হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলার আশঙ্কা, সৌদির আবহা-খামিস মুশাইতে সতর্কতা
Houthi Drone Attack: ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বাহিনীর নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আবহা ও খামিস মুশাইত শহরে জননিরাপত্তা সতর্কতা জারি…
Houthi Drone Attack: ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বাহিনীর নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আবহা ও খামিস মুশাইত শহরে জননিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় বাসিন্দাদের নিকটবর্তী নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার দক্ষিণ সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় হুথিদের একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে এই সতর্কতা জারি করা হয়। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলায় আবহা, খামিস মুশাইত, জিজান ও নজরান এলাকার বেসামরিক এবং অর্থনৈতিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনায় ৭৩ জন আহত হয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে।
Read More: ‘মাসুদ আজহার আফগানিস্তানে নেই!’ পাকিস্তানের দাবি খারিজ তালিবানের
আবহায় সতর্কতা, পরে বিপদ কেটে যাওয়ার ঘোষণা
সৌদি সিভিল ডিফেন্স মঙ্গলবার আবহা শহরের জন্য জরুরি সতর্কতা জারি করে। বাসিন্দাদের সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করা হয় এবং নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে কর্তৃপক্ষ জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং বিপদ কেটে গিয়েছে।
Advertisements
এরপর বুধবার একই ধরনের সতর্কতা জারি করা হয় খামিস মুশাইত শহরে। সেখানে সম্ভাব্য হুমকির কথা জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, খামিস মুশাইতেও তাৎক্ষণিক বিপদের পরিস্থিতি আর নেই এবং সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়েছে।
Read More: নতুন শিক্ষাবর্ষে কড়া পদক্ষেপ! অস্ট্রিয়ায় ১৪ বছরের নিচে হিজাবে না
একাধিক এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির দাবি
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হুথিদের হামলায় শুধু সামরিক স্থাপনাই নয়, বেসামরিক ও অর্থনৈতিক পরিকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকটি জ্বালানি ও শক্তি সংক্রান্ত স্থাপনাতেও ক্ষয়ক্ষতি এবং আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, হুথিরা মঙ্গলবারের হামলার দায় স্বীকার করেছে। তাদের দাবি, সৌদি আরবের সামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে একটি বিমানঘাঁটি এবং শক্তি পরিকাঠামোও ছিল বলে জানিয়েছে তারা।
Read More: দক্ষিণ চিন সাগরে ‘ব্রহ্মোস বলয়’: চিনের বেড়াজালে কৌশলগত ফাঁদ পাতছে ভারত?
সৌদি-হুথি সংঘাত নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
উত্তর ইয়েমেনের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণকারী হুথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের উত্তেজনা নতুন করে বাড়ায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক হামলাকে কয়েক মাসের মধ্যে সৌদি ভূখণ্ডে হুথিদের অন্যতম গুরুতর হামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাষ্ট্রসংঘের ইয়েমেন বিষয়ক দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর সতর্কবার্তা, বেসামরিক এবং জ্বালানি পরিকাঠামোর উপর হামলা সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করতে পারে এবং কূটনৈতিক সমাধানের প্রচেষ্টাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
রেড সি ও হরমুজ প্রণালির উপরও প্রভাবের আশঙ্কা
এই সংঘাতের প্রভাব শুধু সৌদি আরব বা ইয়েমেনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার আশঙ্কা নেই। রেড সি এবং হরমুজ প্রণালি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বাণিজ্যিক নৌপথ। এই দুই রুটে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে।
এর ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি পরিবহণ ব্যয়, জ্বালানি খরচ এবং মূল্যবৃদ্ধির চাপও বাড়তে পারে। ফলে সৌদি আরবের আবহা ও খামিস মুশাইতে জারি হওয়া সাম্প্রতিক নিরাপত্তা সতর্কতা মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।