ফরাসি রেজিস্ট্রি ভবনের সংস্কার কাজের সূচনা, তিন দিন ধরে চলবে অনুষ্ঠান - 24 Ghanta Bangla News
Home

ফরাসি রেজিস্ট্রি ভবনের সংস্কার কাজের সূচনা, তিন দিন ধরে চলবে অনুষ্ঠান

Spread the love

প্রদীপ চক্রবর্তী, চন্দননগর

এক সময়ের ফরাসি উপনিবেশ চন্দননগরের বুকে ছড়িয়ে রয়েছে ফরাসি আমলের একাধিক স্থাপত্য। এই তালিকায় রয়েছে ফরাসি মিউজয়াম, ক্লক টাওয়ার, ডুপ্লে কলেজ এবং ফরাসি গির্জা। তার অধিকাংশই সরকারি ভাবে হেরিটেজ তালিকাভুক্ত। এর বাইরেও চন্দননগরে অনেক ভবন ও স্মারক রয়েছে, যেগুলি ফরাসি ঐতিহ্যকে বহন করে চলেছে। কিন্তু যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে অনেক ঐতিহ্যবাহী ভবন একটু একটু করে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তার মধ্যে অন্যতম চন্দননগরের রেজিস্ট্রি বিল্ডিং। মেরামতির অভাবে সেই ভবনটির এখন জরাজীর্ণ অবস্থা।

বিগত সরকারের আমলে প্রায় ৫ কোটি টাকা খরচ করে ভবনটিকে নতুন করে সংস্কার করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেটা খাতায় কলমেই থেকে গিয়েছে। ফলে ফরাসি শাসকদের স্মৃতি বিজড়িত সেই ভবনের হাল অত্যন্ত খারাপ। তবে দেরিতে হলেও সেই ঐতিহ্যবাহী ভবনের সংস্কারের কাজ খুব শিগগিরই শুরু হতে যাচ্ছে নতুন সরকারের হাত ধরে।

সরকারি সূত্রের খবর, আগামী ১১ সেপ্টেম্বর সেই কাজের আনুষ্ঠানিক সুচনা হবে। রাজ্যের মন্ত্রী–আমলারা ছাড়াও সেই অনুষ্ঠানে হাজির থাকবেন ভারতে নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূত এবং ফ্রান্স সরকারের এক প্রতিনিধি দল৷ এই উপলক্ষে এখন সাজ সাজ রব সাবেক ফরাসডাঙায়। চন্দননগরের স্ট্র্যান্ড রোডকে আলো দিয়ে সুন্দর করে সাজানো হচ্ছে। থাকছে নাচ-গানের অনুষ্ঠান। গঙ্গা আরতিরও পরিকল্পনা রয়েছে। ভারত ও ফ্রান্সের সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের একটা ঝলক দেখতে পাওয়া যাবে সেখানে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চন্দননগর স্ট্যান্ড রোডের পাশেই রয়েছে ফরাসি আমলের রেজিস্ট্রি অফিস। যেখানে এক সময় আদালত বসত। ১৮৭৫ সালে চন্দননগরের রানিঘাটের পাশে এই ভবন গড়ে ওঠে। ফরাসি স্থাপত্যের অদলে তৈরি এই দ্বিতল ভবনে ফরাসি সরকারের রেজিস্ট্রি অফিস ছিল। ১৯৫০ সালে চন্দননগর ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়। তারপর থেকে অবহেলায় পড়ে রয়েছে রেজিস্ট্রি ভবনটি। আগাছার জঙ্গলে ঢাকা পড়েছে পুরো বাড়িটি। এখন তার জরাজীর্ণ অবস্থা। যে কোনও মূহূর্তে বাড়িটি ভেঙে পড়তে পারে। পরিকল্পনা অনুসারে, ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকা এই ভবনটিকে নতুন করে সংস্কার করা হবে। তার জন্য চন্দননগরের ফরাসি রাষ্ট্রদূতকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সেই অনুষ্ঠানে হাজির থাকবেন রাজ্যের পর্যটন দপ্তরের মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ ও ফরাসি দেশের প্রতিনিধিরা। সেই উপলক্ষে এখন চন্দননগরের স্ট্র্যান্ড রোডে উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, চন্দননগর মহকুমা অফিসের উল্টো দিকে অবস্থিত পুরোনো রেজিস্ট্রি অফিস ভবন সংস্কার করে আগের চেহারায় ফিরিয়ে দেওয়া হবে। এর জন্য ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ‘মউ’ স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে সেটা বাস্তবায়িত হয়নি। এ বার রাজ্যে পালা বদলের পরে নতুন সরকার সেই অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করতে চাইছে।

এ দিন চন্দননগরের বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন হুগলির অতিরিক্ত জেলাশাসক অনুজ প্রতাপ সিং এবং মহকুমাশাসক আশুতোষ কুমার। এই উপলক্ষে ১১–১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন দিন ধরে চলবে উৎসব। আলো দিয়ে সাজানো হচ্ছে চন্দননগর স্ট্যান্ড রোডকে। তৈরি হচ্ছে সাংস্কৃতিক মঞ্চ। চন্দননগরের জলভরা সন্দেশ-সহ বিভিন্ন খাবারের স্টল থাকবে।

চন্দননগর হেরিটেজ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা কল্যাণ চক্রবর্তী বলেন, ‘স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে চন্দননগরের অবদান অনস্বীকার্য। একাধিক বিপ্লবী চন্দননগরের কৃতী সন্তান ছিলেন। ইন্দো -ফরাসি উৎসবে সেই সমস্ত বিপ্লবীদের শ্রদ্ধা জানালে সেটা আলাদা মাত্রা পাবে।’

বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহ বলেন, ‘চন্দননগরের ইতিহাস রয়েছে, সংস্কৃতি রয়েছে, অনেক স্থাপত্য রয়েছে। সব কিছুকে রক্ষা করতে হবে। এই চন্দননগরই একসময় বিপ্লবীদের আত্মগোপনের জায়গা ছিল। ফ্রান্সের সঙ্গে চন্দননগরের যে আত্মিক যোগ, সেটাকে আরও সুদৃঢ় করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, চন্দননগরকে নিয়ে ট্যুরিজমের ভাবনা রয়েছে রাজ্যের।’ রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং জানিয়েছেন, কলকাতার গঙ্গায় যে রিভার ক্রুজ় চালানো হবে, সেটি ব্যান্ডেল থেকে শ্রীরামপুর হয়ে ব্যারাকপুর পর্যন্ত যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *