Jalpaiguri: বন্দুক থেকে বাংলাদেশের সিম কী নেই! বৃহন্নলা কুঠি থেকে ফোন যেত পাকিস্তানেও? | Arms, bangladeshi sim card, birth certificate recovered from Transgender’s house in Jalpaiguri
জলপাইগুড়ি: বৃহন্নলা কুঠিতে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার আগ্নেয়াস্ত্র। বিএসএফ ও পুলিশের যৌথ অভিযানে গ্রেফতার হয়েছেন গুরুমা পিপাসা হিজরা। দুটি আগ্নেয়াস্ত্র, তিন রাউন্ড গুলি, দুটি ম্যাগাজিন ও দুটি বাংলাদেশের সিম কার্ড পাওয়া গিয়েছে সেখান থেকে। বাংলাদেশের বার্থ সার্টিফিকেটও উদ্ধার করা হয়েছে। জলপাইগুড়িতে বসে বাংলাদেশি সিম ব্যবহার করে নিয়মিত বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানে ফোন করা হত বলে খবর। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পিপাসা হিজরা।
বৃহস্পতিবার ভোর থেকে জলপাইগুড়ি শহরের উত্তর রায়কত পাড়ায় বৃহন্নলা কুঠিতে যৌথ অভিযান শুরু হয়। বাড়ি সহ আশপাশের এলাকা ঘিরে ফেলে বিএসএফ। সঙ্গে পুলিশ। প্রায় ৯ ঘন্টা ধরে অভিযান চলে।
জানা গিয়েছে, এক দশক আগে উত্তর রায়কত পাড়া এলাকায় এসে বসবাস শুরু করেন বৃহন্নলরা। প্রথমে ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। এরপর প্রাসাদোপম অট্টালিকা তৈরি হয় বলে জানা যায়। এত অল্প সময়ে এত প্রতিপত্তির উৎস কী? এই নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে প্রশ্ন তৈরি হলেও কার্যত এদের এড়িয়েই চলতেন তাঁরা।
জানা গিয়েছে, যে বাড়িতে ভাড়ায় থাকতেন, সেই বাড়ি কিনে নেওয়ার পাশাপাশি গত কয়েক বছরে আশপাশের একাধিক জমির মালিক হয়ে গিয়েছেন এই বৃহন্নলারা। গড়ে তুলেছেন প্রাসাদোপম অট্টালিকা।
অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বাড়ির আনাচে কানাচে তল্লাশি চালায় পুলিশ। আবাসনে থাকা বৃহন্নলা পরিবারের একে একে সকলকে জিজ্ঞাসাবাদ ও হাতের ছাপ সংগ্রহ করে। পুলিশ জানিয়েছে, তল্লাশি অভিযানে দুটো আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে। পাওয়া গিয়েছে, দুটি বাংলাদেশের সিমকার্ড, বাংলাদেশের বার্থ সার্টিফিকেট। বাংলাদেশি সিমকার্ড থেকে নিয়মিত বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানে ফোন করা হত বলেও পুলিশ সূত্রে খবর।
পুলিশ ও বিএসএফ সূত্রে খবর, সম্প্রতি মনসা পুজোর আগে ও পরে প্রায় ৩৫ জন বাংলাদেশি বৃহন্নলাদের এই বাড়িতে আসে। কী কারণে কী উদ্দেশে তারা এসেছিল, তারা কোথায় গেল, তদন্ত করে জানার চেষ্টা চলছে।
সম্প্রতি পিপাসা হিজরা পাকিস্থানে গিয়েছিল বলে খবর। সেই তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।পুলিশের দাবি স্থানীয় বৃহন্নলাদের সঙ্গে বিদেশি যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পিপাসা হিজরাকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তদন্তে উঠে আসা একাধিক দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই সবটা বলতে নারাজ তদন্তকারীরা।