‘AI-যুদ্ধে’ পাকিস্তানের ‘অপারেশন সিঁদুর’ ভিডিও, নেটপাড়ায় হাসাহাসি
অপারেশন সিঁদুরকে (Operation Sindoor) ঘিরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চলতে থাকা তথ্যযুদ্ধ এবার নতুন মাত্রা পেল। পাকিস্তান একটি এআই দিয়ে তৈরি যুদ্ধের ভিডিও প্রকাশ করেছে,…
অপারেশন সিঁদুরকে (Operation Sindoor) ঘিরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চলতে থাকা তথ্যযুদ্ধ এবার নতুন মাত্রা পেল। পাকিস্তান একটি এআই দিয়ে তৈরি যুদ্ধের ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে, অপারেশন সিঁদুরের সময় পাকিস্তান এয়ার ফোর্স ভারতীয় সামরিক এবং কৌশলগত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে বড়সড় হামলা চালিয়েছিল। ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা ও উপহাস।
‘ফিজাওন কে পাসবান’ নামে প্রকাশিত ওই ভিডিওতে পাকিস্তান এয়ার ফোর্সকে একাধিক নাটকীয় অভিযানে অংশ নিতে দেখা যায়। ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তান ভারতীয় উপগ্রহে জ্যামিং চালিয়েছে, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত করেছে এবং ভারতের বিদ্যুৎ গ্রিডের কিছু অংশ অচল করে দিয়েছে।
ভিডিওর একটি গ্রাফিকে আরও দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তান ভারতের ৩২টি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে এবং দুটি S-400 এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ধ্বংস করেছে। এছাড়া চারটি রাফাল, একটি সুখোই-৩০এমকেআই, একটি মিগ-২৯, একটি মিরাজ ২০০০ এবং একটি হেরন ড্রোন ধ্বংস করার দাবিও করা হয়েছে।
Read More: মার্চে গ্রেফতার হওয়া ম্যাথু ভ্যানডাইক সহ ৬ ইউক্রেনিওর বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশ চার্জশিট দাখিল করল NIA
Advertisements
তবে ভিডিওতে দেখানো ঘটনাগুলির বাস্তব ফুটেজ বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ দেওয়া হয়নি। বরং ভিডিওটির ভিজ্যুয়ালই এআই-নির্মিত বলে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত হয়েছে। সেই কারণেই সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই ভিডিওটিকে পাকিস্তানের প্রচারমূলক কনটেন্ট বলে কটাক্ষ করেছেন।
ভিডিওতে ভারতের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত স্থানের উপর হামলার কাল্পনিক দৃশ্যও দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সংসদ ভবন, কান্ডলা বন্দর এবং আইএনএস বিক্রান্ত।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর এক ব্যবহারকারী লেখেন, পাকিস্তান কী ধ্বংস করেছে তার কোনও বাস্তব ফুটেজ নেই, পুরো ভিডিওই এআই দিয়ে তৈরি। মন্তব্যে তিনি এটিকে ‘AI-তে যুদ্ধ, কল্পনায় জয়’ বলে ব্যঙ্গ করেন।
অন্য এক ব্যবহারকারী ভিডিওর গ্রাফিকে বানান ভুল রয়েছে বলেও দাবি করেন। আরও একজন ভিডিওটির মান নিয়ে ঠাট্টা করে লেখেন, দেখে মনে হচ্ছে ‘পুরো প্রতিরক্ষা বাজেট Canva Pro-এর সাবস্ক্রিপশন কিনতেই চলে গিয়েছে।’ আরেক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীর দাবি, ভিডিওটি পাকিস্তানের ‘মুখরক্ষা করার চেষ্টা’ বলেই মনে হচ্ছে।
Read More: ভারতে স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড পরিষেবা নিয়ে আসতে চলেছে মাস্কের ষ্টারলিংক
এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন অপারেশন সিঁদুর নিয়ে ভারত ও পাকিস্তান নিজেদের মতো করে সম্পূর্ণ ভিন্ন বয়ান তুলে ধরছে। ভারতের পক্ষ থেকে সরকারি ব্রিফিংয়ে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামোয় হামলার বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছিল। পরে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ পাকিস্তানের কয়েকটি সামরিক ঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতির উপগ্রহচিত্রও প্রকাশ করে।
এর মধ্যে নূর খান, ভোলারি এবং সারগোধা-সহ কয়েকটি পাকিস্তানি এয়ারবেসের রানওয়ে ও হ্যাঙ্গারের ক্ষয়ক্ষতির ছবি প্রকাশ্যে আসে।
পাকিস্তানের একটি S-400 ধ্বংসের দাবি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। সংঘর্ষের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আদমপুর এয়ার ফোর্স স্টেশন পরিদর্শন করেন এবং সেখানে ভারতীয় বায়ুসেনার সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার সময় একটি S-400 সিস্টেমের কাছাকাছি তাঁকে দেখা যায়। এর পরেই পাকিস্তানের ওই দাবির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
অপারেশন সিঁদুর নিয়ে তথ্যযুদ্ধের মধ্যে সম্প্রতি ডিসকভারি-ও দুই পর্বের তথ্যচিত্র ‘ডিক্লাসিফায়েড: অপারেশন সিঁদুর’ প্রকাশ করেছে। সেখানে অভিযানের সঙ্গে যুক্ত ভারতীয় সামরিক আধিকারিকদের বক্তব্য এবং আগে প্রকাশ্যে না আসা কিছু ফুটেজ দেখানো হয়েছে। ভারতীয় হামলায় পাকিস্তানের সামরিক পরিকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির দৃশ্যও তথ্যচিত্রে রয়েছে।
ফলে পাকিস্তানের এই এআই-নির্মিত ভিডিও প্রকাশের পর অপারেশন সিঁদুরকে ঘিরে তথ্য, প্রচার এবং পাল্টা প্রচারের লড়াই আরও প্রকাশ্য হয়ে উঠেছে। তবে ভিডিওতে করা পাকিস্তানের বিভিন্ন সামরিক সাফল্যের দাবিকে বাস্তব ঘটনা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার মতো স্বাধীন প্রমাণ ওই ভিডিওতে নেই।