মহাকাশ গবেষণায় সাফল্য! ১০০ মিলিয়ন তহবিল সংগ্রহ করে রেকর্ড গড়ল স্পেস স্টার্টআপ পিক্সেল
বেঙ্গালুরু: ভারতীয় মহাকাশ গবেষণায় ফের সুখবর। (Pixxel)বেঙ্গালুরুভিত্তিক স্পেস স্টার্টআপ পিক্সেল সিরিজ সি রাউন্ডে ১০০ মিলিয়ন ডলার তহবিল সংগ্রহ করেছে। এটি ভারতের কোনো মহাকাশ প্রযুক্তি কোম্পানির…
বেঙ্গালুরু: ভারতীয় মহাকাশ গবেষণায় ফের সুখবর। (Pixxel)বেঙ্গালুরুভিত্তিক স্পেস স্টার্টআপ পিক্সেল সিরিজ সি রাউন্ডে ১০০ মিলিয়ন ডলার তহবিল সংগ্রহ করেছে। এটি ভারতের কোনো মহাকাশ প্রযুক্তি কোম্পানির একক বৃহত্তম তহবিল সংগ্রহের রেকর্ড। এই সাফল্য দেশের বেসরকারি মহাকাশ খাতের ক্রমবর্ধমান সম্ভাবনাকে আরও একবার প্রমাণ করে দিল।
পিক্সেল পৃথিবী পর্যবেক্ষণের কাজ করে। কোম্পানিটি উচ্চ রেজোলিউশনের হাইপারস্পেকট্রাল ইমেজিং স্যাটেলাইট তৈরি করে এবং সেই তথ্য বিশ্লেষণের সফটওয়্যারও তৈরি করে। সাধারণ ক্যামেরা যা দেখতে পায় না, হাইপারস্পেকট্রাল প্রযুক্তি সেই অদৃশ্য তথ্যও ধরতে পারে। ফসলের স্বাস্থ্য, খনিজ সম্পদ, পরিবেশ দূষণ, বনভূমির অবস্থা এমন অনেক বিষয়ে সূক্ষ্ম তথ্য পাওয়া যায় এই প্রযুক্তির মাধ্যমে।
আরও দেখুনঃ যতদিন বেঁচে থাকব জিহাদের পথে থাকব! ভারতকে হুমকি জঙ্গি হাফিজ সাঈদ পুত্র তালহার
এই রাউন্ডে নেতৃত্ব দিয়েছে সিঙ্গাপুরের রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ সংস্থা তেমাসেক এবং ব্রিটিশ স্পেস টেক ভেঞ্চার ফার্ম সেরাফিম। (Pixxel)এর পাশাপাশি রয়েছে র্যাডিক্যাল ভেঞ্চারস, গ্রোএক্স ভেঞ্চারসসহ নতুন কিছু বিনিয়োগকারী। এর ফলে পিক্সেলের মোট তহবিলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৯৫ মিলিয়ন ডলারে। গুগলও আগে এই কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেছে।
Advertisements
প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও আওয়াইস আহমেদের নেতৃত্বে পিক্সেল (Pixxel)গত কয়েক বছরে দ্রুত এগিয়েছে। ইতিমধ্যে তাদের ফায়ারফ্লাই স্যাটেলাইট কনস্টেলেশনের কয়েকটি উপগ্রহ কক্ষপথে কাজ করছে। নতুন তহবিল দিয়ে তারা হানিবি নামের পরবর্তী প্রজন্মের স্যাটেলাইট তৈরি করবে। পাশাপাশি উচ্চ রেজোলিউশনের অপটিক্যাল ইমেজিং এবং অন্যান্য সেন্সর প্রযুক্তি যোগ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
অরোরা নামের তাদের অ্যানালিটিক্স প্ল্যাটফর্মকে আরও শক্তিশালী করা হবে, যাতে কাঁচা তথ্যকে সহজে ব্যবহারযোগ্য অন্তর্দৃষ্টিতে রূপান্তর করা যায়।ভারত সরকার মহাকাশ খাতকে বেসরকারি খাতের জন্য উন্মুক্ত করার পর যেসব স্টার্টআপ এগিয়ে এসেছে, পিক্সেল তাদের মধ্যে অন্যতম উজ্জ্বল উদাহরণ। ইসরোর পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগগুলো এখন স্যাটেলাইট তৈরি, উৎক্ষেপণ এবং তথ্য সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
পিক্সেলের এই তহবিল সংগ্রহ সেই ধারাকে আরও বেগবান করবে বলে মনে করছেন (Pixxel)বিশেষজ্ঞরা।নতুন পুঁজি দিয়ে কোম্পানি ভারতে স্যাটেলাইট উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াবে। গিগাপিক্সেল নামে একটি উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে বছরে অনেক বেশি সংখ্যক উপগ্রহ তৈরি করা যাবে। একই সঙ্গে আমেরিকাতেও তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।
বিশ্ব বাজারে প্রতিযোগিতা করতে হলে উৎপাদন ক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা দুটোই বাড়ানো জরুরি।হাইপারস্পেকট্রাল ইমেজির চাহিদা বিশ্বজুড়ে বাড়ছে। কৃষি, খনি, পরিবেশ পর্যবেক্ষণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং প্রতিরক্ষা খাতে এর ব্যবহার বাড়ছে। পিক্সেল এই বাজারে ভারতীয় প্রযুক্তিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়। তাদের তথ্য শুধু ছবি নয়, বরং সিদ্ধান্ত নেওয়ার উপযোগী বিশ্লেষণও সরবরাহ করে। এতে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলো উপকৃত হতে পারে।