ব্রাজ়িল আসার আগেই শহর মাতালেন কাফু, দিলেন প্রান্তিক শিশুদের বিশেষ উপহার
৩ অক্টোবর কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ফিফা ফ্রেন্ডলি ম্যাচে মুখোমুখি হবে ভারত ও ব্রাজ়িল। মেগা ম্যাচ নিয়ে উন্মাদনার পারদ চড়ছে বাংলার ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে। তার আগেই এক বড় চমকের সাক্ষী রইল কলকাতা। ২০০২ সালে ব্রাজ়িলের বিশ্বকাপজয়ী ক্যাপ্টেন এবং কিংবদন্তি ফুটবলার কাফু ঘুরে গেলেন কলকাতায়। একটি ইভেন্টে অংশ নিয়ে প্রান্তিক পরিবারের শিশুদের হাতে ফুটবল তুলে দিলেন তিনি। সই করলেন তাঁদের জার্সিতে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও। বিশ্বজয়ী এই ফুটবলারের সান্নিধ্যে এসে উচ্ছ্বসিত কচিকাঁচারাও। কী কী হলো এই ইভেন্টে?
প্রান্তিক পরিবারের শিশুদের হাতে ফুটবল তুলে দিলেন কাফু
‘আমার শহর আমার মানুষ’ নামে রাজ্য সরকারের এক উদ্যোগে অংশ নিয়েছিলেন ব্রাজ়িলের কিংবদন্তি ফুটবলার কাফু। যে অনুষ্ঠানের গুডউইল পার্টনার ছিল ‘এই সময়’। প্রান্তিক পরিবারের শিশুদের হাতে ফুটবল তুলে দিলেন তিনি। কাফুকে উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করে নেন এই সময় সংবাদপত্রের সম্পাদক হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়। খুদে ফুটবলপ্রেমীদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে খুশি কাফুও।
২০০২ সালে ব্রাজ়িলের হয়ে বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কের মুখেও ছিল হাসি। হাসিমুখে কচিকাঁচাদের সঙ্গে ছবি তুললেন তিনি। আবদার মিটিয়ে দেদার অটোগ্রাফ দিলেন। সই করে দিলেন অনেকের জার্সিতেও। কাফুর সঙ্গে হাত মেলাতেও দেখা যায় ছোটদের। অনেকে প্রণাম করে কাফুকে।
কী জানালেন অগ্নিমিত্রা পাল?
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও। তিনি বলেন, ‘কাফু যে ভাবে সাধারণ পরিবেশ থেকে উঠে এসে তিনটি বিশ্বকাপ খেলেছেন, তা অবশ্যই অনুপ্রেরণা। এই কচিকাঁচাদের সেটাই শেখা উচিত। ওরাও সেই ধরনের পরিবেশেই বড় হচ্ছে। তাই দেশের জন্য পদক জিততে হবে, এই বাসনা ও জেদটা মনের মধ্যে রাখতে হবে। সরকার উন্নত মানের পরিকাঠামো দেবে। খেলো ইন্ডিয়া-র মতো প্রকল্পের মাধ্যমে সাহায্য করা হচ্ছে। শুধু ফুটবল নয়, সব ধরনের খেলার ক্ষেত্রেই পরিকাঠামো তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। তবে ওদেরও নিজের সেরাটা দিতে হবে।’
এর পাশাপাশি মেসি কাণ্ডের কথা টেনে অগ্নিমিত্রা বলেন, ‘কয়েক মাস আগে বাংলার ফুটবলপ্রেমীদের স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল। মেসিকে দেখতে পাননি তাঁরা। আজ এই কচিকাঁচাদের কাফুর হাত থেকে ফুটবল নেওয়া বা সান্নিধ্যে আসা স্বপ্নপূরণেরই সমান। সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয়, কাফুর থেকে ওদের শেখা।’
‘কাফু, কাফু…’ চিৎকারে শুরু হয়েছিল ইভেন্ট। শেষও হয় সেটা দিয়েই। কাফুকে একবার ছোঁয়ার জন্য, তাঁর সঙ্গে কথা বলার জন্য সমস্ত ভিড়, ধাক্কা পেরিয়ে পৌঁছে গিয়েছিল কচিকাঁচারা। ইভেন্ট শেষে তাদের গলায় ঝরে পড়ল সেই আনন্দই।