সামনে ৩ দফা কৌশল! ইরান যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্পের ‘বড় পরিকল্পনা’ - 24 Ghanta Bangla News
Home

সামনে ৩ দফা কৌশল! ইরান যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্পের ‘বড় পরিকল্পনা’

Spread the love

নয়াদিল্লি: ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে চাইছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। শুধু ইরানকে মোকাবিলা নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক…

নয়াদিল্লি: ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে চাইছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। শুধু ইরানকে মোকাবিলা নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সমীকরণ নতুন করে সাজানোর জন্য একটি বিস্তৃত পরিকল্পনা তৈরি করছে ট্রাম্প প্রশাসন বলে দাবি করেছে অ্যাক্সিওস

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিকল্পনাটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে এর মূল লক্ষ্য হতে পারে ইরানকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে মধ্যপ্রাচ্যে একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক জোট তৈরি করা এবং ইজরায়েলের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলির সম্পর্ক আরও গভীর করা। ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে ঘনিষ্ঠ মহলে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের জন্য তিনি “আরও অনেক বড় কিছু” করার পরিকল্পনা করছেন।

কী রয়েছে ট্রাম্পের পরিকল্পনায়?

মার্কিন আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পরিকল্পনাটি শুধু হোয়াইট হাউসের কয়েকজন শীর্ষ উপদেষ্টা তৈরি করছেন না। মার্কিন সরকারের বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকরাও এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। পরিকল্পনার তিনটি প্রধান দিক নিয়ে আলোচনা চলছে।

আরও পড়ুন:বাংলার বিজ্ঞাপনে আইফেল টাওয়ার-পিরামিড! ‘বিশ্ব বাংলা’ মুছতে গিয়ে বিতর্কে রাজ্য

Advertisements


   


   

১. ইরানের বিরুদ্ধে আঞ্চলিক জোট

প্রথম লক্ষ্য হল মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার মিত্র দেশগুলিকে ইরানের বিরুদ্ধে আরও ঘনিষ্ঠভাবে একজোট করা। এই ব্যবস্থায় ওয়াশিংটন নিজেকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার গ্যারান্টর হিসেবে তুলে ধরতে পারে। অর্থাৎ, ইরানের বিরুদ্ধে কোনও বড় নিরাপত্তা সংকট তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলিকে মার্কিন সামরিক ও কূটনৈতিক সহায়তার আওতায় আনার চেষ্টা হতে পারে।তবে এই পরিকল্পনায় মধ্যপ্রাচ্যের সব মার্কিন মিত্র শেষ পর্যন্ত রাজি হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

২. ইজরায়েল ও প্রতিবেশী দেশগুলির সংঘাত কমানো

পরিকল্পনার দ্বিতীয় অংশে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর তৈরি হওয়া বিভিন্ন সংঘাত ও উত্তেজনা ধীরে ধীরে কমানোর উদ্যোগ থাকতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। পাশাপাশি ইজরায়েল ও সিরিয়ার মধ্যে একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা এবং ইজরায়েল-লেবানন চুক্তিকে কার্যকর করার উদ্যোগও পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। অর্থাৎ, ইরানকে মোকাবিলার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য সংঘাতও নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করবে ট্রাম্প প্রশাসন।

আরও পড়ুন: মহারাষ্ট্রে গরবা-ডান্ডিয়া উৎসবে মুসলিম প্রবেশ নিষেধ! আর্জি বিশ্ব হিন্দু পরিষদের

৩. সৌদি আরব-ইজরায়েল সম্পর্ক স্বাভাবিক করা

পরিকল্পনার তৃতীয় এবং সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হল আব্রাহাম অ্যাকর্ডস আরও সম্প্রসারণ করা। এর পাশাপাশি ইজরায়েল ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য একটি চুক্তি করানোর চেষ্টা হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য সৌদি-ইজরায়েল সমঝোতা একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ইরান যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্পের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবেও এই চুক্তিকে তুলে ধরা সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে।

ইজরায়েলের নির্বাচন বড় বাধা হতে পারে

ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনার সামনে অবশ্য রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাও রয়েছে। ইজরায়েলে আগামী ২৭ অক্টোবর নির্বাচন হওয়ার কথা। এর কয়েকদিন পর নভেম্বরে আমেরিকাতেও মধ্যবর্তী নির্বাচন রয়েছে। ট্রাম্পের দল আশা করছে, ইজরায়েলের নির্বাচনের পর যে সরকার ক্ষমতায় আসবে, তারা ওয়াশিংটনের নতুন মধ্যপ্রাচ্য কৌশলের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী হবে। তবে ইজরায়েলের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পুরোপুরি পরিষ্কার হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চাইছে না ট্রাম্প প্রশাসন। সূত্রগুলির দাবি, নির্বাচনের ফলাফলে ফের রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হলেও ট্রাম্প তাঁর পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন।

এখনও চূড়ান্ত হয়নি পরিকল্পনা

ট্রাম্প ইতিমধ্যেই গত কয়েক সপ্তাহে শীর্ষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে অন্তত দু’টি বৈঠকে এই উদীয়মান কৌশল নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বৈঠকগুলিতে বিভিন্ন প্রস্তাব ও ধারণা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত হতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রক্রিয়াটির সঙ্গে পরিচিত এক ব্যক্তি। তাঁর ভাষায়, পরিকল্পনাটি এখনও তৈরি হচ্ছে, সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়নি।

সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, মূল ভাবনা হল ইরান যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন বিষয়কে একটি বৃহত্তর কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা এবং যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে একটি আঞ্চলিক সমন্বয় ব্যবস্থা তৈরি করা। তবে এই পরিকল্পনায় মধ্যপ্রাচ্যের সব মার্কিন মিত্র শেষ পর্যন্ত একসঙ্গে থাকবে কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

ইরান যুদ্ধের পর ট্রাম্প প্রশাসনের এই সম্ভাব্য কৌশল কার্যকর হলে তা শুধু আমেরিকা ও ইরানের সম্পর্ক নয়, ইজরায়েল, সৌদি আরব, সিরিয়া, লেবানন এবং গোটা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সমীকরণেও বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *