যুদ্ধ লাগলে দেশের ভিতরে কোনো জায়গাই সুরক্ষিত নয়! বিস্ফোরক CDS সুব্রামনি
নয়াদিল্লি: যুদ্ধের প্রচলিত ধারণা দ্রুত বদলে যাচ্ছে। (CDS Subramani)এখন আর শুধু সীমান্ত বা যুদ্ধক্ষেত্রের নির্দিষ্ট কোনও অঞ্চলকে আক্রমণের সম্ভাব্য জায়গা হিসেবে দেখলে চলবে না। সামরিক…
নয়াদিল্লি: যুদ্ধের প্রচলিত ধারণা দ্রুত বদলে যাচ্ছে। (CDS Subramani)এখন আর শুধু সীমান্ত বা যুদ্ধক্ষেত্রের নির্দিষ্ট কোনও অঞ্চলকে আক্রমণের সম্ভাব্য জায়গা হিসেবে দেখলে চলবে না। সামরিক ঘাঁটি থেকে শুরু করে লজিস্টিক হাব, গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো এবং দেশের অভ্যন্তরের কৌশলগত সম্পদ সবই শত্রুর নিশানায় চলে আসতে পারে।
এমনই সতর্কবার্তা দিলেন ভারতের চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (CDS) জেনারেল এনএস রাজা সুব্রামণি। সোমবার সুরক্ষা সভা নামে এক নিরাপত্তা সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, আধুনিক যুদ্ধে যুদ্ধক্ষেত্রের পরিধি ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে। ফলে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব শুধু সশস্ত্র বাহিনীর হাতে সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব নয়।
আরও দেখুনঃ আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী গ্রাম উন্নয়নে ১১,৬৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দ মোদী সরকারের
জেনারেল সুব্রামণির বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাত আধুনিক যুদ্ধের নতুন বাস্তবতা সামনে এনেছে। সেনা ঘাঁটি, বিপুল সংখ্যক সেনার অবস্থান, অস্ত্র ও রসদ সরবরাহের কেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পরিকাঠামো সবকিছুই এখন আক্রমণের লক্ষ্য হতে পারে। ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং অত্যাধুনিক নির্ভুল অস্ত্রের ব্যবহার যুদ্ধের কৌশলকে আমূল বদলে দিয়েছে। তাঁর কথায়, এখন আর দেশের কোনও জায়গাকেই পুরোপুরি নিরাপদ ধরে নেওয়া যায় না।
Advertisements
এই পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির পাশাপাশি দেশের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো সুরক্ষিত রাখাও অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন CDS। (CDS Subramani)সামরিক ঘাঁটি রক্ষা করার পাশাপাশি অস্ত্র ও রসদ সরবরাহের ব্যবস্থা, শিল্প উৎপাদন এবং গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পরিকাঠামোর নিরাপত্তার ওপরও জোর দিতে হবে। কারণ দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের সময়ে কোনও একটি ব্যবস্থায় আঘাত এলে তার প্রভাব একাধিক ক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
আধুনিক যুদ্ধের ক্ষেত্রে শুধু তিন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় যথেষ্ট নয় বলেও স্পষ্ট করেছেন জেনারেল সুব্রামণি। ভবিষ্যতের যুদ্ধ হবে ‘মাল্টি-ডোমেন’ বা বহুক্ষেত্রীয়। স্থল, সমুদ্র এবং আকাশের পাশাপাশি মহাকাশ, সাইবার দুনিয়া এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধও সামরিক অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠবে। তাই সেনাবাহিনীর বিভিন্ন শাখার মধ্যে সমন্বয়ের পাশাপাশি প্রযুক্তি ও তথ্যের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
CDS আরও বলেন, ভবিষ্যতের যুদ্ধে শুধু অত্যাধুনিক প্ল্যাটফর্ম বা অস্ত্র হাতে থাকলেই সাফল্য (CDS Subramani)নিশ্চিত হবে না। প্রয়োজন হবে গোটা ব্যবস্থাকে একটি সমন্বিত ‘সিস্টেম অব সিস্টেমস’-এ পরিণত করা। অর্থাৎ যুদ্ধবিমান, যুদ্ধজাহাজ, স্থলবাহিনীর সরঞ্জাম, ড্রোন, স্যাটেলাইট, সেন্সর এবং কমান্ড সিস্টেম সবকিছুকে একটি সংযুক্ত নেটওয়ার্কের মধ্যে কাজ করতে হবে। প্ল্যাটফর্মকেন্দ্রিক চিন্তাভাবনা থেকে বেরিয়ে সক্ষমতাকেন্দ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দিকে এগোনোর প্রয়োজন রয়েছে।
এর পাশাপাশি তথ্য পাওয়ার গতি এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকেও ভবিষ্যৎ যুদ্ধের অন্যতম নির্ণায়ক বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। মহাকাশভিত্তিক নজরদারি, মানবহীন সেন্সর, ওপেন সোর্স তথ্য এবং নেটওয়ার্কভিত্তিক গোয়েন্দা ব্যবস্থার ফলে যুদ্ধক্ষেত্র আগের তুলনায় অনেক বেশি স্বচ্ছ হয়ে উঠছে।
কোনও লক্ষ্য শনাক্ত করার পর সেটিকে আঘাত করার সময়ও কয়েক ঘণ্টা থেকে কমে মিনিট, এমনকি কয়েক সেকেন্ডে নেমে এসেছে। ফলে যে পক্ষ আগে পরিস্থিতি দেখতে, বুঝতে, সিদ্ধান্ত নিতে এবং পদক্ষেপ করতে পারবে, তারাই বাড়তি সুবিধা পাবে। এই জায়গাতেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং শক্তিশালী ডেটা নেটওয়ার্ক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
তবে প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা বাড়লেও মানুষের গুরুত্ব কমবে না বলেই মনে করেন CDS।(CDS Subramani) বরং প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ সেনাকর্মীর প্রয়োজন আরও বাড়বে। ‘মানুষ বনাম যন্ত্র’-এর ধারণার বদলে প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে মানুষের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিতে হবে। একইসঙ্গে যুদ্ধের সময় সরঞ্জাম মেরামত, যন্ত্রাংশের জোগান এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী দ্রুত উৎপাদনের মতো সক্ষমতাও দেশের ভিতরে তৈরি করা জরুরি।