Classic Legends-এর ঘুরে দাঁড়ানোর পর বড় পরিকল্পনা, বাড়ছে উৎপাদন ও শোরুম - 24 Ghanta Bangla News
Home

Classic Legends-এর ঘুরে দাঁড়ানোর পর বড় পরিকল্পনা, বাড়ছে উৎপাদন ও শোরুম

Spread the love

কলকাতা: জাওয়া, ইয়েজদি এবং বিএসএ-এর মতো ঐতিহ্যবাহী মোটরসাইকেল ব্র্যান্ডকে ঘিরে ভারতে ফের ব্যবসা শক্তিশালী করার পর এবার পরবর্তী পর্যায়ের দিকে এগোচ্ছে ক্লাসিক লেজেন্ডস (Classic Legends)।…

কলকাতা: জাওয়া, ইয়েজদি এবং বিএসএ-এর মতো ঐতিহ্যবাহী মোটরসাইকেল ব্র্যান্ডকে ঘিরে ভারতে ফের ব্যবসা শক্তিশালী করার পর এবার পরবর্তী পর্যায়ের দিকে এগোচ্ছে ক্লাসিক লেজেন্ডস (Classic Legends)। মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা-সমর্থিত এই সংস্থা জানিয়েছে, ব্যবসার ঘুরে দাঁড়ানোর পর্যায় পেরিয়ে এখন মূল লক্ষ্য উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো, ডিলার নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে আরও বেশি জায়গা তৈরি করা।

সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা অনুপম থারেজা জানিয়েছেন, বর্তমানে ক্লাসিক লেজেন্ডস যতটা উৎপাদন করতে পারছে, প্রায় ততটাই বিক্রি হচ্ছে। ফলে চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন বাড়ানোই এখন সংস্থার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

নতুন পণ্য, নতুন বাজার এবং নতুন দামের পরিসর

ক্লাসিক লেজেন্ডসের সাম্প্রতিক বৃদ্ধির পিছনে তিনটি বিষয়কে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন থারেজা। এগুলি হল নতুন পণ্য, নতুন বাজার এবং নতুন দামের পরিসর। আগে সংস্থার মোটরসাইকেল মূলত ১.৮৫ লক্ষ টাকা থেকে ২.০৫ লক্ষ টাকা দামের সীমার মধ্যে প্রতিযোগিতা করত। বর্তমানে সেই পরিসর অনেকটাই বেড়ে ১.৭০ লক্ষ টাকা থেকে ৩.২০ লক্ষ টাকা হয়েছে। জাওয়া, ইয়েজদি এবং বিএসএ, এই তিন ব্র্যান্ডের অধীনে এখন রোডস্টার, ববার, ক্লাসিক মোটরসাইকেল, স্ক্র্যাম্বলার এবং অ্যাডভেঞ্চার মোটরসাইকেল রয়েছে। থারেজার মতে, এখনও রোডস্টারই সংস্থার সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া মোটরসাইকেল। অন্যদিকে অ্যাডভেঞ্চার মডেলগুলি তুলনামূলকভাবে নির্দিষ্ট একটি ক্রেতা গোষ্ঠীর মধ্যে নিজেদের জায়গা তৈরি করছে।

Read More: ১৯.৪৯ লক্ষ টাকায় MG Hector Tomahawk EV, বাড়িতেও বিদ্যুৎ দেবে এই SUV

Advertisements


   


   

বিক্রি বেড়েছে ৮৭ শতাংশ

ক্লাসিক লেজেন্ডসের বিক্রির পরিসংখ্যানেও সাম্প্রতিক বৃদ্ধির স্পষ্ট ছবি পাওয়া যাচ্ছে। এফএডিএ-র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত পাঁচ মাসে সংস্থাটি ২২,২৭৯টি মোটরসাইকেল খুচরো বিক্রি করেছে। ২০২৫ সালের একই সময়ে বিক্রি হয়েছিল ১১,৮৮৭টি মোটরসাইকেল। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বিক্রি বেড়েছে প্রায় ৮৭ শতাংশ। চাহিদার এই বৃদ্ধি এখন সংস্থার উৎপাদন ক্ষমতার উপর সরাসরি চাপ তৈরি করছে।

