ব্রিকস মঞ্চে ভারতের সামনে কঠিনতম কূটনৈতিক সমীকরণ - 24 Ghanta Bangla News
Home

ব্রিকস মঞ্চে ভারতের সামনে কঠিনতম কূটনৈতিক সমীকরণ

Spread the love

নয়াদিল্লি: ২০২৩ সালের ঐতিহাসিক জি-২০ সম্মেলনের সফল সমাপ্তির পর এবার আরও এক জটিল এবং কঠিন কূটনৈতিক পরীক্ষার মুখে পড়তে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই সপ্তাহান্তে…

নয়াদিল্লি: ২০২৩ সালের ঐতিহাসিক জি-২০ সম্মেলনের সফল সমাপ্তির পর এবার আরও এক জটিল এবং কঠিন কূটনৈতিক পরীক্ষার মুখে পড়তে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই সপ্তাহান্তে ভারত মণ্ডপমে বসতে চলেছে ১১টি দেশের ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলন। যেখানে একদিকে যেমন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং (সাত বছর পর ভারতে আগমন) ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের উপস্থিতি রয়েছে, তেমনই উপস্থিত রয়েছে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলিও। আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশেষজ্ঞদের মতে, জি-২০-র ঐকমত্যের ফর্মুলা সফল করার চেয়েও এবারের ব্রিকস সভাপতিত্ব ভারতের জন্য অনেক বেশি কঠিন ও সুক্ষ্ম ভারসাম্যের খেলা হতে চলেছে।

এবারের শীর্ষ সম্মেলনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল পরস্পরবিরোধী দেশগুলিকে একই টেবিলে আনা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জর্জরিত ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং সৌদি আরব, এই তিন দেশই বর্তমানে এক রক্তক্ষয়ী সংঘাতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের প্রতিশোধমূলক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হানার মুখে পড়েছে আরব দুনিয়া। অন্যদিকে, তুরস্ক ও পাকিস্তানকে সঙ্গে নিয়ে মাক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে ভূ-রাজনৈতিক মেরুকরণে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে সৌদি আরব। এমন পরিস্থিতিতে ব্রিকস মঞ্চে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ক্রাউন প্রিন্স এবং সৌদি মন্ত্রীদের মুখোমুখি বসানো এবং তাদের মধ্যে ঐকমত্য তৈরি করা দিল্লির জন্য একপ্রকার সুচ দিয়ে সুতো গলানোর সমান।

পাশাপাশি, হোয়াইট হাউসের মেজাজি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছায়াও কাজ করবে এই সম্মেলনে। অতীতে ব্রিকস দেশগুলির ডলার বিরোধী অবস্থান বা বিকল্প মুদ্রার ধারণার কড়া সমালোচনা করে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কের হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এই প্রেক্ষাপটে ভারত বারবার পরিষ্কার করে দিয়েছে যে, ব্রিকস কোনো মার্কিন-বিরোধী বা পশ্চিমী-বিরোধী মঞ্চ নয়, বরং এটি গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল বিশ্বের কণ্ঠস্বর। তবে গত মাসে এসসিও (SCO) সম্মেলনে বিশকেক ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করে তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি ও ইরানের ওপর হামলার বিরুদ্ধে ভারতের অবস্থান কিছুটা বদলানোয়, এবারের ব্রিকসে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা আরও জরুরি হয়ে পড়েছে।

রাশিয়া ও চিন যখন আমেরিকার আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানাতে ব্রিকসকে ব্যবহার করতে চাইছে, তখন ভারতের সামনে মূল লক্ষ্য হলো, আমেরিকা ও পশ্চিমী দেশগুলির সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক অক্ষুণ্ণ রেখে মস্কো ও বেজিংয়ের সঙ্গেও সুসম্পর্ক বজায় রাখা। প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত ও কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ভারত অতীতেও বহুমুখী কূটনীতির মাধ্যমে বহু জটিল সংকট সফলভাবে পার করেছে। এদিনের এই মেগা সামিট থেকে কোনো যৌথ ঘোষণাপত্র বা ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয় কি না, এখন সেটাই দেখার।

Advertisements


   


   

বাংলার শিল্পে নয়া দিগন্ত! পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগে আগ্রহী জাপানি মিতসুবিশি

ভারত ছাড়িয়ে এবার বিশ্বমঞ্চে হিন্দি! রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মিডিয়া চালু করল হিন্দি ডিজিটাল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *