E20-এর পর আরও ইথানল, ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়িতে বড় জ্বালানি বদলের ইঙ্গিত
কলকাতা: পেট্রোলে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানোর (Ethanol Blending) কর্মসূচি বা ই২০ সফল হয়েছে বলে দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রীর দফতরের উপদেষ্টা তরুণ কাপূর। এবার সরকারের নজর ই২০-এর সীমা পেরিয়ে আরও বেশি মাত্রায় ইথানল ব্যবহারের দিকে। তবে এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ি। অর্থাৎ, যে গাড়ি পেট্রোলের সঙ্গে বেশি মাত্রায় ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি বা প্রায় বিশুদ্ধ ইথানল ব্যবহার করতে সক্ষম।
ইন্ডিয়া সুগার অ্যান্ড বায়ো এনার্জি কনফারেন্সে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তরুণ কাপূর জানান, ই২০ কর্মসূচি সফল হলেও এবার পরবর্তী ধাপে যেতে হলে ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ির সংখ্যা বাড়াতে হবে। একইসঙ্গে দেশের পেট্রল পাম্পগুলিতে উচ্চমাত্রার ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির সরবরাহও বাড়াতে হবে।
ই২০-এর পর লক্ষ্য আরও বেশি ইথানল
তরুণ কাপূরের বক্তব্য অনুযায়ী, পেট্রোলে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ইথানল মেশানোর কর্মসূচি ভালোভাবেই এগিয়েছে। এবার ই২০-এর চেয়ে বেশি মাত্রায় ইথানল মেশানোর সুযোগ তৈরি করতে চাইছে সরকার।
তবে সাধারণ পেট্রোল গাড়িতে সরাসরি ইথানলের মাত্রা বাড়ানোর পরিবর্তে ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ির মাধ্যমে এই পরিবর্তন করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। কারণ, বেশি ইথানলযুক্ত জ্বালানি ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট প্রযুক্তিতে তৈরি ইঞ্জিন প্রয়োজন। তরুণ কাপূর জানিয়েছেন, ই২০ পর্যন্ত কর্মসূচি সফল হয়েছে। এখন সরকারের মূল লক্ষ্য ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ির দিকে এগোনো এবং এমন গাড়িতে ই২০-এর চেয়ে বেশি মাত্রায় ইথানল মেশানো জ্বালানি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করা।
Advertisements
বাজারে আসছে ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ি
দেশের একাধিক গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থা ইতিমধ্যেই ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ি তৈরির পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর দফতরের উপদেষ্টা। তাঁর আশা, খুব শীঘ্রই এই ধরনের গাড়ি বাজারে আরও বেশি সংখ্যায় দেখা যাবে। ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ির সংখ্যা বাড়লে উচ্চমাত্রার ইথানলযুক্ত জ্বালানির ব্যবহারও বাড়ানো সম্ভব হবে। তবে শুধু গাড়ি তৈরি করলেই হবে না। সেই গাড়ির জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানির পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই গাড়ি এবং জ্বালানি সরবরাহ, দু’টি বিষয়কেই পাশাপাশি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
পেট্রল পাম্পে বাড়বে উচ্চমাত্রার ইথানল
বর্তমানে দেশের কিছু পেট্রল পাম্পে বেশি মাত্রায় ইথানল বা প্রায় বিশুদ্ধ ইথানল পাওয়া যায়। কিন্তু এই ধরনের জ্বালানির সরবরাহ এখনও সীমিত। তরুণ কাপূর জানিয়েছেন, ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ির ব্যবহার বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পেট্রল পাম্পেও উচ্চমাত্রার ইথানল বা প্রয়োজনীয় অ্যাডিটিভ মেশানো জ্বালানি পাওয়া নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ, ভবিষ্যতে ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ির বাজার তৈরি করার পাশাপাশি সেই গাড়িগুলির জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি পরিকাঠামোও তৈরি করা হবে।
ইথানল উৎপাদন এখন চাহিদার চেয়ে বেশি
ইথানল নিয়ে সরকারের সামনে এখন আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল উৎপাদন। তরুণ কাপূর জানিয়েছেন, দেশে ইথানলের উৎপাদন বর্তমানে মিশ্রণের প্রয়োজনের তুলনায় বেশি হয়ে গিয়েছে। এর ফলে শুধু পেট্রোলে ইথানল মেশানোর বাজারের উপর নির্ভর না করে নতুন নতুন ব্যবহার খুঁজে বের করার প্রয়োজন হচ্ছে। সরকার এখন পরিবহণের পাশাপাশি অন্যান্য ক্ষেত্রেও ইথানলের ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছে। এর মধ্যে রান্না এবং বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রে ইথানলের ব্যবহার বাড়ানোর সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উৎপাদন ক্ষমতা এবং বাস্তব চাহিদার মধ্যে যে অতিরিক্ত ব্যবধান তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত কমানোই সরকারের লক্ষ্য।
ডিজেলের বিকল্প জৈব জ্বালানি নিয়েও পরীক্ষা
শুধু পেট্রোল নয়, ডিজেলের সঙ্গে মেশানো যায় এমন জৈব জ্বালানি নিয়েও কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন তরুণ কাপূর। বিশেষ করে আইসোবিউটানল নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার কথা তিনি উল্লেখ করেছেন। ভবিষ্যতে ডিজেলভিত্তিক পরিবহণে জৈব জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে এই ধরনের জ্বালানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
সরকারের লক্ষ্য হল পরিবহণ ক্ষেত্রে জৈব জ্বালানির ব্যবহার আরও বাড়ানো এবং একইসঙ্গে দেশের সামগ্রিক জ্বালানি ব্যবস্থায় বিকল্প উৎসের অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি করা।
ই২০ নিয়ে গাড়ির মালিকদের উদ্বেগ
ই২০ কর্মসূচি সফল হলেও এই জ্বালানি ব্যবহারের উপযোগী নয় এমন পুরনো বা নির্দিষ্ট মডেলের গাড়ি নিয়ে যে উদ্বেগ রয়েছে, সেটিও স্বীকার করেছেন তরুণ কাপূর। ই২০ নিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা ও গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে এই জ্বালানি গাড়িতে ভালোভাবেই কাজ করতে পারে। তবে কিছু ক্ষেত্রে জ্বালানি দক্ষতা বা মাইলেজ সামান্য কমতে পারে।
তরুণ কাপূরের বক্তব্য অনুযায়ী, ই২০ ব্যবহারে সামান্য জ্বালানি দক্ষতা কমলেও বেশি অকটেন সংখ্যার সুবিধা তার কিছুটা компенসেট করতে পারে। তবে এই বিষয়টি নিয়ে গাড়ির মালিকদের মধ্যে যে আলোচনা ও সমালোচনা রয়েছে, তা আগামী দিনে ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ির প্রসারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে থাকবে।
জ্বালানি নীতিতে পরবর্তী বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত
সব মিলিয়ে তরুণ কাপূরের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, পেট্রোলে ইথানল মেশানোর ক্ষেত্রে ভারত এখন পরবর্তী ধাপে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ই২০-এর পর সরাসরি সাধারণ গাড়িতে ইথানলের মাত্রা বাড়ানোর বদলে ফ্লেক্স-ফুয়েল প্রযুক্তিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
একদিকে যেমন ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ির উৎপাদন বাড়বে, অন্যদিকে তেমনই পেট্রল পাম্পে উচ্চমাত্রার ইথানলযুক্ত জ্বালানির সরবরাহও বাড়াতে হবে। পাশাপাশি পরিবহণের বাইরে রান্না ও শিল্পক্ষেত্রে ইথানলের ব্যবহার এবং ডিজেলের বিকল্প হিসেবে আইসোবিউটানলের মতো জৈব জ্বালানির সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দেশে ইথানল উৎপাদন বর্তমানে মিশ্রণের প্রয়োজনের তুলনায় বেশি হয়ে যাওয়ায় আগামী দিনে এই অতিরিক্ত উৎপাদনের জন্য নতুন বাজার তৈরি করাও সরকারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে ই২০-এর পর ভারতের জৈব জ্বালানি নীতিতে আরও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।
আরও পড়ুন: ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি নিয়ে ভারতে Realme P4S 5G, দাম ৩৪,৯৯৯
আরও পড়ুন: মেড ইন ইন্ডিয়ায় ফের ইতিহাস! দেশের সফল মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার হচ্ছে দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর চিপ
আরও পড়ুন: DRDO র বড় সিদ্ধান্ত! এবার দেশেই তৈরী হতে চলেছে টর্পেডো সাবমেরিন