Locket Chatterjee: ‘বিতর্কের কী আছে? বাঙালি পুজোয়…’, এবার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন লকেট | Bageshwar Baba non veg controversy and Loket Chatterjee’s response
বাগেশ্বর বাবা ও লকেট চট্টোপাধ্যায়Image Credit: TV9 Bangla
হুগলি: পূর্বতন সরকার যেখানে বারবার বিজেপি-কে রুখতে নিরামিষ-আমিষ ইস্যুকেই হাতিয়ার করেছিল, সেখানে দাঁড়িয়ে বিজেপি বারবার বঙ্গবাসীকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, বাংলার আচার-আচরণে, খাদ্যাভ্যাসে কোনও পরিবর্তনই আসবে না। আসেওনি। মধ্যপ্রদেশের সন্ত ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী ওরফে বাগেশ্বর বাবার বলা একটা কথাই এখন বঙ্গ রাজনৈতির চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে। তার থেকেও বড় কথা, সেই ‘বাবার’ সঙ্গে বিজেপি নেতাদের এক সঙ্গে বসে খাওয়ার ছবি শাসকদলের অস্বস্তি বাড়িয়েছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য একেবারে প্রথমেই বলে দিয়েছিলেন। এরপর মুখ খোলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার থেকে শুরু করে বিধায়ক সজল ঘোষ, দিলীপ ঘোষ – সকলেই বাগেশ্বর বাবার বলা আমিষ-বিতর্কে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন। এবার সেই তালিকায় লকেট চট্টোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট করে দিলেন, দুর্গাপুজোয় কব্জি ডুবিয়ে মাছ মাংস খাবে বাঙালি।
হুগলির পাণ্ডুয়ায় বিজেপি রাজ্য সম্পাদক লকেট চট্টোপাধ্যায় বলেন, “বাগেশ্বর বাবা তাঁর মতো বলেছেন, এটার সঙ্গে রাজনীতির কোনও কারণ নেই। বাঙালিরা যেভাবে পুজো করে আসছেন সেভাবেই পুজো করবে। বিরোধীরা সবকিছুতেই বলতে চায় বিজেপি এলে নিরামিষ করে দেবে রাজ্যকে, পুজোয় অনুদান দেবে না কিন্তু পুরোটাই ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছে। সেটা প্রমাণিত পুজোতেও অনুদান হবে এবং বাঙালিরা কব্জি ডুবিয়ে মাছ মাংস সব কিছুই খাবে।”
লকেট স্পষ্ট করেছেন, বাঙালি তাঁর সংস্কৃতি মেনেই পুজো করবে, আমিষ খাবে তাতে সরকার হস্তক্ষেপ করবে না। লকেটের কথায়, “বাগেশ্বর বাবার বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক হওয়ার কিছু নেই। আমরা আমাদের পরম্পরাকে ভাঙতে পারি না। মা আসছেন তার বাপের বাড়ি চার দিনের ছুটিতে। মা সবার সঙ্গে সিঁদুর খেলে। আমরা অষ্টমীতে অঞ্জলি দিই। খিচুড়ি খাই। নবমীতে নন ভেজ খাই। এটা আমাদের পরম্পরাতেই আছে। এটাকে ওনার বক্তব্যের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার কোন দরকার নেই।”
বাগেশ্বর বাবার আমিষ বিতর্কের মধ্যে প্রথমেই শমীক ভট্টাচার্য বলেছিলেন, কেউ যদি নিজেকে বিবেকানন্দের ওপরে ভাবেন, তাহলে বলার কিছু নেই। মঙ্গলবারই বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ বলেছেন, “আমার বাবা আমাকে যা শিখিয়েছে, আমি তাই করব। বাগেশ্বর বাবার কথা ছাড়ুন। ইনি বাংলার বাবা নন।”