অবৈধ লেনদেনের আঁতুড়ঘর পুরুলিয়া, গ্রেপ্তার ছয় যুবক
এই সময়, পুরুলিয়া: ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ২১৭। প্রতারিত টাকার অঙ্ক ৮২ লক্ষ ৭৫ হাজার! ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম পোর্টাল থেকে রাজ্য পুলিশের তরফে সম্প্রতি এমনই তথ্য পৌঁছয় পুরুলিয়া সাইবার ক্রাইম পুলিশের কাছে। তথ্য অনুযায়ী এই সব অ্যাকাউন্টগুলি পুরুলিয়ার! তথ্য মিলতেই মোট ছ’জনকে গ্রেপ্তার করে পুরুলিয়া জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখা। সাইবার ক্রাইম শাখা সূত্রের খবর, বিষয়টি জানার পরে ১৮ ও ১৯ অগস্ট দুই পৃথক মামলা রুজু করে তদন্তে নামে জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখা। একটি সন্দেহজনক অ্যাকাউন্টগুলি সম্পর্কিত। অন্যটি লেনদেন সংক্রান্ত।
৩০ অগস্ট বান্দোয়ান ব্লকের ধাদিকা গ্রামের বাসিন্দা শ্যামলবরণ সহিস নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ইংরেজিতে অনার্সের কৃতী ছাত্র এবং ভাল ক্রিকেট খেলোয়াড় শ্যামল গ্রেপ্তার হতেই অনেকেই অবাকই হয়েছিলেন। জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখা সূত্র জানাচ্ছে, এই শ্যামলের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা লেনদেন করা হয়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, এটিএম থেকে টাকা তোলা, মোবাইল কলের একাধিক লোকেশন এবং আর্থিক লেনদেনের সূত্র মেলে।
এর পরে পুলিশ পুরুলিয়া শহরের বাসিন্দা আয়ুষ সিং নামে এক যুবকের সন্ধান পায়, যিনি প্রচুর সন্দেহজনক এটিএমের লেনদেনের সঙ্গে জড়িত বলে জানা যায়। ২ সেপ্টেম্বর আয়ুষ গ্রেপ্তার হন। তাঁকে জেরা করার সূত্র ধরে উঠে আসে আরও চার জনের নাম। এরাও এই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে যুক্ত।
যে চার জন গ্রেপ্তার হন, তাঁদের মধ্যে অঙ্কিত সিং পুরুলিয়া শহরের বাসিন্দা। বাকি তিন জনের একজন রকি বাউড়ি, বাড়ি পাড়া থানার চরপটিয়া গ্রামে। সন্দীপকুমার বাউড়ির বাড়ি ধানবাদ জেলার পুটকি থানার ছোট পুটকি বস্তিতে। সুরজ তিওয়ারির বাড়ি বোকারো জেলার চন্দনকিয়ারি থানার চন্দনকিয়ারিতে। তদন্তকারীদের দাবি, ঝাড়খণ্ডের দুই যুবক পুরুলিয়া শহরে একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে প্রতারণা চক্র চালাচ্ছিলেন। তাঁদের দোসর হয় পুরুলিয়ার দুই যুবক। এদের এক জন আবার প্রাক্তন ব্যাঙ্ক ম্যানেজারের ছেলে!
বিভিন্ন ব্যাঙ্কের ৩০টি শাখা থেকে ৮২ লক্ষের বেশি টাকা আত্মসাৎ হয়। তদন্তকারীদের দাবি, কোনও একটি অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা সরানোর পরে দ্রুত তাঁরা সেই অর্থ বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে ছড়িয়ে দিতেন। পরিচিত যে ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে সেই টাকা পৌঁছত, তিনি কিছু টাকা তুলে নিতেন। জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখা সূত্রের খবর, যে ২১৭টি অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলা হয়েছিল, তার সিংহভাগ পুরুলিয়া জেলার বিভিন্ন এলাকার অ্যাকাউন্ট। বাইরের কোনও অ্যাকাউন্টের খোঁজ মিললে তা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট থানায় জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
ধৃতরা কী ভাবে টোপ দিয়ে এ ভাবে বিশাল অঙ্কের টাকা তুলত, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।