ক্রুড অয়েল ১০০ ডলার পার, পেট্রোলে ৫ টাকা ও ডিজেলে ২৩ টাকা লোকসান তেল সংস্থার - 24 Ghanta Bangla News
Home

ক্রুড অয়েল ১০০ ডলার পার, পেট্রোলে ৫ টাকা ও ডিজেলে ২৩ টাকা লোকসান তেল সংস্থার

Spread the love

Petrol Diesel Price: পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকা-ইরান উত্তেজনা নতুন করে বাড়তেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের গণ্ডি পেরিয়েছে। এর সরাসরি চাপ পড়ছে ভারতের…

Petrol Diesel Price: পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকা-ইরান উত্তেজনা নতুন করে বাড়তেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের গণ্ডি পেরিয়েছে। এর সরাসরি চাপ পড়ছে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলির উপর। বিশ্লেষকদের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান দামে পেট্রোলে প্রতি লিটারে প্রায় ৫ টাকা এবং ডিজেলে প্রায় ২৩ টাকা করে লোকসান হচ্ছে সংস্থাগুলির। অথচ দেশের পাম্পগুলিতে এখনও পেট্রোল-ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

আইসিআরএ-র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও কো-গ্রুপ হেড প্রশান্ত বশিষ্ঠ জানিয়েছেন, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর বুধবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। ভারতের ক্রুড বাস্কেটের দামও প্রায় ১০৯ ডলার প্রতি ব্যারেল-এ পৌঁছেছে।

পেট্রোলে ৫ টাকা, ডিজেলে ২৩ টাকা লোকসান

প্রাশান্ত বশিষ্ঠের হিসাব অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে এখনও পর্যন্ত অপরিশোধিত তেলের গড় দামের ভিত্তিতে তেল বিপণন সংস্থাগুলির পেট্রোলের মার্কেটিং মার্জিন প্রতি লিটারে মাইনাস ৫ টাকা এবং ডিজেলের ক্ষেত্রে মাইনাস ২৩ টাকা। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, সেই তুলনায় বর্তমান খুচরো দামে জ্বালানি বিক্রি করলে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির মার্জিনে বড় চাপ তৈরি হচ্ছে। শুধু পেট্রোল-ডিজেল নয়, গৃহস্থালির রান্নার গ্যাসেও প্রতি সিলিন্ডারে প্রায় ২০০ টাকা আন্ডার-রিকভারি তৈরি হয়েছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্রেন্ট ক্রুড ১০০ ডলারের উপরে

বুধবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ২.৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের উপরে চলে যায়। অন্যদিকে আমেরিকার ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা WTI-এর দামও প্রায় ৯৫ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

Advertisements


   


   

পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে আমেরিকা ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা এবং তার জেরে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগই তেলের দামে এই বৃদ্ধির প্রধান কারণ। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে সম্ভাব্য সরবরাহ বিঘ্নের আশঙ্কা বাজারে চাপ বাড়াচ্ছে।

ভারতের জন্য কেন বড় ঝুঁকি?

আন্তর্জাতিক তেলের দামের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ভারত অত্যন্ত সংবেদনশীল। কারণ দেশের প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের ৮৮ শতাংশেরও বেশি আমদানি করতে হয়। ফলে দীর্ঘদিন ধরে তেলের দাম বেশি থাকলে ভারতের আমদানি বিল বাড়বে। এর ফলে বাণিজ্য ঘাটতি আরও বাড়তে পারে এবং ভারতীয় টাকার উপরও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভারতীয় ক্রুড বাস্কেটের গড় দাম ৮ সেপ্টেম্বর ছিল ১০৮.৯১ ডলার প্রতি ব্যারেল। সেপ্টেম্বরে এখনও পর্যন্ত গড় দাম ১০২.১১ ডলার। তুলনায় আগস্টে গড় ছিল ৯০.১৯ ডলার এবং জুলাইয়ে ৮২.০৪ ডলার।

বিমান থেকে টায়ার, বাড়বে বহু শিল্পের খরচ

ব্রিকওয়ার্ক রেটিংসের গবেষণা প্রধান রাজীব শরণ জানিয়েছেন, OPEC+ উৎপাদন স্থির রাখায় এবং ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি এখনও বেশি থাকায় আগামী কয়েক মাসে তেলের দাম অস্থির থাকতে পারে। দাম বেশি থাকলে শুধু জ্বালানি সংস্থাই নয়, বিমান পরিবহণ, রং, টায়ার, রাসায়নিক, লজিস্টিকস এবং FMCG শিল্পের মতো তেল-নির্ভর ক্ষেত্রগুলিতেও খরচ বাড়তে পারে। অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে পরিবহণ ও উৎপাদন খরচের মাধ্যমে সামগ্রিক মূল্যবৃদ্ধির উপরও চাপ তৈরি হয়।

সুদের হার নিয়েও বাড়ছে উদ্বেগ

তেলের দাম দীর্ঘসময় ১০০ ডলারের উপরে থাকলে মূল্যবৃদ্ধির চাপ আরও বাড়তে পারে। এর প্রভাব আমেরিকার মুদ্রানীতিতেও পড়তে পারে বলে মত রাজীব শরণের। তাঁর মতে, বেশি দামের তেল আমেরিকার মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়ালে ১৬ সেপ্টেম্বরের ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠকে কড়া অবস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। ভারতের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। তেলের দাম দীর্ঘদিন বেশি থাকলে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মূল্যবৃদ্ধি ও সুদের হার সংক্রান্ত হিসাব আরও জটিল হতে পারে।

এখনই বাড়ছে না পেট্রোল-ডিজেলের দাম

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও আপাতত ভারতীয় গ্রাহকদের জন্য পেট্রোল ও ডিজেলের খুচরো দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ২৫ মে-র পর থেকে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে দেশে পেট্রোল-ডিজেলের দামে কোনও পরিবর্তন হয়নি।

সেদিন রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি পেট্রোলের দাম লিটারপ্রতি ২.৬১ টাকা এবং ডিজেলের দাম ২.৭১ টাকা বাড়িয়েছিল। এর আগে চার দফায় পেট্রোলের দাম মোট ৭.৩৫ টাকা এবং ডিজেলের দাম ৭.৫৩ টাকা বাড়ানো হয়েছিল।

এখন আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম যদি দীর্ঘদিন ১০০ ডলারের উপরে থাকে, তাহলে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির উপর এই মার্জিন চাপ কতদিন বজায় রাখা সম্ভব হবে, সেটিই বড় প্রশ্ন। তবে গ্রাহকদের উপর অতিরিক্ত খরচ কতটা এবং কখন চাপানো হবে, তা নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক তেলের দামের স্থায়িত্ব ও দেশে জ্বালানির মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্তের উপর।

আরও পড়ুন: ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি নিয়ে ভারতে Realme P4S 5G, দাম ৩৪,৯৯৯

আরও পড়ুন: মেড ইন ইন্ডিয়ায় ফের ইতিহাস! দেশের সফল মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার হচ্ছে দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর চিপ

আরও পড়ুন: DRDO র বড় সিদ্ধান্ত! এবার দেশেই তৈরী হতে চলেছে টর্পেডো সাবমেরিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *