মহাকাশ সংস্থাকে বেসরকারিকরণের কোনও পরিকল্পনা নেই বলে স্পষ্ট করল ISRO
বেঙ্গালুরু: ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থার অংশগ্রহণ বাড়লেও ইসরোকে (ISRO) বেসরকারিকরণের কোনও পরিকল্পনা নেই। একই সঙ্গে মহাকাশ গবেষণা ও উন্নয়নে ইসরোর ভূমিকা কমানো হবে না বলেও স্পষ্ট করেছে কেন্দ্রীয় মহাকাশ সংস্থা।
ইসরোর ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্য ও প্রতিবেদনের পর সংস্থার কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে পিএসএলভি, এলভিএম৩ এবং এসএসএলভির মতো রকেটের উৎপাদন ও পরিচালন সংস্থার বাইরে চলে যাবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এর মধ্যেই রবিবার বিষয়টি স্পষ্ট করেন ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল স্পেস প্রোমোশন অ্যান্ড অথরাইজেশন সেন্টার বা ইন-স্পেসের চেয়ারম্যান পবন গোয়েঙ্কা।
‘ইসরোর ভূমিকা কোনওভাবেই কমছে না’
এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে গোয়েঙ্কা জানান, সাম্প্রতিক কিছু প্রতিবেদন ইসরোর ভবিষ্যৎ ভূমিকা সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর ধারণা তৈরি করেছে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ইসরোর ভূমিকা কোনওভাবেই কমছে না এবং ভারতীয় মহাকাশ ক্ষেত্রের ভিত্তি হিসেবেই থাকবে ইসরো। অর্থাৎ মহাকাশ ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থার অংশগ্রহণ বাড়লেও ইসরোকে সরিয়ে দেওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই।
তাহলে বেসরকারি সংস্থার ভূমিকা কী?
২০২০ সালের পর মহাকাশ ক্ষেত্রে যে সংস্কার শুরু হয়েছে, তার উদ্দেশ্য ইসরোর গুরুত্ব কমানো নয়, বরং ভারতের গোটা মহাকাশ শিল্পকে আরও বড় করে তোলা। এই ব্যবস্থায় ইন-স্পেস বেসরকারি সংস্থাগুলিকে মহাকাশ ক্ষেত্রে কাজ করার সুযোগ ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন দিতে সাহায্য করবে। অন্যদিকে নিউস্পেস ইন্ডিয়া লিমিটেড বা এনএসআইএল ইসরোর পরিণত প্রযুক্তি ও সক্ষমতাকে বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। পরিণত প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বেসরকারি শিল্পকে আরও বেশি দায়িত্ব দেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠিত লঞ্চ ভেহিকল, উপগ্রহ এবং অন্যান্য মহাকাশ ব্যবস্থার উৎপাদন ও বড় পরিসরে নির্মাণ।
Advertisements
গবেষণা ও বড় মিশনে ফোকাস করবে ISRO
বেসরকারি সংস্থাগুলি যখন প্রতিষ্ঠিত প্রযুক্তির উৎপাদন ও বাণিজ্যিকীকরণে বড় ভূমিকা নেবে, তখন ইসরো আরও বেশি করে উন্নত গবেষণা, বৈজ্ঞানিক অভিযান, কৌশলগত কর্মসূচি, নতুন প্রযুক্তি এবং জটিল পরিকাঠামো তৈরিতে মন দিতে পারবে। ইসরোর পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, সংস্থা ভবিষ্যতে সীমান্তবর্তী বা অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাবে। এর মধ্যে রয়েছে:
- মানব মহাকাশযাত্রা
- পরবর্তী প্রজন্মের লঞ্চ সিস্টেম
- গভীর মহাকাশ অভিযান
- গ্রহ অনুসন্ধান
- কৌশলগত জাতীয় সক্ষমতা
এছাড়াও ভারতের ভবিষ্যৎ মহাকাশ কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ২০৩৫ সালের মধ্যে ভারতীয় অন্তরীক্ষ স্টেশন এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ভারতীয় মহাকাশচারীকে চাঁদে পাঠানোর লক্ষ্য।
Clarification regarding media reports on concerns relating to Space Sector Reforms and the role of ISRO
ISRO’s Next Chapter: Leading India’s National Space Ecosystem
There has been considerable reporting in parts of the media around the future role of ISRO including speculations…— ISRO (@isro) September 6, 2026
ইসরোর কর্মীদের মধ্যে কেন উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল?
ইসরোর কর্মীদের নয়টি সংগঠন ৪ সেপ্টেম্বর চেয়ারম্যান ভি নারায়ণনকে চিঠি দিয়ে এই পরিবর্তনগুলি নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চায়। তাদের মূল প্রশ্ন ছিল, পিএসএলভি, এলভিএম৩ এবং এসএসএলভির মতো গুরুত্বপূর্ণ রকেটের ডিজাইন, ডেভেলপমেন্ট, ইন্টিগ্রেশন, টেস্টিং এবং লঞ্চ কি ভবিষ্যতেও ইসরোর হাতেই থাকবে? এর পাশাপাশি অনুমোদিত পদ, খালি পদ, নিয়োগ এবং ভবিষ্যতে ইসরোর কর্মীসংখ্যা ও মানবসম্পদ কাঠামো কী হবে, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
এই প্রশ্নের সূত্রপাত মূলত ২১ অগস্টের একটি অনুষ্ঠানে গোয়েঙ্কার বক্তব্যকে ঘিরে। সেখানে তাঁর বক্তব্য হিসেবে এমন ধারণা সামনে আসে যে ভবিষ্যতে লঞ্চ ভেহিকলের উৎপাদন বেসরকারি সংস্থা অথবা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার হাতে যেতে পারে। কর্মী সংগঠনগুলির বক্তব্য ছিল, শক্তিশালী সরকারি মালিকানাধীন ইসরোর পাশাপাশি বেসরকারি অংশগ্রহণ থাকতেই পারে। তবে পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে আরও স্বচ্ছতা প্রয়োজন।
‘প্রযুক্তি হস্তান্তর মানেই ISRO সরে যাচ্ছে না’
ইসরোর বক্তব্য, কোনও পরিণত প্রযুক্তি বেসরকারি শিল্পের হাতে তুলে দেওয়া মানেই সেই ক্ষেত্র থেকে ইসরো সরে যাচ্ছে না। বরং প্রতিষ্ঠিত প্রযুক্তি শিল্পের হাতে গেলে উৎপাদন বাড়ানো, বাণিজ্যিকীকরণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় মহাকাশ প্রযুক্তির প্রবেশ আরও সহজ হতে পারে। এর ফলে ইসরো তুলনামূলকভাবে এমন প্রযুক্তি ও মিশনে বেশি সময় দিতে পারবে, যেগুলি এখনও গবেষণা ও উন্নয়নের পর্যায়ে রয়েছে।
২০৩০ সালে বছরে ৫০টি মহাকাশ উৎক্ষেপণের লক্ষ্য
ভারত ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে ৫০টি মহাকাশ উৎক্ষেপণ করার লক্ষ্য নিয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জন করতে হলে শুধু সরকারি সংস্থার উপর নির্ভর করে থাকা সম্ভব নয় বলে মনে করা হচ্ছে। ইসরো, ইন-স্পেস, এনএসআইএল এবং বেসরকারি শিল্পকে একসঙ্গে কাজ করেই সেই ক্ষমতা তৈরি করতে হবে।
তাই সরকারের বর্তমান মহাকাশ নীতির লক্ষ্য ছোট ইসরো তৈরি করা নয়, বরং আরও বড় ভারতীয় মহাকাশ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা। সেই ব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠিত প্রযুক্তির উৎপাদন ও বাণিজ্যিকীকরণে বেসরকারি সংস্থার ভূমিকা বাড়বে, আর একই সঙ্গে ভারতের মহাকাশ গবেষণা ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির কেন্দ্রে ইসরোর অবস্থান বজায় থাকবে।
আরও পড়ুন: ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি নিয়ে ভারতে Realme P4S 5G, দাম ৩৪,৯৯৯
আরও পড়ুন: মেড ইন ইন্ডিয়ায় ফের ইতিহাস! দেশের সফল মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার হচ্ছে দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর চিপ
আরও পড়ুন: DRDO র বড় সিদ্ধান্ত! এবার দেশেই তৈরী হতে চলেছে টর্পেডো সাবমেরিন