ব্রিকস বৈঠকে আসছেন শি, ফিরবে কি সম্পর্কের উষ্ণতা
গলওয়ান পরবর্তী সময়ে দু’দেশের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকলেও একের পর এক সামরিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ের বৈঠক, সর্বোপরি গত বছর মোদীর চিন সফর দু’দেশের কূটনৈতিক শীতলতা অনেকটাই কাটিয়েছে। ক’দিন আগেই কিরখিজ়স্তানে ‘সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজ়েশন’ (এসসিও) বৈঠকে শি–র সঙ্গে আলাদা কথা বলেন মোদী। তখনই দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, ‘আমরা প্রতিযোগী নই, সহযোগী। দু’দেশ পরস্পরকে হুমকি দেয় না, বরং পারস্পরিক উন্নতিতে সাহায্য করে।’ সূত্রের খবর, এ বার মোদী–শি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে ব্যবসা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে। ইতিমধ্যেই ইলেকট্রনিক্স, মূলধনী দ্রব্য, সোলার সেল সেক্টরে চিনা বিনিয়োগের উপরে বিধিনিষেধ শিথিল করেছে ভারত। পরিসংখ্যান বলছে, গত বছরেই ভারত–চিন বাণিজ্য ১২.৪ শতাংশ বেড়ে ১৫৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। চলতি বছরের প্রথম সাত মাসেই দু’দেশের বাণিজ্য প্রায় ২৩ শতাংশ বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকা যখন শুল্কের ফাঁস জোরদার করছে, তখন চিন–ভারত বাণিজ্য সম্ভাবনা নিয়ে ব্রিকসে আলোচনার আশা জোরদার। সম্পর্ক উন্নত হওয়ার সুবাদে দু’দেশের মধ্যে ফ্লাইট এবং কৈলাস মানসরোবর যাত্রাও পুনরায় চালু হয়েছে। সেক্ষেত্রে সীমান্তে দীর্ঘকালীন শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখা, রেয়ার আর্থ মিনারেলের মতো কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে ভারতের ছাড়পত্র নিয়েও আলোচনা হতে পারে। চিনের ইয়ারলুং সাংপো নদীতে চিনের বৃহত্তর বাঁধ তৈরির সিদ্ধান্ত ভারতের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তার মধ্যেই তিব্বতের হিমবাহ ভেঙে নেপালের বিধ্বংসী হড়পা বানের স্মৃতি এখনও দগদগে। ভবিষ্যতে এমন বিপদের আশঙ্কায় সিঁটিয়ে ভারতও। এই পরিস্থিতিতে শি–মোদী বৈঠকে আন্তঃসীমান্ত নদীর জলপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ এবং হিমালয়ের ভঙ্গুর অবস্থার প্রেক্ষিতে বাস্তুতন্ত্র রক্ষা নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।