রাশিয়ার Su-57 প্রস্তাবে সাড়া নেই ভারতের, কেন ফিরিয়ে দিচ্ছে দিল্লি?
কলকাতা: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং তার পর নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের আগে ফের ভারতের সামনে সু-৫৭ (Su-57) পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমানের প্রস্তাব জোরালো করেছে মস্কো। রাশিয়ার তরফে এবার প্রযুক্তি হস্তান্তর, ভারতে উৎপাদন এবং সোর্স কোডে বিস্তৃত প্রবেশাধিকারের মতো একাধিক সুবিধার কথাও সামনে আনা হচ্ছে।
কিন্তু এত প্রস্তাবের পরও নয়াদিল্লির অবস্থান এখনও বেশ ঠান্ডা। ভারতের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় বর্তমানে দেশীয় যুদ্ধবিমান এবং নিজস্ব প্রযুক্তির উন্নয়নই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। ফলে রাশিয়ার সু-৫৭ প্রস্তাব নিয়ে ভারতীয় বায়ুসেনার আগ্রহ তৈরি হয়নি বলেই দেওয়া তথ্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
কেন সু-৫৭ নিয়ে এত আগ্রহ রাশিয়ার?
ইউক্রেন সংঘাত শুরু হওয়ার পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার ঐতিহ্যগত প্রতিরক্ষা রফতানি বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। একাধিক পুরনো ক্রেতা আর্থিক সমস্যা এবং ভূরাজনৈতিক চাপের কারণে রুশ অস্ত্র কেনার ক্ষেত্রে পিছিয়ে যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে ভারতের মতো দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সহযোগী দেশের বাজার রাশিয়ার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভের সাম্প্রতিক বক্তব্য এবং প্রেসিডেন্ট পুতিনের আগের মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, সু-৫৭ নিয়ে ভারতকে রাজি করানোর চেষ্টা আরও জোরদার করা হচ্ছে।
Advertisements
Read More: ১৯০টি পরমাণু যুদ্ধাস্ত্র নিয়ে পাকিস্তানকে পেছনে ফেলল ভারত, শীঘ্রই টপকাবে ব্রিটেনকেও
এবার শুধু রফতানি সংস্করণ সু-৫৭ই নয়, পুরো সু-৫৭ পরিবারের বিভিন্ন সংস্করণের প্রস্তাব সামনে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে দুই আসনের সু-৫৭ডি, যা ২০২৬ সালের মে মাসে প্রথম পরীক্ষামূলক উড়ান সম্পন্ন করেছে বলে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী দাবি করা হয়েছে।
ভারতে উৎপাদনের প্রস্তাব
চুক্তিকে আরও আকর্ষণীয় করতে রাশিয়া হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড বা এইচএএল-এর মাধ্যমে ভারতে সু-৫৭ উৎপাদনের প্রস্তাব দিয়েছে। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ দিকে রাশিয়ার একটি প্রযুক্তিগত প্রতিনিধি দল এইচএএল-এর বিভিন্ন পরিকাঠামো পরিদর্শন করে। তাদের মূল্যায়ন ছিল, নাসিকের বর্তমান সু-৩০এমকেআই উৎপাদন লাইনকে সু-৫৭ তৈরির কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হতে পারে। এর প্রায় ৫০ শতাংশ পরিকাঠামো ও সক্ষমতা কাজে লাগানো যেতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে। বাকি পরিকাঠামোর জন্য স্টেলথ কোটিং, কম্পোজিট উৎপাদন এবং সেন্সর ফিউশন পরীক্ষাগারের মতো ক্ষেত্রে নতুন বিনিয়োগ প্রয়োজন হতে পারে।
রাশিয়ার ‘স্টপ-গ্যাপ’ যুক্তি
ভারতকে সু-৫৭ কেনানোর ক্ষেত্রে রাশিয়ার অন্যতম বড় যুক্তি হল ভারতীয় বায়ুসেনার স্কোয়াড্রন ঘাটতি। বর্তমানে ভারতীয় বায়ুসেনায় অনুমোদিত ৪২টি স্কোয়াড্রনের বদলে প্রায় ২৯ থেকে ৩১টি স্কোয়াড্রন রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আগামী কয়েক বছরে পুরনো যুদ্ধবিমান অবসরের ফলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে।
জাগুয়ার যুদ্ধবিমান ২০২৮ সালের মধ্যে অবসরে যাওয়ার পর ২০৩০-এর দশকে মিগ-২৯ এবং মিরাজ-২০০০-এর মতো বিমানও পর্যায়ক্রমে অবসর নেওয়ার কথা। ফলে ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রায় ১২টি স্কোয়াড্রনের ঘাটতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে রাশিয়ার যুক্তি হল, ৩৬ থেকে ৪০টি সু-৫৭ দ্রুত কেনা হলে দেশীয় অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট বা এএমসিএ পরিষেবায় আসার আগের সময়ের গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে।
Read More: দিল্লির ব্রিকস সম্মেলনে আসছেন না বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, কেন?
এএমসিএ আসতে এখনও সময়
ভারতের নিজস্ব পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান প্রকল্প এএমসিএ বর্তমানে দেশের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এএমসিএ-র প্রথম অপারেশনাল স্কোয়াড্রন ২০৩৪-৩৫ সালের আগে পরিষেবায় আসার সম্ভাবনা কম। এই সময়ের ব্যবধানকেই কাজে লাগাতে চাইছে মস্কো। রাশিয়ার যুক্তি, চিনের জে-২০ এবং পাকিস্তানের সম্ভাব্য স্টেলথ যুদ্ধবিমান সংগ্রহের মোকাবিলায় দ্রুত ৩৬ থেকে ৪০টি সু-৫৭ অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। তবে ভারতের কাছে এই যুক্তি যথেষ্ট নয় বলেই মনে হচ্ছে।
এফজিএফএ প্রকল্পের পুরনো ক্ষত
ভারতের সু-৫৭ নিয়ে অনাগ্রহের অন্যতম বড় কারণ অতীতের ফিফথ জেনারেশন ফাইটার এয়ারক্রাফ্ট বা এফজিএফএ যৌথ প্রকল্প। ২০০৭ সালে ভারত ও রাশিয়া এই যৌথ যুদ্ধবিমান প্রকল্প শুরু করেছিল। পরে ২০১৮ সালে ভারত প্রকল্প থেকে সরে যায়। এফজিএফএ প্রকল্প চলাকালীন ভারতীয় বায়ুসেনা রুশ যুদ্ধবিমানটির বিভিন্ন প্রযুক্তিগত দিক নিয়ে গুরুতর আপত্তি জানিয়েছিল বলে দেওয়া তথ্য থেকে জানা যায়।
স্টেলথ সক্ষমতা নিয়ে আপত্তি
ভারতের অন্যতম অভিযোগ ছিল সু-৫৭-এর স্টেলথ সক্ষমতা নিয়ে। ভারতীয় বায়ুসেনার মূল্যায়ন অনুযায়ী, যুদ্ধবিমানটি কঠোর পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ মানদণ্ড পুরোপুরি পূরণ করছে না। সামনের দিক থেকে রাডার ক্রস সেকশন বা আরসিএস গ্রহণযোগ্য হলেও পাশ এবং পিছনের অংশ আধুনিক রাডারের কাছে তুলনামূলকভাবে বেশি দৃশ্যমান হতে পারে বলে আপত্তি তোলা হয়েছিল। স্টেলথ যুদ্ধবিমানের ক্ষেত্রে শুধু সামনের দিক থেকে রাডারে কম ধরা পড়াই যথেষ্ট নয়। বিভিন্ন দিক থেকে বিমানের রাডার সিগনেচার কম রাখাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
Read More: গালওয়ান সংঘর্ষের পর প্রথম! ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে হতে পারে মোদী- জিনপিং দ্বিপাক্ষিক বৈঠক
ইঞ্জিন নিয়েও প্রশ্ন ছিল
এফজিএফএ প্রকল্পে ইঞ্জিন নিয়েও ভারতীয় পক্ষের উদ্বেগ ছিল। প্রাথমিক প্রোটোটাইপগুলিতে প্রতিশ্রুত পরবর্তী প্রজন্মের ইজদেলিয়ে-৩০ ইঞ্জিনের পরিবর্তে পুরনো এএল-৪১এফ১ ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ভারত যে ধরনের সুপারক্রুজ সক্ষমতা আশা করেছিল, সেই মান পূরণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল।
সোর্স কোড নিয়ে বড় সমস্যা
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল সোর্স কোড এবং ডিজাইন সংক্রান্ত তথ্যের অধিকার। ভারতের অভিযোগ ছিল, রাশিয়া গুরুত্বপূর্ণ সোর্স কোড এবং ডিজাইন ডেটায় প্রয়োজনীয় প্রবেশাধিকার দিতে রাজি হয়নি। ভবিষ্যতে ভারতীয় অ্যাভিওনিক্স আপগ্রেড এবং দেশীয় অস্ত্র সংযুক্ত করার ক্ষেত্রে এটি বড় সমস্যা তৈরি করতে পারত। ভারতের নিজস্ব অস্ত্র ও সেন্সর ব্যবস্থার সঙ্গে একটি বিদেশি যুদ্ধবিমানকে দীর্ঘমেয়াদে সংযুক্ত করার জন্য সফটওয়্যার এবং প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এফজিএফএ প্রকল্পে ভারতের খরচ
প্রকল্প থেকে সরে আসার সময় ভারত ইতিমধ্যেই প্রাথমিক নকশা তৈরির কাজে ২৯৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিটি যুদ্ধবিমানের সম্ভাব্য দাম প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছতে পারে বলে হিসাব করা হয়েছিল। এই অতীত অভিজ্ঞতা নতুন করে সু-৫৭ কেনার ক্ষেত্রে ভারতের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে।
‘আত্মনির্ভরতা’ এখন ভারতের বড় অগ্রাধিকার
ভারতের প্রতিরক্ষা নীতিতে গত কয়েক বছরে বড় পরিবর্তন এসেছে। বিদেশি যুদ্ধবিমান কেনার পাশাপাশি দেশীয় প্রযুক্তি এবং উৎপাদনের উপর অনেক বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিংয়ের বক্তব্য থেকেও সু-৫৭ কেনার বিষয়ে সরকারের কোনও পরিকল্পনা নেই বলে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
বর্তমানে ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য ১৮০টি তেজস এমকে১এ যুদ্ধবিমান অন্তর্ভুক্তির পরিকল্পনা, তেজস এমকে২-এর উন্নয়ন এবং এএমসিএ প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
ভারী যুদ্ধবিমানের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটাতেও নতুন রুশ প্ল্যাটফর্ম কেনার বদলে বিদ্যমান সু-৩০এমকেআই বহরের ‘সুপার সুখোই’ আপগ্রেডের দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে।
আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্কও বড় বিষয়
সু-৫৭ কেনার ক্ষেত্রে ভারতের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল আমেরিকার সঙ্গে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক। রাশিয়ার কাছ থেকে বড় আকারের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রে কাউন্টারিং আমেরিকাস অ্যাডভারসারিজ থ্রু স্যাংশনস অ্যাক্ট বা ক্যাটসা অনুযায়ী আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি রয়েছে। ভারত এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার ক্ষেত্রে বিশেষ ধরনের ছাড় পেয়েছিল। কিন্তু নতুন একটি বড় যুদ্ধবিমান চুক্তি ওয়াশিংটনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে।
বাণিজ্যিক সম্পর্কের ঝুঁকিও রয়েছে
২০২৬ সালে ভারতের সঙ্গে আমেরিকার বাণিজ্যিক সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। সাম্প্রতিক একটি মার্কিন সেনেট বিল রাশিয়ার অস্ত্র কেনা দেশগুলির উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে একটি বড় দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির কাঠামোগত সমঝোতার ভিত্তিতে দুই দেশের পারস্পরিক শুল্ক ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে বলে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জানা যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে অতীতের প্রযুক্তিগত সমস্যায় থাকা একটি রুশ যুদ্ধবিমানের জন্য পশ্চিমের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পর্ক ঝুঁকিতে ফেলা নয়াদিল্লির কাছে আকর্ষণীয় বিকল্প নয়।
রাশিয়ার সু-৫৭ এখন কোথায়?
রাশিয়ার জন্য অবশ্য সু-৫৭ প্রকল্প এখনও গুরুত্বপূর্ণ। রুশ অ্যারোস্পেস ফোর্সেসের হাতে প্রায় ৪৪টি সু-৫৭ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ২০২৫ সালের শেষ দিকে আলজেরিয়াও প্রথম রফতানি সংস্করণের যুদ্ধবিমান পেয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থাৎ সু-৫৭ এখন আর শুধুমাত্র পরীক্ষামূলক প্রকল্প নয়, ধীরে ধীরে পরিষেবায় ঢুকছে। কিন্তু ভারতের কাছে বিষয়টি শুধু যুদ্ধবিমানটি কার্যকর কি না, সেই প্রশ্নে আটকে নেই।
ভারতের অবস্থান কেন বদলাচ্ছে না?
সবকিছু মিলিয়ে ভারতের সু-৫৭ নিয়ে অনাগ্রহের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। অতীতে এফজিএফএ প্রকল্পের প্রযুক্তিগত বিতর্ক, স্টেলথ সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন, ইঞ্জিন সংক্রান্ত সমস্যা এবং সোর্স কোডে পর্যাপ্ত প্রবেশাধিকার না পাওয়ার অভিজ্ঞতা এখনও গুরুত্বপূর্ণ।
তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভারতের বর্তমান ‘আত্মনির্ভর’ প্রতিরক্ষা নীতি, তেজস এবং এএমসিএ-র মতো দেশীয় প্রকল্পে বিনিয়োগ এবং সু-৩০এমকেআই বহরকে আপগ্রেড করার পরিকল্পনা। অন্যদিকে আমেরিকা ও পশ্চিমের সঙ্গে ভারতের কৌশলগত এবং অর্থনৈতিক সম্পর্কও আগের তুলনায় অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ফলে রাশিয়া যতই প্রযুক্তি হস্তান্তর, ভারতে উৎপাদন এবং সোর্স কোডে প্রবেশাধিকারের মতো আকর্ষণীয় প্রস্তাব দিক না কেন, ভারতের কাছে সু-৫৭ এখন মূলত অতীতের একটি অধ্যায়ের সঙ্গে যুক্ত প্ল্যাটফর্ম হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় নয়াদিল্লির নজর বরং দেশীয় প্রযুক্তি এবং নিজস্ব পরবর্তী প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরির দিকে।