মধ্যপ্রদেশের কারখানা পূর্ণ ক্ষমতার দিকে

এপ্রিল মাসেই ক্লাসিক লেজেন্ডস জানিয়েছিল, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে তাদের উৎপাদন ১ লক্ষ ইউনিটের গণ্ডি পেরোতে পারে। মধ্যপ্রদেশের পিথমপুর কারখানাও ধীরে ধীরে পূর্ণ উৎপাদন ক্ষমতার কাছাকাছি পৌঁছচ্ছে। তবে শুধু সংস্থার নিজস্ব কারখানার ক্ষমতাই নয়, সরবরাহকারীদের উৎপাদন ক্ষমতাও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যন্ত্রাংশ সরবরাহের সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে উৎপাদন ক্ষমতা আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে ক্লাসিক লেজেন্ডস।

Read More: নতুন Renault Duster: ভারত না দক্ষিণ আফ্রিকা, কোন দেশের গাড়িতে বেশি সুবিধা?

রপ্তানিতে ঐতিহ্যবাহী ব্র্যান্ডের সুবিধা

দেশের বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারকেও ভবিষ্যৎ বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে দেখছে সংস্থা। থারেজার মতে, জাওয়া এবং বিএসএ-এর মতো ঐতিহ্যবাহী ব্র্যান্ড অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত এখন আন্তর্জাতিক বাজারে সঠিক বলে প্রমাণিত হচ্ছে। বিশেষ করে যে দেশগুলিতে এই ব্র্যান্ডগুলির ঐতিহাসিক পরিচিতি রয়েছে, সেখানে জাওয়া এবং বিএসএ ভালো সাড়া পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। ফলে শুধু ভারতের বিক্রির উপর নির্ভর না করে রপ্তানির মাধ্যমে ব্যবসার পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে ক্লাসিক লেজেন্ডস।

৪১০টি টাচ-পয়েন্ট, আরও বাড়ছে নেটওয়ার্ক

উৎপাদনের পাশাপাশি দেশের বাজারে ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্কও বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে ক্লাসিক লেজেন্ডসের প্রায় ৪১০টি টাচ-পয়েন্ট রয়েছে। তবে সংস্থা শুধুমাত্র ডিলারশিপের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করতে চাইছে না। থারেজার জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট বাজারে গ্রাহকের চাহিদা এবং প্রয়োজনের ভিত্তিতে পরিকল্পিতভাবে নতুন আউটলেট যোগ করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, গ্রাহকরা মোটরসাইকেল কেনার সময় শুধুমাত্র ডিলারশিপের সংখ্যা দেখেন না। সার্ভিস সুবিধা এবং ব্যবহারের অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে সংস্থার দাবি, তাদের গ্রাহকরা যে বাজারগুলিতে রয়েছেন, তার প্রায় ৮৬ শতাংশ এলাকায় ক্লাসিক লেজেন্ডসের উপস্থিতি রয়েছে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ ট্যুরিং গন্তব্যগুলিতেও সার্ভিস সাপোর্টের ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থা।

Read More: নতুন Bajaj ডুয়াল-স্পোর্ট বাইক ফের স্পাই, সামনে ১৯ ইঞ্চি চাকা

এবার লক্ষ্য লাভজনকভাবে আরও বড় হওয়া

কয়েক বছর আগে জাওয়া ও ইয়েজদি পুনরুজ্জীবনের পর পণ্যের মান, বিক্রয়-পরবর্তী পরিষেবা, অসম ডিস্ট্রিবিউশন এবং কোভিড-১৯ মহামারির মতো একাধিক সমস্যার মুখে পড়েছিল ক্লাসিক লেজেন্ডস। সেই সময় ব্যবসাকে ফের স্থিতিশীল করাই ছিল সংস্থার প্রধান চ্যালেঞ্জ। বর্তমান পরিস্থিতি অবশ্য অনেকটাই আলাদা। বিক্রি দ্রুত বাড়ছে, নতুন মডেলের সংখ্যা বেড়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারেও ঐতিহ্যবাহী ব্র্যান্ডগুলির সুবিধা কাজে লাগানোর চেষ্টা চলছে।

ফলে ক্লাসিক লেজেন্ডসের পরবর্তী লড়াই আর শুধু ঘুরে দাঁড়ানোর নয়। এখন উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো, আরও গভীর ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক তৈরি করা, রপ্তানি বাড়ানো এবং লাভজনকতা উন্নত করার মাধ্যমে বড় প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে আরও শক্তভাবে প্রতিযোগিতা করাই সংস্থার মূল লক্ষ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *