শেফালির ঝড়ে ৬৪, দীপ্তির ঘূর্ণিতে ৩ উইকেট; বাংলাদেশকে হারিয়ে ফাইনালে ভারত - 24 Ghanta Bangla News
Home

শেফালির ঝড়ে ৬৪, দীপ্তির ঘূর্ণিতে ৩ উইকেট; বাংলাদেশকে হারিয়ে ফাইনালে ভারত

Spread the love

দুবাইয়ের মন্থর পিচে ব্যাটে-বলে দাপট দেখিয়ে বাংলাদেশকে ৪০ রানে হারিয়ে মহিলা এশিয়া কাপ ২০২৬-এর (Womens Asia Cup) ফাইনালে উঠে গেল ভারত। বৃহস্পতিবার দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট…

দুবাইয়ের মন্থর পিচে ব্যাটে-বলে দাপট দেখিয়ে বাংলাদেশকে ৪০ রানে হারিয়ে মহিলা এশিয়া কাপ ২০২৬-এর (Womens Asia Cup) ফাইনালে উঠে গেল ভারত। বৃহস্পতিবার দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে ভারত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৪৯ রান তোলে। জবাবে বাংলাদেশের ইনিংস থেমে যায় ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১০৯ রানে।

এই জয়ের ফলে টুর্নামেন্টে ভারতের অপরাজিত অভিযান অব্যাহত রইল। একইসঙ্গে মহিলা এশিয়া কাপের টানা দশম ফাইনালে জায়গা করে নিল হরমনপ্রীত কৌরের দল। ফাইনালে ভারতের প্রতিপক্ষ হবে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের দ্বিতীয় সেমিফাইনালের জয়ী দল। শিরোপার লড়াই হবে ১৩ সেপ্টেম্বর।

ব্যাট হাতে ঝড় শেফালির

টস জিতে ভারতকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিল বাংলাদেশ। শুরুতেই স্মৃতি মন্ধানা মাত্র ২ রানে ফিরে গেলেও ভারতকে চাপে পড়তে দেননি শেফালি বর্মা। ওপেনার শেফালি ৪০ বলে ৬৪ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল ৭টি চার এবং ৩টি ছক্কা। বাংলাদেশের ফিল্ডাররা তাঁকে একাধিকবার জীবন দিলেও সেই সুযোগের পুরো সদ্ব্যবহার করেন শেফালি। তাঁর আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের উপর ভর করেই মন্থর উইকেটে ভারত লড়াই করার মতো স্কোরে পৌঁছয়। শেফালির এই ইনিংসের আগে চলতি এশিয়া কাপে তাঁর ব্যাট থেকে তিন ম্যাচে ১০৪ রান এসেছিল। সেমিফাইনালেও বড় মঞ্চে নিজের ফর্ম ধরে রাখলেন তিনি।

হরমনপ্রীত ও রিচার অবদান

শেফালি একপ্রান্ত ধরে রাখলেও ভারতের ইনিংসে অন্য ব্যাটাররা খুব বেশি স্বচ্ছন্দ ছিলেন না। অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর ২৮ বলে ২৪ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল ২টি ছক্কা। এরপর রিচা ঘোষ গুরুত্বপূর্ণ ২১ রান করেন ১৬ বলে। শেষদিকে দীপ্তি শর্মা মাত্র ৬ বলে ১৩ রান করে ভারতের স্কোরকে ১৫০-এর কাছাকাছি নিয়ে যান।

Advertisements


   


   

শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৪৯ রান করে ভারত। দুবাইয়ের মন্থর উইকেটে এই রান যে সহজ হবে না, তা বাংলাদেশের রান তাড়া করার সময়ই স্পষ্ট হয়ে যায়। ম্যাচের আগে এই উইকেটে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি স্পিনারদের জন্য সহায়তা থাকার কথা উঠে এসেছিল।

দীপ্তির ঘূর্ণিতে বিপাকে বাংলাদেশ

১৫০ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই প্রয়োজনীয় গতি ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। ভারতের বোলাররা নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশের উপর চাপ বাড়াতে থাকেন। সবচেয়ে বড় ধাক্কা দেন দীপ্তি শর্মা। ৪ ওভারে মাত্র ২৬ রান দিয়ে ৩টি উইকেট নেন তিনি। বাংলাদেশের ব্যাটিং অর্ডারকে বড় জুটি গড়তে না দেওয়াই ছিল ভারতের সাফল্যের অন্যতম কারণ।

লড়াই করেছিলেন দিলারা ও শর্ণা

বাংলাদেশের হয়ে দিলারা আক্তার ২৬ বলে ২১ রান করেন। শর্ণা আক্তার ১৮ বলে দ্রুত ২২ রান করে কিছুটা আশা জাগিয়েছিলেন। কিন্তু ভারতের ধারাবাহিক বোলিংয়ের সামনে সেই প্রতিরোধ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। প্রয়োজনীয় রানরেট ক্রমশ বাড়তে থাকায় বাংলাদেশের ব্যাটারদের উপর চাপও বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১০৯ রানেই থেমে যায় বাংলাদেশ। ভারতের জয় আসে ৪০ রানে।

শেষ উইকেটও এল নাটকীয়ভাবে

বাংলাদেশের ইনিংস শেষ হয় কিছুটা অদ্ভুতভাবে। নন্দিনী শর্মার বলকে স্লগ করতে গিয়ে রাবিয়া খান নিজের ব্যাট দিয়ে স্টাম্পে আঘাত করে ফেলেন। ফলে তিনি হিট-উইকেট হয়ে ফিরে যান। নন্দিনী শর্মা ২ ওভারে ১০ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন। তাঁর হাতেই বাংলাদেশের শেষ উইকেটটি আসে।

টানা দশম ফাইনালে ভারত

এই জয়ের ফলে মহিলা এশিয়া কাপে ভারতের ধারাবাহিক সাফল্যের রেকর্ড আরও শক্তিশালী হল। টানা দশমবার ফাইনালে পৌঁছল ভারত। ভারত ইতিমধ্যেই এই প্রতিযোগিতায় সাতবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এবার আরও একটি শিরোপা জয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে হরমনপ্রীতদের সামনে। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান। সেই ম্যাচের জয়ী দল ১৩ সেপ্টেম্বর ফাইনালে ভারতের বিরুদ্ধে খেলবে।

শিরোপার সামনে আর এক ধাপ

মন্থর উইকেটে ১৪৯ রান করার পর ১০৯ রানে বাংলাদেশকে আটকে দেওয়া ভারতের সামগ্রিক পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতাই তুলে ধরেছে। শেফালির বিস্ফোরক ব্যাটিং এবং দীপ্তির নিয়ন্ত্রিত বোলিং ছিল জয়ের মূল ভিত্তি। এখন ভারতের সামনে একটাই লক্ষ্য, ১৩ সেপ্টেম্বর ফাইনালে জিতে অষ্টম মহিলা এশিয়া কাপের শিরোপা ঘরে তোলা। তবে প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা না পাকিস্তান, তা জানা যাবে দ্বিতীয় সেমিফাইনালের পর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *