জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরি মণিপুরে শুরু হবে NRC? জল্পনা তুঙ্গে - 24 Ghanta Bangla News
Home

জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরি মণিপুরে শুরু হবে NRC? জল্পনা তুঙ্গে

Spread the love

মণিপুরে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি বা এনআরসি নিয়ে নতুন করে আলোচনা জোরালো হয়ে উঠেছে(Manipur)। কেন্দ্রীয় সরকার সম্প্রতি রাজ্যে আদমশুমারি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত এসেছে…

মণিপুরে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি বা এনআরসি নিয়ে নতুন করে আলোচনা জোরালো হয়ে উঠেছে(Manipur)। কেন্দ্রীয় সরকার সম্প্রতি রাজ্যে আদমশুমারি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত এসেছে এনআরসি বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভের পরপরই। এখন প্রশ্ন উঠছে মণিপুর কি পরবর্তী বড় এনআরসি ময়দান হতে চলেছে?

আদমশুমারির হাউস লিস্টিং পর্ব শুরু হওয়ার কথা ছিল ১ সেপ্টেম্বর। (Manipur)কিন্তু মেইতেই, নাগা এবং কিছু নাগরিক সংগঠনের তীব্র বিরোধিতার মুখে কেন্দ্র সেই প্রক্রিয়া স্থগিত করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নেতৃত্বে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে মণিপুরের রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। জনগণের অনুভূতি ও দাবি বিবেচনা করে আদমশুমারি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

আরও দেখুনঃ বিশ্বকাপ জয়ী কাফুর হাত ধরে উত্তরবঙ্গের ফুটবলে নতুন যুগের সূচনা দার্জিলিংয়ে

এরপর মণিপুর বিধানসভা তৃতীয়বারের মতো প্রস্তাব পাস করেছে। বিধানসভা কেন্দ্রকে অনুরোধ জানিয়েছে আদমশুমারির আগে যেন রাজ্যে এনআরসি বাস্তবায়ন করা হয়। ২০২২ এবং ২০২৪ সালেও একই ধরনের প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল। এবারের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, রাজ্য ও জাতির স্বার্থেই এনআরসি আগে প্রয়োজন।বিজেপি নেতা সম্বিৎ পাত্র এই স্থগিতাদেশকে স্বাগত জানিয়েছেন।

Advertisements


   


   

তিনি বলেছেন, এনআরসির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সময়মতো নেবে। আপাতত আদমশুমারি স্থগিতের দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনো ঘোষণা করা হয়নি।মণিপুরে এনআরসির দাবি নতুন নয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবেশী মায়ানমার থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশের ফলে জনতাত্ত্বিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।

মেইতেই ও নাগা সম্প্রদায়ের অনেকে মনে করেন, ১৯৫১ সালকে ভিত্তি বছর ধরে এনআরসি হলে আসল নাগরিকদের চিহ্নিত করা যাবে। অন্যদিকে কুকি-জো সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। তাঁরা আশঙ্কা করছেন, এমন প্রক্রিয়ায় প্রকৃত বাসিন্দারাও বাদ পড়তে পারেন।রাজ্যে ২০২৩ সাল থেকে চলা জাতিগত সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

আদমশুমারি ও সীমানা পুনর্নির্ধারণের আগে নাগরিকত্ব নির্ধারণ না হলে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বে প্রভাব পড়তে পারে বলে একপক্ষ মনে করছেন। অন্যপক্ষ বলছেন, সংঘাতপূর্ণ পরিবেশে এনআরসি নতুন উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।কেন্দ্রীয় সরকার এখনো এনআরসি বাস্তবায়নের কোনো সময়সূচি দেয়নি। শুধু আদমশুমারি স্থগিত রেখেছে। বিধানসভার প্রস্তাব এবং নাগরিক সংগঠনগুলোর চাপ অব্যাহত থাকায় বিষয়টি জাতীয় মনোযোগ আকর্ষণ করছে।

অসমের এনআরসি প্রক্রিয়ার অভিজ্ঞতা সামনে রেখে অনেকেই সতর্ক থাকতে বলছেন। সেখানে দীর্ঘ সময় ও বিপুল খরচের পরও বিতর্ক শেষ হয়নি।মণিপুরের (Manipur)পরিস্থিতি ভিন্ন। এখানে ইতিমধ্যে জাতিগত বিভাজন গভীর। এনআরসি নিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলে সব সম্প্রদায়ের আস্থা অর্জন করতে হবে। অন্যথায় এটি নতুন সংঘাতের কারণ হয়ে উঠতে পারে। কেন্দ্রের নীতিনির্ধারকরা এখন চাপের মুখে। একদিকে স্থানীয় দাবি, অন্যদিকে জাতীয় নাগরিকত্ব নীতির সামগ্রিক প্রভাব দুটোই বিবেচনায় রাখতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *