দিল্লির বাতাসের বিষ কমল, নাকি র‍্যাঙ্কিংয়ে চমক? শ্রীনগর-বেঙ্গালুরুকে পিছনে ফেলল রাজধানী! - 24 Ghanta Bangla News
Home

দিল্লির বাতাসের বিষ কমল, নাকি র‍্যাঙ্কিংয়ে চমক? শ্রীনগর-বেঙ্গালুরুকে পিছনে ফেলল রাজধানী!

Spread the love

নয়াদিল্লি: শহরের নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে শীতের চাদরে ঢাকা বিষাক্ত ধোঁয়াশা আর তীব্র বায়ু দূষণের ছবি। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের ‘স্বচ্ছ বায়ু সর্বেক্ষণ ২০২৬’…

নয়াদিল্লি: শহরের নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে শীতের চাদরে ঢাকা বিষাক্ত ধোঁয়াশা আর তীব্র বায়ু দূষণের ছবি। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের ‘স্বচ্ছ বায়ু সর্বেক্ষণ ২০২৬’ (Swachh Vayu Sarvekshan 2026)-এর প্রকাশিত সাম্প্রতিক র‍্যাঙ্কিংয়ে যে তথ্য সামনে এসেছে, তা এককথায় অপ্রত্যাশিত। বায়ু দূষণের দিক থেকে বারবার কাঠগড়ায় দাঁড়ানো সেই দিল্লিই পরিচ্ছন্ন বায়ু এবং দূষণ দমনের লড়াইয়ে পেছনে ফেলে দিয়েছে শ্রীনগর বা বেঙ্গালুরুর মতো শহরগুলিকে!

১০ লক্ষের বেশি জনসংখ্যা রয়েছে এমন ৪৮টি শহরের মধ্যে দিল্লি অধিকার করেছে ২১তম স্থান। রাজধানীতে এই স্কোরের পরিমাণ ১৭২। অন্য দিকে, এই তালিকায় শ্রীনগর ২৬তম (নম্বর ১৬২.৬) এবং বেঙ্গালুরু ৩২তম (নম্বর ১৫২.৬) স্থানে রয়েছে। প্রথম দেখায় এই ফলাফল যে কারও কাছেই বিভ্রান্তিকর ঠেকতে পারে। কারণ, দিল্লির বায়ুমান সূচক বা AQI প্রায়শই ৪-শো পার করে ‘সিভিয়ার’ বা চরম বিপজ্জনক স্তরে পৌঁছে যায়। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেও পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজধানীতে চতুর্থ স্তরের গ্র্যাপ (GRAP-IV) বিধি লাগু করতে বাধ্য হয়েছিল প্রশাসন।

তাহলে প্রশ্ন উঠতেই পারে, মারাত্মক দূষিত হওয়া সত্ত্বেও দিল্লি কীভাবে শ্রীনগর বা বেঙ্গালুরুর মতো শহরের চেয়ে এগিয়ে গেল?

পরিবেশ মন্ত্রক ও বিশেষজ্ঞদের মতে, এই র‍্যাঙ্কিংয়ের অর্থ এই নয় যে দিল্লির বাতাস শ্রীনগর বা বেঙ্গালুরুর চেয়ে বেশি পরিষ্কার বা এখানকার বাসিন্দারা অনেক স্বাস্থ্যকর বাতাস নিচ্ছেন। ‘স্বচ্ছ বায়ু সর্বেক্ষণ’ মূলত কোনো একদিনের বিশুদ্ধ বাতাসের মাপকাঠি নয়। বরং শহরগুলি বায়ু দূষণের উৎসগুলিকে কতটা গুরুত্ব দিয়ে মোকাবিলা করছে এবং সেই সংক্রান্ত ব্যবস্থাগুলি কতটা সফলভাবে রূপায়ণ করছে, সার্ভেতে মূলত তারই মূল্যায়ন করা হয়।

Advertisements


   


   

ন্যাশনাল ক্লিন এয়ার প্রোগ্রাম (NCAP)-এর অধীনে পরিচালিত এই সার্ভেতে রাস্তাঘাট থেকে ধুলো নিয়ন্ত্রণ, সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট, শিল্প ও যানবাহনের ধোঁয়া কমানো, এবং নির্মাণ কাজের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়গুলিকে খতিয়ে দেখা হয়। অর্থাৎ, কোনো শহরের বায়ুতে দূষণ বেশি থাকলেও, যদি প্রশাসন তা দমনে জোরালো ও উন্নত পরিকাঠামোগত পদক্ষেপ করে, তবে তারা ভালো নম্বর পেতেই পারে। বিগত বছরগুলির তুলনায় দিল্লি যেভাবে দূষণ নিয়ন্ত্রণের কাজে তৎপরতা বাড়িয়েছে, এই ২১তম স্থান তারই প্রতিফলন।

তালিকায় প্রথম স্থানে থাকা লখনউয়ের (নম্বর ১৯৮) ক্ষেত্রেও একই ছবি দেখা গেছে। লখনউয়ের বাতাসে পিএম-টেন (PM10)-এর মাত্রা জাতীয় আদর্শ সীমার ওপরে থাকা সত্ত্বেও, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বৈদ্যুতিক যানবাহন চালুর মতো কার্যকর পদক্ষেপের জেরে তারা শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দিল্লির এই ২১তম স্থানকে বায়ু পরিষ্কার হওয়ার শংসাপত্র হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এর প্রকৃত অর্থ হলো, দিল্লি অতীতে নিজের দূষণ দমনে যা করত, বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে তারা আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রশাসনিক তৎপরতা দেখাচ্ছে। দিল্লির কোটি কোটি বাসিন্দার কাছে আসল স্বস্তি তখনই আসবে, যখন এই প্রশাসনিক সদিচ্ছা বাস্তবে দূষণ কমিয়ে তাদের ফুসফুসে বিশুদ্ধ বাতাসের স্বস্তি এনে দেবে।

সম্ভলে আদালতের বড় রায়! উপড়ে ফেলতে হবে মন্দিরের জমি দখল করা দরগাহ

‘ভারতের শিল্পক্ষেত্রে বিপ্লব আনবে AI!’ নতুন প্রজন্মকে AI মুখী করতে বার্তা মোদীর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *