লক্ষ্য পরের স্তর! এক বছর জাতীয় দলের বাইরে শামি, তবুও থামছেন না
ভারতীয় ক্রিকেট দলের বাইরে এক বছরেরও বেশি সময় কাটিয়ে ফেলেছেন মহম্মদ শামি (Mohammed Shami)। ২০২৫ সালের মার্চের পর থেকে তিনি ভারতের হয়ে আর খেলেননি। টেস্ট…
ভারতীয় ক্রিকেট দলের বাইরে এক বছরেরও বেশি সময় কাটিয়ে ফেলেছেন মহম্মদ শামি (Mohammed Shami)। ২০২৫ সালের মার্চের পর থেকে তিনি ভারতের হয়ে আর খেলেননি। টেস্ট ক্রিকেটেও তাঁর শেষ ম্যাচ হয়েছিল তিন বছরেরও বেশি আগে। তবে বয়স ৩৬ হলেও জাতীয় দলে ফেরার লড়াই থেকে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছেন না অভিজ্ঞ এই পেসার।
বৃহস্পতিবার নিজের ১০০তম প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেললেন শামি। দিনটিকে আরও বিশেষ করে তুলেছে ইস্ট জোনের দলীপ ট্রফি জয়। শিরোপার লড়াইয়ে ইস্ট জোন প্রথম ইনিংসে এগিয়ে থাকার ভিত্তিতে সাউথ জোনকে হারিয়েছে। ফাইনালে শামিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। সাউথ জোনের প্রথম ইনিংসে ৩৩৬ রানে অলআউট হওয়ার সময় শামি দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন।
১০০তম প্রথম শ্রেণির ম্যাচ এবং দলের দলীপ ট্রফি জয়, দুটোই শামির জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকল। কিন্তু ম্যাচ শেষে তাঁর কথায় স্পষ্ট, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার চেয়ে নিজের প্রস্তুতি এবং পারফরম্যান্সের দিকেই বেশি মন দিতে চান তিনি।
কবে থেকে শুরু হচ্ছে আইএসএল ? চূড়ান্ত হল দিনক্ষণ
Advertisements
‘নিজেকে অনুপ্রাণিত করার অনেক কারণ রয়েছে’
শামি সর্বশেষ ভারতের হয়ে খেলেছিলেন ২০২৫ সালের মার্চে। টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর শেষ উপস্থিতি ছিল ২০২৩ সালের জুনে দ্য ওভালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে। এরপর দীর্ঘ সময় জাতীয় দলের বাইরে থাকলেও নিজের অনুপ্রেরণা কমেনি বলে জানিয়েছেন শামি। তাঁর মতে, একজন ক্রিকেটারের অনুপ্রেরণা অনেকটাই নিজের হাতে। নতুন লক্ষ্য ঠিক করে সেই অনুযায়ী এগিয়ে চলাই তাঁর পদ্ধতি। দলীপ ট্রফির ফাইনালের পর শামি বলেন, নিজেকে অনুপ্রাণিত রাখার অনেক কারণ রয়েছে। তাঁর মতে, এই পর্যায়ে খেলতে এসে কেউ যদি নিজেকে অনুপ্রাণিত রাখতে না পারেন, তাহলে তাঁর মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। শামির স্পষ্ট বক্তব্য, একজন ক্রিকেটার যে পর্যায়েই খেলুন না কেন, তাঁর চোখ সবসময় পরবর্তী স্তরের দিকে থাকা উচিত।
দলের জার্সি পরলেই দায়িত্ব বদলে যায় না
শামির কাছে ক্রিকেটের স্তর গুরুত্বপূর্ণ নয়। যে পর্যায়েই খেলার সুযোগ আসুক, দলের হয়ে নিজের দায়িত্ব পালন করাই তাঁর লক্ষ্য।তিনি জানিয়েছেন, বুকে দলের প্রতীক বা ব্যাজ থাকার অর্থই হল দলের জন্য লড়াই করার মানসিকতা থাকা। সেই গর্ব থেকেই লড়াই করার ক্ষুধা আরও বাড়ে। শামির মানসিকতা খুব সহজ। যে পর্যায়েই খেলার সুযোগ আসবে, সেটিকে কাজে লাগিয়ে দলের জন্য নিজের দায়িত্ব পূরণ করতে চান তিনি। অর্থাৎ জাতীয় দলের বাইরে থাকলেও তাঁর প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতায় কোনও পরিবর্তন হয়নি।
চেন্নাইয়িন থেকে এবার রাজস্থানে যোগ দিলেন জাহাঙ্গীর
১০০তম প্রথম শ্রেণির ম্যাচে বিশেষ অর্জন
শামির ১০০তম প্রথম শ্রেণির ম্যাচটি আরও স্মরণীয় হয়ে উঠেছে ইস্ট জোনের দলীপ ট্রফি জয়ের কারণে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ইস্ট জোন দলীপ ট্রফির শিরোপা জিতেছে। শামির কাছে নিজের ১০০তম ম্যাচে এমন একটি জয় বিশেষ সন্তুষ্টির বিষয়। তিনি জানিয়েছেন, ১০০তম ম্যাচে এই সাফল্য এবং একই সঙ্গে দলীপ ট্রফির ফাইনালে জয় পাওয়াটা তাঁর কাছে বিশেষ মুহূর্ত। ইস্ট জোনের পুরো দল এই প্রতিযোগিতায় নিজেদের সেরাটা দিয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, প্রতিটি ক্রিকেটার দলকে ফাইনালে নিয়ে যাওয়ার জন্য নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছে। প্রচণ্ড গরমের মতো কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও দলের এই পারফরম্যান্সকে অসাধারণ বলে উল্লেখ করেছেন শামি। তবে নিজের ১০০তম ম্যাচ নিয়ে অতিরিক্ত আবেগে ভেসে যেতে চাননি তিনি। শামির মতে, প্রথম ম্যাচ হোক বা ১০০তম, পরিশ্রম এবং খেলার পদ্ধতিতে কোনও পরিবর্তন হওয়া উচিত নয়।
ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফরম্যান্সেই নজর
দীর্ঘ সময় ধরে ঘরোয়া ক্রিকেটে শামির পারফরম্যান্স তাঁর ভারতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা জিইয়ে রেখেছে। তবে জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন নিয়ে জল্পনার বদলে নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিষয়গুলিতেই মন দিতে চাইছেন অভিজ্ঞ পেসার। তাঁর কাজ হল কঠোর পরিশ্রম করে যাওয়া। এরপর কী হবে, তা তাঁর হাতে নেই বলেই মনে করেন তিনি। দর্শক এবং সমর্থকদের ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্যও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন শামি। দীর্ঘ ক্রিকেটজীবনে যারা তাঁকে পাশে থেকে সমর্থন করেছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি।
জাতীয় দলে ফেরার লড়াই এখনও চলছে
২০২৫ সালের মার্চের পর ভারতের হয়ে না খেললেও শামির বক্তব্যে স্পষ্ট, ক্রিকেট থেকে দূরে সরে যাওয়ার কোনও ইঙ্গিত তিনি দিচ্ছেন না। ৩৬ বছর বয়সে ১০০তম প্রথম শ্রেণির ম্যাচে মাঠে নেমে দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেওয়া এবং ইস্ট জোনের দলীপ ট্রফি জয়ে অবদান রাখার পরও তাঁর লক্ষ্য একই। নিজের পারফরম্যান্সের উন্নতি করা এবং প্রতিটি সুযোগকে কাজে লাগানো। জাতীয় দলে ফেরার দরজা তাঁর জন্য খোলা থাকবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের। তবে শামি আপাতত নিজের কাজ করে যেতে চান। তাঁর দর্শন একটাই, যে স্তরেই খেলার সুযোগ আসুক, সেখান থেকেই পরবর্তী স্তরে যাওয়ার লক্ষ্য রাখতে হবে।