নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে শিবির, তবু প্রশ্ন থাকছে - 24 Ghanta Bangla News
Home

নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে শিবির, তবু প্রশ্ন থাকছে

Spread the love

এই সময়, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া: করোনা অতিমারী পর্বে পড়ুয়াদের মধ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহারে যে প্রবণতা তৈরি হয়েছিল, তা ক্রমশ ভয়াবহ আকার নিচ্ছে বলে মনে করছেন জঙ্গলমহলের দুই জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কী সেই প্রবণতায় রাশ টানা যাচ্ছে, তা নিয়ে সংশয় থাকছেই।

পুরুলিয়ার হুড়া হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক পিন্টু দে যেমন মনে করেন, ‘করোনা পর্বে পড়ুয়াদের মোবাইল নির্ভরতা কিছুটা বেড়েছিল। সেই সময়ে ভার্চুয়াল ক্লাস করা ছাড়া উপায় ছিল না। বিধি-নিষেধ ওঠার পরে শুরু হয়েছে নিয়মিত ক্লাস, কিন্তু পড়ুয়াদের একাংশের মধ্যে স্কুলেও মোবাইল ফোন নিয়ে আসার বিষয়ও সামনে আসছে। তবে সেটা উঁচু ক্লাসের পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছিল। ২০২৩-এর গোড়ার দিকে নোটিস দিয়ে পড়ুয়াদের মোবাইল ফোন স্কুলে নিয়ে আসার উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। সেই নিষেধাজ্ঞা এখনও চলছে।’

তিনি যোগ করছেন, ‘ছাত্রছাত্রীদের বোঝানো হচ্ছে, স্কুলে এলে সঙ্গে মোবাইল ফোন আনার দরকার নেই। একান্তই অভিভাবকদের প্রয়োজন পড়লে তাঁরা স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।’ স্কুলের দশম শ্রেণির পড়ুয়া শ্রাইন দত্ত বা সপ্তম শ্রেণির শ্রীপর্ণা হাজরা, অনুরিমা মণ্ডলদের কথায়, ‘স্যররা বুঝিয়েছেন, কেন ক্লাসে মোবাইল ফোন আনা উচিত নয়। এতে মনঃসংযোগ নষ্ট হয়।’

কাশীপুর জেকেএম গার্লস হাইস্কুলের শিক্ষিকা সুলেখা বাউড়িও সমর্থন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শকে। তিনি বললেন, ‘আমরা স্কুলে এই মর্মে আগেই ছাত্রীদের নোটিস দিয়েছি।’ যোগ করেন, ‘দূরের গ্রাম থেকে আগত ছাত্রীরা স্কুলের পরে টিউশন নেয়। বাড়ি ফিরতে সন্ধে হয়। অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে একাদশ এবং দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রীদের মোবাইল ফোন নিয়ে আসার ক্ষেত্রে শিথিলতা ছিল। এখন মোবাইল ফোন আনার ক্ষেত্রেই নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে।’

গোয়ালাপাড়া হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অনির্বাণ গঙ্গোপাধ্যায় মনে করেন, ‘ছাত্রছাত্রীদের মাত্রাতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারের প্রবণতা গ্রামাঞ্চলে বেশি। অভিভাবকদের সঙ্গে মিটিং হয়েছে বিদ্যালয়ে। অভিভাবকরা এগিয়ে না-এলে এই ব্যধি দূর করা সম্ভব নয়।’ মোবাইল একটি ব্যাধিতে পরিনত হয়েছে। এ ব্যাধি শিক্ষক হিসেবে একা সমাধান করা সম্ভব নয় এর জন্য অভিভাবকদেরও এগিয়ে আসতে হবে।

বাঁকুড়ার সারেঙ্গা ব্লকের জামবনি হাইস্কুলের শিক্ষক কার্তিক মাল বলছেন, ‘স্কুলে মোবাইল ফোন আনায় নিষেধাজ্ঞা দ্রুত বাস্তবায়িত করা দরকার।’ যোগ করেন, ‘নিচু ক্লাসের ছেলেমেয়েরা অতটা সাহস না-পেলেও উঁচু ক্লাসের পড়ুয়ারা মোবাইল ফোন নিয়ে স্কুলে আসছে। তাতে স্কুলের শৃঙ্খলা রক্ষা করা কঠিন হচ্ছে।’

কার্তিক মানছেন, ‘প্রযুক্তিকে উপেক্ষা বা থামিয়ে রাখা যাবে না। অনলাইন শিক্ষা বড় ভূমিকা নিয়েছে সমাজে। সে ক্ষেত্রে বাড়িতে পড়াশোনার জন্য মোবাইল ফোন ব্যবহার করা যায় কিন্তু স্কুলে তার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা দরকার। একটা বিপজ্জনক আসক্তি তৈরি হচ্ছে। তা কাটাতে ছেলেমেয়েদের বোঝাতে হবে মোবাইল ফোনের কু-প্রভাব এবং সু-প্রভাবের বিষয়টি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *