১৫০০০ কোটি উদ্ধার হলেও ছাড় নেই মালিয়ার! স্পষ্ট করল ED
মুম্বই: বিজয় মালিয়ার (Vijay Mallya)মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট একগুঁয়ে অবস্থান নিয়েছে। বোম্বে হাইকোর্টে ED স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ব্যাংকগুলো প্রায় পনেরো হাজার কোটি টাকা উদ্ধার করেছে বলেই…
মুম্বই: বিজয় মালিয়ার (Vijay Mallya)মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট একগুঁয়ে অবস্থান নিয়েছে। বোম্বে হাইকোর্টে ED স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ব্যাংকগুলো প্রায় পনেরো হাজার কোটি টাকা উদ্ধার করেছে বলেই অর্থপাচারের মামলা শেষ হয়ে যাবে না। দেওয়ানি দায় পরিশোধ হলেও অপরাধমূলক মামলার ভিত্তি আলাদা। বিজয় মালিয়া এখনও পলাতক এবং তার অনুপস্থিতি মামলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়েই থাকবে।
কিংফিশার এয়ারলাইনসের পতনের পর থেকেই বিজয় মালিয়ার (Vijay Mallya)নাম ব্যাংক ঋণ খেলাপির সঙ্গে জড়িয়ে গেছে। এসবিআই-সহ বেশ কয়েকটি ব্যাংকের কনসোর্টিয়াম তাকে প্রায় ছয় হাজার দুইশো কোটি টাকার ঋণ দিয়েছিল। সুদসহ সেই অঙ্ক আরও বেড়ে যায়। পরে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট তার সম্পত্তি ক্রোক করে এবং সেগুলো ব্যাংকগুলোর কাছে হস্তান্তর করে।
আরও দেখুনঃ গালওয়ান-পরবর্তী সময়ে এই প্রথম দিল্লিতে চিনের প্রেসিডেন্ট: মোদী-শি বৈঠকে নজর কোন কোন দিকে?
এখন পর্যন্ত প্রায় চোদ্দ হাজার একশো কোটি টাকার সম্পত্তি ব্যাংকগুলো পেয়েছে বলে সংস্থাটি আদালতে জানিয়েছে। বিজয় মালিয়া নিজেও সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেছেন যে তার কাছ থেকে অনেক বেশি টাকা উদ্ধার হয়েছে।কিন্তু এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের যুক্তি সোজা। তারা বলেছে, ব্যাংকগুলোর টাকা ফেরত পাওয়া এক জিনিস, আর অর্থপাচারের অপরাধ প্রমাণিত হওয়া সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়।
Advertisements
প্রিভেনশন অব মানি লন্ডারিং অ্যাক্টের অধীনে চলা মামলায় দেখা হয় অর্থ অবৈধভাবে পাচার হয়েছে কি না। ব্যাংক ঋণ পরিশোধ হয়ে গেলেও সেই অপরাধের তদন্ত ও বিচার থেমে যায় না। সংস্থাটির ভাষায়, সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়া শুধু ক্ষতিপূরণের একটি আইনি পদ্ধতি। এটি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কি না, তা নির্ধারণ করে না।মাল্যা ২০১৬ সালে ভারত ছেড়ে ব্রিটেনে চলে যান।
তারপর থেকেই তিনি পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত। (Vijay Mallya)ভারত সরকার বারবার তার প্রত্যর্পণ চেয়েছে, কিন্তু আইনি জটিলতায় সেটি এখনও পুরোপুরি সম্ভব হয়নি। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট আদালতে বলেছে, তার অব্যাহত অনুপস্থিতি এবং আচরণ মামলার সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি না হওয়া পর্যন্ত মামলা চলতেই থাকবে।এই মামলার পটভূমি অনেক পুরনো।
কিংফিশার এয়ারলাইনস যখন দেউলিয়া হয়ে যায়, তখন ব্যাংকগুলো বিপুল পরিমাণ ক্ষতির মুখে পড়ে। তদন্তে অভিযোগ ওঠে যে ঋণের টাকার কিছু অংশ যথাযথভাবে ব্যবহার হয়নি। কিছু অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই অর্থপাচারের মামলা দায়ের করে এবং সম্পত্তি ক্রোক করে। পরে সেই সম্পত্তিগুলো ব্যাংকগুলোর দাবি মেটাতে ব্যবহার করা হয়।
বিজয় মালিয়ার (Vijay Mallya)আইনজীবীরা যুক্তি দিচ্ছেন যে দেওয়ানি দায় মেটানো হয়ে গেছে, তাই মামলা বন্ধ করা উচিত। কিন্তু এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট সেই যুক্তি মানতে রাজি নয়। তারা বলছে, দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা একেবারে আলাদা। একটিতে টাকা ফেরত পাওয়া গেলেই অন্যটির প্রয়োজন ফুরিয়ে যায় না। আদালতও ইঙ্গিত দিয়েছে যে দেওয়ানি বিষয়গুলো নিষ্পত্তি হলেও অপরাধমূলক মামলা তার নিজস্ব গতিতে চলবে।