ডিসপ্লে-যুক্ত এআই চশমা তৈরি করছে Samsung, ২০২৮ সালে আসতে পারে নতুন ডিভাইস
স্মার্ট চশমার বাজারে আরও উন্নত প্রযুক্তি নিয়ে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে স্যামসাং (Samsung )। সম্প্রতি গুগল, জেন্টল মনস্টার এবং ওয়ারবি পার্কারের সঙ্গে যৌথভাবে প্রথম গ্যালাক্সি গ্লাসেস…
স্মার্ট চশমার বাজারে আরও উন্নত প্রযুক্তি নিয়ে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে স্যামসাং (Samsung )। সম্প্রতি গুগল, জেন্টল মনস্টার এবং ওয়ারবি পার্কারের সঙ্গে যৌথভাবে প্রথম গ্যালাক্সি গ্লাসেস বাজারে এনেছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি সংস্থাটি। এবার তার আরও উন্নত সংস্করণ নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে বলে খবর। নতুন এই এআই চশমায় মাইক্রোডিসপ্লে ব্যবহার করা হতে পারে, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীর চোখের সামনে সরাসরি তথ্য দেখানো সম্ভব হবে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যম দ্য ইলেক-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নতুন এআই চশমার জন্য মাইক্রোডিসপ্লে তৈরি করতে গত মাসে স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স তার ডিসপ্লে বিভাগ স্যামসাং ডিসপ্লেকে দায়িত্ব দিয়েছে। সংস্থার তরফে চশমার আকার, তথ্য প্রদর্শনের জায়গা, রঙ এবং সম্ভাব্য দাম সম্পর্কিত প্রয়োজনীয়তা জানানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
০.২ ইঞ্চিরও ছোট মাইক্রোডিসপ্লে
রিপোর্ট অনুযায়ী, স্যামসাং ডিসপ্লে নতুন এআই চশমার জন্য ওএলইডিওএস এবং এলইডিওএস প্রযুক্তি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। ওএলইডিওএস-এর অর্থ ওএলইডি অন সিলিকন এবং এলইডিওএস-এর অর্থ এলইডি অন সিলিকন। খুব ছোট জায়গায় উজ্জ্বল এবং কমপ্যাক্ট ডিসপ্লে তৈরি করার জন্য এই প্রযুক্তিগুলি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কথিত নতুন চশমায় ব্যবহৃত মাইক্রোডিসপ্লের আকার ০.২ ইঞ্চিরও কম হতে পারে। এত ছোট স্ক্রিন থেকে তৈরি ছবি একটি বিশেষ অপটিক্যাল সিস্টেমের মাধ্যমে বড় করে ব্যবহারকারীর চোখের দিকে পাঠানো হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চোখের সামনে দেখা যাবে নোটিফিকেশন ও নেভিগেশন
স্যামসাংয়ের লক্ষ্য আপাতত চশমায় খুব জটিল ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট দেখানো নয়। বরং তুলনামূলক সহজ তথ্য, যেমন লেখা, নোটিফিকেশন, আইকন এবং নেভিগেশন অ্যারো দেখানোর দিকে জোর দেওয়া হতে পারে। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করলে ব্যবহারকারীকে ফোনের স্ক্রিন বারবার বের করতে হবে না। রাস্তা চলার সময় নেভিগেশন নির্দেশ, নতুন মেসেজের নোটিফিকেশন বা প্রয়োজনীয় ছোট তথ্য সরাসরি চোখের সামনে দেখা যেতে পারে। এই ধারণাটি মেটার রে-ব্যান ডিসপ্লে-র মতো প্রযুক্তির সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
Advertisements
দুই চোখে নাকি এক চোখে ডিসপ্লে?
নতুন এআই চশমায় বাইনোকুলার নাকি মনোকুলার ডিসপ্লে ব্যবহার করা হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। বাইনোকুলার ব্যবস্থায় দুই চোখেই ভিজ্যুয়াল তথ্য পৌঁছবে। অন্যদিকে মনোকুলার ব্যবস্থায় শুধুমাত্র একটি চোখের সামনে ডিসপ্লে দেখা যাবে। দুই ধরনের প্রযুক্তিরই নিজস্ব সুবিধা এবং সীমাবদ্ধতা রয়েছে। দুই চোখে তথ্য দেখানোর জন্য অপটিক্যাল ব্যবস্থা তুলনামূলক জটিল হতে পারে। আবার এক চোখের ডিসপ্লে তুলনামূলক সহজ এবং কমপ্যাক্ট করা সম্ভব হতে পারে।
৪-বিট গ্র্যাডিয়েশন নিয়ে ভাবনা
ডিসপ্লের রঙ ও উজ্জ্বলতার ক্ষেত্রেও স্যামসাং তুলনামূলক সরল প্রযুক্তির দিকে এগোতে পারে। রিপোর্ট অনুযায়ী, সংস্থাটি প্রায় ৪-বিট গ্র্যাডিয়েশন বিবেচনা করছে। ৪-বিট কালার চ্যানেলে ১৬টি উজ্জ্বলতার স্তর প্রকাশ করা যায়। তুলনায় ৮-বিট কালার চ্যানেলে ২৫৬টি স্তর থাকে।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সাদা ওএলইডিওএস স্যামসাংয়ের কাছে তুলনামূলক বাস্তবসম্মত বিকল্প হতে পারে। উৎপাদনে ভালো ফলন এবং কম খরচের সুবিধার কারণে এই প্রযুক্তি বেশি কার্যকর হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ফিল্ড অব ভিউ
ডিসপ্লে তৈরি করাই অবশ্য একমাত্র সমস্যা নয়। চশমার ফিল্ড অব ভিউ বা ব্যবহারকারীর সামনে কতটা বড় এলাকায় তথ্য দেখা যাবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। স্যামসাং নাকি লেন্সের সামনের অংশের বড় জায়গা জুড়ে তথ্য দেখানোর কথা ভাবছে। এর জন্য এমন একটি অপটিক্যাল সিস্টেম প্রয়োজন হবে, যা তুলনামূলক প্রশস্ত ভিউইং অ্যাঙ্গেল দিতে পারবে, আবার পুরো চশমাটিকেও কমপ্যাক্ট রাখতে হবে। অর্থাৎ খুব ছোট মাইক্রোডিসপ্লে থেকে বড় এবং স্পষ্ট ছবি তৈরি করে ব্যবহারকারীর চোখে পৌঁছে দেওয়াই হবে প্রযুক্তিগতভাবে অন্যতম কঠিন কাজ।
২০২৭-এর শেষ থেকে ২০২৮-এর প্রথমার্ধে আসতে পারে
রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ডিসপ্লে-যুক্ত স্যামসাং এআই চশমা ২০২৭ সালের দ্বিতীয়ার্ধ অথবা ২০২৮ সালের প্রথমার্ধে বাজারে আসতে পারে। তবে এই সময়সীমা এখনও নিশ্চিত নয়। মাইক্রোডিসপ্লে তৈরির অগ্রগতি, উৎপাদনের ফলন, প্রযুক্তির মান যাচাই এবং চূড়ান্ত পণ্য পরীক্ষার উপর লঞ্চের সময় নির্ভর করবে বলে জানা গিয়েছে।
ফলে স্যামসাংয়ের নতুন এআই চশমা বাস্তবে কবে বাজারে আসবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তবে সংস্থা যদি এই প্রযুক্তি সফলভাবে ছোট আকারের চশমার মধ্যে নিয়ে আসতে পারে, তাহলে স্মার্ট চশমায় শুধু ভয়েস কমান্ড নয়, চোখের সামনে সরাসরি তথ্য দেখানোর ক্ষেত্রে এটি বড় পদক্ষেপ হতে পারে।