Sigma থেকে Alpha (O), কোন ভ্যারিয়েন্টে কোন ইঞ্জিন-গিয়ারবক্স?
গুরুগাঁও: ভারতের হ্যাচব্যাক বাজারে নতুন SUV-এর দাপটে একসময়কার জনপ্রিয় মডেলগুলির উপস্থিতি কিছুটা কমেছে। তবে প্রথম গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে এখনও অনেক ক্রেতার পছন্দ হ্যাচব্যাক। এই সেগমেন্টে…
গুরুগাঁও: ভারতের হ্যাচব্যাক বাজারে নতুন SUV-এর দাপটে একসময়কার জনপ্রিয় মডেলগুলির উপস্থিতি কিছুটা কমেছে। তবে প্রথম গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে এখনও অনেক ক্রেতার পছন্দ হ্যাচব্যাক। এই সেগমেন্টে অন্যতম জনপ্রিয় নাম মারুতি সুজুকি ব্যালেনো (Maruti Baleno)। সম্প্রতি নিজেদের অন্যতম বেশি বিক্রি হওয়া মডেল ব্যালেনোকে নতুনভাবে আপডেট করেছে মারুতি সুজুকি। ২০২৬ ব্যালেনো ফেসলিফটে এসেছে নতুন ডিজাইন, অতিরিক্ত ফিচার, নতুন ইঞ্জিন এবং একাধিক পাওয়ারট্রেন অপশন। ফলে কোন ভ্যারিয়েন্টে কোন ইঞ্জিন ও গিয়ারবক্স পাওয়া যাচ্ছে, তা জানা গুরুত্বপূর্ণ।
কোন ভ্যারিয়েন্টে কোন পাওয়ারট্রেন?
নতুন ব্যালেনোর পাওয়ারট্রেন অপশনগুলি ভ্যারিয়েন্ট অনুযায়ী এমন:
| ভ্যারিয়েন্ট | ১.২-লিটার পেট্রোল MT | ১.২-লিটার পেট্রোল AMT | ১.২-লিটার সিএনজি MT |
| Sigma | ✅ | ❌ | ❌ |
| Delta | ✅ | ✅ | ✅ |
| Zeta | ✅ | ✅ | ✅ |
| Alpha | ✅ | ✅ | ❌ |
| Alpha (O) | ✅ | ✅ | ❌ |
অর্থাৎ Sigma ছাড়া বাকি সব ভ্যারিয়েন্টেই AMT গিয়ারবক্সের অপশন রয়েছে।
অন্যদিকে, ব্যালেনোর টপ-স্পেক Alpha এবং Alpha (O) ভ্যারিয়েন্টে সিএনজি পাওয়ারট্রেন দেওয়া হয়নি। ফলে যাঁরা টপ ভ্যারিয়েন্টের ফিচারের সঙ্গে সিএনজি চান, তাঁদের জন্য এই বিষয়টি কিছুটা হতাশাজনক হতে পারে। Delta এবং Zeta হল একমাত্র দুটি ভ্যারিয়েন্ট যেখানে ব্যালেনো ফেসলিফটের তিনটি পাওয়ারট্রেন অপশনই পাওয়া যায়।
Advertisements
নতুন ১.২-লিটার ইঞ্জিনে কী রয়েছে?
২০২৬ মারুতি সুজুকি ব্যালেনো ফেসলিফটে নতুন ১.২-লিটার ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড পেট্রোল ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে। এর সঙ্গে সিএনজি সংস্করণও রয়েছে।
পেট্রোল ইঞ্জিন
- ইঞ্জিন: ১.২-লিটার ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড পেট্রোল
- সর্বোচ্চ শক্তি: ৮৩ পিএস
- সর্বোচ্চ টর্ক: ১১২ এনএম
- গিয়ারবক্স: ৫-স্পিড ম্যানুয়াল, ৫-স্পিড এএমটি
সিএনজি ইঞ্জিন
- ইঞ্জিন: ১.২-লিটার ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড পেট্রোল-সিএনজি
- সর্বোচ্চ শক্তি: ৭০ পিএস
- সর্বোচ্চ টর্ক: ১০২ এনএম
- গিয়ারবক্স: ৫-স্পিড ম্যানুয়াল
এখানে এমটি বলতে ম্যানুয়াল ট্রান্সমিশন এবং এএমটি বলতে অটোমেটেড ম্যানুয়াল ট্রান্সমিশন বোঝানো হচ্ছে।
নতুন ইঞ্জিন কেন গুরুত্বপূর্ণ?
নতুন ইঞ্জিন আনার মূল লক্ষ্য হল ফুয়েল এফিশিয়েন্সি এবং শহরের রাস্তায় ড্রাইভিংয়ের সুবিধা বাড়ানো। মারুতি সুজুকির সাধারণ ক্রেতাদের কাছে এই দুই বিষয় বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। আগের ইঞ্জিনটি গাড়িপ্রেমীদের কাছে যথেষ্ট জনপ্রিয় ছিল। তবে নতুন জেড১২ই ইঞ্জিন ইতিমধ্যেই মারুতি সুইফট এবং ডিজায়ারের মতো মডেলে নিজের ব্যবহারিক দিকের সক্ষমতা দেখিয়েছে। ফলে ব্যালেনো ফেসলিফটে পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দৈনন্দিন ব্যবহারে কম খরচ এবং সহজ ড্রাইভিংয়ের দিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ফিচারে কতটা আপডেটেড নতুন ব্যালেনো?
২০২৬ ব্যালেনো ফেসলিফটে দেওয়া হয়েছে বড় ১০.১-ইঞ্চি ইনফোটেইনমেন্ট টাচস্ক্রিন। এর ইউজার ইন্টারফেসও আপডেট করা হয়েছে। এছাড়াও রয়েছে:
- ওয়্যারলেস অ্যান্ড্রয়েড অটো
- ওয়্যারলেস অ্যাপল কারপ্লে
- ওয়্যারলেস ফোন চার্জার
- অটোমেটিক ক্লাইমেট কন্ট্রোল
- ভেন্টিলেটেড ফ্রন্ট সিট
- ইউএসবি টাইপ-সি চার্জিং পোর্ট
নিরাপত্তায় Level 2 ADAS
নতুন ব্যালেনোর অন্যতম বড় আকর্ষণ হল লেভেল-২ এডিএএস। এই সেগমেন্টে এটি ব্যালেনোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা আপগ্রেড। এডিএএস-এর মধ্যে রয়েছে:
- রিয়ার ক্রস ট্রাফিক অ্যালার্ট
- ব্লাইন্ড স্পট ওয়ার্নিং
- সেফ এক্সিট ওয়ার্নিং
এর পাশাপাশি গাড়িতে রয়েছে ৬টি এয়ারব্যাগ, ৩৬০-ডিগ্রি ক্যামেরা, টায়ার প্রেসার মনিটরিং সিস্টেম, হিল স্টার্ট অ্যাসিস্ট, ইলেকট্রনিক স্ট্যাবিলিটি কন্ট্রোল এবং আইএসওফিক্স চাইল্ড সিট অ্যাঙ্কর।
দাম ও প্রতিদ্বন্দ্বী
নতুন মারুতি সুজুকি ব্যালেনো ফেসলিফটের প্রারম্ভিক দাম ৬.১০ লাখ টাকা (এক্স-শোরুম), যা Sigma ভ্যারিয়েন্টের জন্য। উচ্চতর ভ্যারিয়েন্টগুলির দাম এখনও প্রকাশ করা হয়নি। ব্যালেনো ফেসলিফটের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে রয়েছে হুন্ডাই আই২০, টাটা অল্ট্রোজ এবং টয়োটা গ্লানজা।
কোন ভ্যারিয়েন্ট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ?
পাওয়ারট্রেনের দিক থেকে Delta এবং Zeta সবচেয়ে বেশি নমনীয়, কারণ এই দুই ভ্যারিয়েন্টেই পেট্রোল ম্যানুয়াল, পেট্রোল এএমটি এবং সিএনজি ম্যানুয়াল, তিনটি অপশনই রয়েছে। অন্যদিকে, যারা টপ-এন্ড ফিচার এবং এডিএএস চান, তাঁদের জন্য Alpha বা Alpha (O) বেশি আকর্ষণীয় হতে পারে। তবে এই দুই ভ্যারিয়েন্টে সিএনজি নেই।
আরও পড়ুন: ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি নিয়ে ভারতে Realme P4S 5G, দাম ৩৪,৯৯৯
আরও পড়ুন: মেড ইন ইন্ডিয়ায় ফের ইতিহাস! দেশের সফল মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার হচ্ছে দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর চিপ
আরও পড়ুন: DRDO র বড় সিদ্ধান্ত! এবার দেশেই তৈরী হতে চলেছে টর্পেডো সাবমেরিন