পালাবদলে মিটতে চলেছে দেড় দশকের পথের যন্ত্রণা
এই সময়, পাঁশকুড়া: পুরসভার বয়স প্রায় দু’দশক। তৃণমূল জমানায় শহরের উন্নয়ন নিয়ে নাগরিক অসন্তোষ ছিলই। পাশাপাশি শহরের গতি আটকে যেত পাঁশকুড়া রেলব্রিজের কাছে। কেন্দ্র-রাজ্য টানাপড়েনে রেল ব্রিজের দুই দিকের রাস্তা দীর্ঘদিন মেরামত হয়নি। প্রতি বছর বর্ষায় যা কার্যত মরণফাঁদে পরিণত হয়। রাজ্যে পালাবদলের পরে দীর্ঘদিনের ওই বেহাল রাস্তা ঢালাই করার কাজ শুরু হয়েছে। খুশি স্থানীয়রা।
দক্ষিণ-পূর্ব রেলের খড়গপুর শাখায় পাঁশকুড়া জংশন স্টেশন হওয়ায় যাত্রী সমাগম যথেষ্ট বেশি। স্টেশন লাগোয়া বাজার এলাকায় প্রতিদিন রাতে জেলার অন্যতম বৃহৎ পাইকারি আনাজ ও ফল বাজার বসে। একাধিক ব্যাঙ্ক, এটিএম, গুরুত্বপূর্ণ অফিস, দোকান রয়েছে। পাঁশকুড়া বিডিও অফিসের অদূরে রেলব্রিজের নীচ দিয়ে যান চলাচল করে। ব্রিজের দুই দিকের রাস্তা তমলুক-পাঁশকুড়া রাজ্য সড়কের অন্তর্গত। ব্রিজের একদিকের রাস্তা গিয়েছে তমলুক পর্যন্ত। আরেকটি রাস্তা গিয়েছে পাঁশকুড়া স্টেশনে।
রেলব্রিজটি পাঁশকুড়া পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পড়লেও দু’দিকের রাস্তার বেশ কিছুটা অংশ দক্ষিণ-পূর্ব রেলের আওতায়। রেলের জায়গা হওয়ায় তমলুক-পাঁশকুড়া রাজ্য সড়কে মেরামতির কাজ হলেও রাস্তার ওই অংশে কাজ করতে পারত না পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন কিংবা পাঁশকুড়া পুরসভা। ফলে দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় রাস্তায় তৈরি হয় বড় বড় গর্ত। প্রতি বর্ষায় গর্তগুলিতে জল জমে রাস্তা কার্যত মরণফাঁদে পরিণত হয়। তৃণমূল আমলে রেল এবং স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে রাস্তা পরস্পরকে দোষারোপ ছাড়া কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এ বার বর্ষায় রাস্তা চলাচলের একেবারে অযোগ্য হয়ে গিয়েছে। গর্তে পড়ে ক্ষতি হচ্ছিল মালবাহী লরি থেকে ছোট গাড়ির। ঝুঁকি নিয়েই চলছে বাস।
রাস্তা বেহাল হয়ে পড়ায় আনাজ ও ফলের লরি ওই রাস্তা এড়িয়ে মেচগ্রাম হয়ে ঢুকছে পাঁশকুড়া স্টেশনে। ঘুরপথে যাতায়াতে লেভেল ক্রসিংয়ে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকতে হচ্ছে তাদের। রাজ্যে নতুন সরকার আসার পরে পাঁশকুড়া রেলব্রিজের নীচের এই রাস্তার বেহাল অংশ ঢালাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে রেল। যা নিয়ে আশার আলো দেখছেন পাঁশকুড়ার মানুষ। ইতিমধ্যে কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে।
দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান হতে চলায় খুশি গাড়িচালক থেকে স্থানীয় লোকজন। রাম সিং নামে এক লরিচালক বলেন, ‘দশ বছর ধরে আনাজের লরি নিয়ে পাঁশকুড়া স্টেশনে আসছি। রেলব্রিজের রাস্তা সবসময়ে বেহাল। এখন দেখছি রাস্তা ঢালাই হচ্ছে। আমাদের মতো লরিচালকদের জন্য স্বস্তির খবর তো বটেই।’ পাঁশকুড়া পশ্চিমের বিধায়ক সিন্টু সেনাপতি বলেন, ‘তৃণমূলের অসহযোগিতায় এতদিন এই রাস্তার সংস্কার হয়নি। আমরা সরকারে আসার পরে রাস্তাটি ঢালাই করার জন্য রেলের কাছে আবেদন জানাই। ইতিমধ্যে অনেকটাই ঢালাই হয়ে গিয়েছে। পুজোর আগে কাজ শেষ হবে।’