন টেসলা মডেল ওয়াই (Tesla Model Y)। শুধু…

৯৮ বছর বয়সেও গাড়ির প্রতি তাঁর ভালোবাসায় এতটুকু ভাটা পড়েনি। নিউ মেক্সিকোর ফার্মিংটনের বাসিন্দা ল্যারি নতুন করে কিনেছেন টেসলা মডেল ওয়াই (Tesla Model Y)। শুধু তাই নয়, গাড়িটির সঙ্গে নিয়েছেন টেসলার ‘ফুল সেল্ফ-ড্রাইভিং’ বা এফএসডি, যা চালককে গাড়ি চালানোর সময় বিভিন্ন কাজে সহায়তা করে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে নিজের নতুন গাড়ি নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন এই ৯৮ বছর বয়সি গাড়িপ্রেমী। ল্যারি নিজেকে আজীবন গাড়িপ্রেমী হিসেবে পরিচয় দেন। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, জীবনে কতগুলি গাড়ি তিনি কিনেছেন। তাঁর উত্তর, “একশো বা তারও বেশি। গড় মানুষের তুলনায় আমার বেশি গাড়ি ছিল।”

প্রথম গাড়ি ছিল ১৯৩১ সালের ফোর্ড মডেল এ

ল্যারির গাড়ির প্রতি ভালোবাসা অবশ্য নতুন নয়। তাঁর প্রথম গাড়ি ছিল ১৯৩১ সালের ফোর্ড মডেল এ। পুরনো সেই গাড়িটিকে তিনি খুব একটা ভালো বলছেন না। তাঁর ভাষায়, সেটি ছিল ‘জঞ্জালের মতো’, তবে স্কুলে পড়ার সময় প্রয়োজনের জায়গায় পৌঁছে দিতে গাড়িটি যথেষ্ট কার্যকর ছিল।

দীর্ঘ জীবনে একের পর এক গাড়ি বদলেছেন তিনি। পাঁচটি ফোর্ড মুস্তাংও তাঁর মালিকানায় ছিল। গত প্রায় ১০ বছর ধরে তিনি চালাচ্ছিলেন ভি৮ ইঞ্জিনের বিএমডব্লিউ ৭৫০। এবার অবশ্য তাঁর গ্যারাজে জায়গা করে নিয়েছে সম্পূর্ণ অন্য ধরনের গাড়ি, রুপালি রঙের টেসলা মডেল ওয়াই।

98-year-old-larry-buys-tesla-model-y-fsd-mustang-challenge

Advertisements


   


   

এফএসডি-র জন্যই টেসলা কেনা

অ্যারিজোনা থেকে টেসলা মডেল ওয়াই কিনে আলবুকার্কে ডেলিভারি নেন ল্যারি। তাঁর গাড়িতে রয়েছে রুপালি রঙ, ১৯ ইঞ্চির ক্রসফ্লো চাকা এবং অল-সিজন টায়ার। এর পাশাপাশি তিনি মাসিক সাবস্ক্রিপশনের মাধ্যমে টেসলার এফএসডি বা ‘ফুল সেল্ফ-ড্রাইভিং’ সুপারভাইজড ড্রাইভার-অ্যাসিস্ট্যান্স ব্যবস্থা ব্যবহার করছেন।

ল্যারি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, গাড়িটি কেনার অন্যতম প্রধান কারণ হল এর ড্রাইভিং সহায়তা ব্যবস্থা। আট দশকেরও বেশি সময় ধরে গাড়ি চালানোর পর এবার তিনি মনে করেন, গাড়িকে কিছুটা বেশি দায়িত্ব দেওয়ার সময় এসেছে।

বিশেষ করে রাস্তার মোড় বা ইন্টারসেকশনে গাড়ি চালানোর সময় তাঁর কিছুটা অসুবিধা হয়। সামনে অন্য গাড়ি অপেক্ষা করছে, পিছনে যানবাহনের লাইন তৈরি হচ্ছে, এমন পরিস্থিতিতে ফাঁকা জায়গা যাচাই করতে বেশি সময় দিতে তিনি আর আগ্রহী নন। দীর্ঘ রাস্তাতেও এফএসডি চালু থাকলে তাঁর বেশি স্বস্তি হয় বলে জানিয়েছেন তিনি।

তবে প্রযুক্তির উপর পুরোপুরি নির্ভর করেন না ল্যারি। এফএসডি সক্রিয় থাকলেও তিনি সবসময় রাস্তার দিকে নজর রাখেন। ঘুমিয়ে পড়া বা রাস্তা থেকে চোখ সরিয়ে নেওয়ার প্রশ্নই নেই। প্রয়োজন মনে হলে নিজেই গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নেন কিংবা নিজের পছন্দের রুট বেছে নেন।

ল্যারির দাবি, এখনও পর্যন্ত প্রযুক্তিটি নিয়ে তাঁর কোনও সমস্যা হয়নি। এমনকি একবার রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি কাঠবিড়ালির সামনে পড়ায় সময়মতো ব্রেক করে সেটির জীবনও বাঁচিয়েছে তাঁর টেসলা।

চার্জিং নিয়ে ভয় ছিল, এখন আর সমস্যা মনে হয় না

টেসলা কেনার আগে ল্যারির অন্যতম চিন্তা ছিল চার্জিং। দীর্ঘ রাস্তায় বারবার গাড়ি থামিয়ে চার্জ করতে হবে, এই বিষয়টি তাঁকে ভাবিয়েছিল। কিন্তু এখন তাঁর অভিজ্ঞতা অনেকটাই বদলে গিয়েছে। দ্রুত চার্জারে প্রায় ২৫ মিনিট সময় কাটানো তাঁর কাছে আর বড় বিষয় নয়। বাড়িতে থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী চার্জ করেন। আদর্শ পরিস্থিতিতে তাঁর মডেল ওয়াই একবার চার্জে প্রায় ৩০৩ মাইল বা ৪৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত যেতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। ইতিমধ্যেই গাড়িটি নিয়ে প্রায় ৪০০ মাইল বা ৬৪৩ কিলোমিটারের সপ্তাহান্তের সফরে কলোরাডোও ঘুরে এসেছেন।

গাড়ি পছন্দ হয়েছে স্ত্রীরও

মডেল ওয়াইয়ের উঁচু বসার অবস্থান, সহজে ওঠানামা করা, দ্রুত গতি তোলা এবং প্রশস্ত কেবিন ল্যারির বিশেষ পছন্দ হয়েছে। তবে শুধু তিনিই নন, গাড়িটি তাঁর স্ত্রীকেও মুগ্ধ করেছে।ল্যারির সঙ্গে টেসলায় যাত্রা করার পর তাঁর স্ত্রীও নিজের জন্য একটি টেসলা অর্ডার করেছেন। অবশ্য অন্য রঙে। ফলে এখন তাঁদের পরিবারের গ্যারাজে রয়েছে দু’টি টেসলা মডেল ওয়াই।

মুস্তাং দেখেই মজার মন্তব্য

ল্যারির গাড়িপ্রেমের সবচেয়ে মজার মুহূর্তটি অবশ্য এসেছিল একটি ড্রাইভের সময়। দ্য ফাস্ট লেন ভিডিও-র আন্দ্রে স্মিরনভের সঙ্গে গাড়িতে যাওয়ার সময় ল্যারি একটি ফোর্ড মুস্তাং দেখতে পান। গাড়িটি যেন পাল্লা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত বলেই মনে হচ্ছিল। মুস্তাংয়ের দিকে তাকিয়ে ৯৮ বছর বয়সি ল্যারির মন্তব্য, “ওর আমার সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার কোনও সুযোগ নেই।” টেসলা মডেল ওয়াইয়ের দ্রুত অ্যাক্সিলারেশনকে মাথায় রেখেই তাঁর এই আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য। আট দশকের গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতার পর নতুন প্রযুক্তির গাড়ি নিয়েও যে তাঁর উৎসাহ এখনও তরুণদের মতোই, ল্যারির গল্প তারই মজার উদাহরণ।

আরও পড়ুন: ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি নিয়ে ভারতে Realme P4S 5G, দাম ৩৪,৯৯৯

আরও পড়ুন: মেড ইন ইন্ডিয়ায় ফের ইতিহাস! দেশের সফল মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার হচ্ছে দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর চিপ

আরও পড়ুন: DRDO র বড় সিদ্ধান্ত! এবার দেশেই তৈরী হতে চলেছে টর্পেডো সাবমেরিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *