পর্যটকদের আদিবাসী দিনযাপন চেনাবে ‘জঙ্গলমহল গ্রাম্য জীবন’
বন দপ্তর জানিয়েছে, পর্যটন শিল্পকে চাঙ্গা করতে এই পরিকল্পনা করেছে ঝাড়গ্রাম জেলা প্রশাসন। বেলপাহাড়ির বুকে শিমুলপাল অঞ্চলের বালিচুয়ার পাহাড়ের উপরে তৈরি হবে এই গ্রাম। পাহাড়ের উপরে দুই হেক্টর জায়গায় ১৫টি ছোট ছোট মাটির বাড়ি তৈরি করে আদিবাসী গ্রামের পরিবেশ গড়ে তোলা হবে। পাথরের মেঝে, মাটির দেওয়াল ও কাঠের ছাদ দিয়ে ঘরগুলি তৈরি করা হবে। যেখানে প্রতিটি মাটির ঘরের দেওয়ালে আদিবাসী গ্রামের মতো পশু-পাখি–সহ বিভিন্ন ছবি আঁকা থাকবে। আটটি ঘরে আদিবাসীদের ইতিহাস এবং জীবনযাত্রার মিউজিয়াম গড়ে তোলা হবে। বেড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আদিবাসীদের রান্নার স্বাদ নেওয়ারও সুযোগ থাকবে সেখানে। কুরকুটের চাটনি থেকে কুরকুটের ডিমের ওমলেট, শালপোড়া চিকেন, বাম্বু চিকেন, মাংস পিঠের সঙ্গে মেনুতে থাকবে পান্তাভাতও। বেড়ানো আর পেটপুজোর পরে আদিবাসী শিল্পীদের তৈরি বাবুই ঘাস, সাবাই ঘাস, পাথরের নানা সামগ্রী কেনার জন্য বিপণন কেন্দ্রও থাকবে সেখানে। পর্যটকদের জন্য থাকবে ছবি তোলার বিশেষ সুযোগ। দার্জিলিংয়ে যেমন পাহাড়ি পোশাক পরে পর্যটকরা ছবি তোলেন। বেলপাহাড়ির এই মডেল গ্রামেও পাঞ্চি শাড়ি এবং গান্দো ধুতি পরে আদিবাসীদের সাজে ছবি তুলতে পারবেন উৎসাহী পর্যটক। আবার চাইলে পর্যটকরা এই গ্রামে রাতও কাটাতে পারবেন। পর্যটকদের থাকার জন্য ছ’টি ঘরও থাকবে এখানে। মডেল ভিলেজের মাঝে মঞ্চ করে আদিবাসী শিল্পীদের নাচ–গানেরও আয়োজন থাকবে বলে জানিয়েছে বন দপ্তর।