উইল করা সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ হয়ে আত্মহত্যা যুবকের - 24 Ghanta Bangla News
Home

উইল করা সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ হয়ে আত্মহত্যা যুবকের

Spread the love

এই সময়, নরেন্দ্রপুর: ১৪ বছর ধরে নিঃসন্তান বৃদ্ধ দম্পতিকে দেখাশোনা করতেন দূর সম্পর্কের এক আত্মীয়। মৃত্যুর আগে নিজের সম্পত্তি সেই যুবককে উইল করে দিয়েছিলেন বৃদ্ধ। অসুস্থ দম্পতির চিকিৎসা করা থেকে পারলৌকিক ক্রিয়াকর্ম সবই করেছিলেন তিনি। অভিযোগ, স্থানীয় কিছু দুষ্কৃতীদের সহযোগিতায় সেই যুবককে বাড়ি থেকে উৎখাত করে দেন মালিকের আত্মীয়রা। পরিবারের দাবি, সেই অপমানে কয়েক দিন আগে গ্রামের বাড়িতে গিয়ে আত্মঘাতী হন নিগৃহীত যুবক পলাশ বাগচি। দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুর থানার গড়িয়াJ ঘটনা। ওই যুবকের পরিবার আইনের দ্বারস্থ হয়েছেন।

গড়িয়ার বাসিন্দা সবিতা ঘোষ এবং অমল ঘোষের কোনও সন্তান ছিল না। নদিয়া থেকে কলকাতায় এসে তাঁদের বাড়িতেই থাকতে শুরু করেন পলাশ। বৃদ্ধ দম্পতির দেখাশোনা, সাহায্য তিনিই করতেন। বেশ কয়েক বছর আগে মারা যান অবসরপ্রাপ্ত অমল। বছর তিনেক আগে মৃত্যু হয় সবিতারও। দু’জনেরই পারলৌকিক কাজকর্ম করেন পলাশ। পরে উইল অনুযায়ী ওই বাড়িতে বাবা–মা, দিদি ও ভাগ্নিকে নিয়ে থাকা শুরু করেন পলাশ। নদিয়ার বাড়িতে থাকতেন তাঁর স্ত্রী ও সন্তান।

অভিযোগ, সবিতার মৃত্যুর পরে অমলের পরিবারের সদস্যরা ওই বাড়ি হাতিয়ে নেওয়ার জন্য বারবার হুমকি দিতে থাকেন পলাশকে। এই ঘটনায় অভিযোগের তির অমলের ভাই ও ভাইপোদের দিকে। বিপুল ঘোষ, শ্যামল ঘোষ, সজল ঘোষ–সহ বেশ কয়েক জনের বিরুদ্ধে নরেন্দ্রপুর থানায় মারধর, বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ করেন পলাশ। কিন্তু পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ। দাবি, এরপরেই গত ২৬ অগস্ট নদিয়ার বাড়িতে গিয়ে অপমানে আত্মঘাতী হন পলাশ। তাঁর বৃদ্ধ বাবা–মা ও বোন এখন গড়িয়াতে একটি ভাড়াবাড়িতে আছেন।

পলাশের পরিবারের দাবি, পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না-করে পাল্টা তাঁদের চাপ দিচ্ছে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য। পলাশের দিদি প্রিয়া বাগচি বলেন, ‘ওই বাড়িতে আমরা দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছি। বাড়ির উইল থেকে শুরু করে ইলেকট্রিক মিটার সমস্ত কিছুই আমাদের নামে। অথচ কোনও কাগজপত্র ছাড়া আমাদের জোর করে তুলে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনকে জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি।’ সম্পত্তি নিয়ে বারুইপুর কোর্টে মামলা চলছে। সেই মামলার নিষ্পত্তি হওয়ার আগে তাঁদের কী ভাবে বাড়ি থেকে উৎখাত করা হলো তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন প্রিয়া। বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত বিকাশকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। উত্তর দেননি মেসেজেরও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *