মণিপুরে ফের বন্দুকযুদ্ধ! নিরাপত্তাবাহিনীর অভিযানে নিহত ২ UKNA জঙ্গি
ইম্ফল: মণিপুরে ফের নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষে উত্তেজনা ছড়াল। (Manipur )চূড়াচাঁদপুর জেলায় ভারতীয় সেনা ও অসম রাইফেলসের যৌথ অভিযানে United Kuki National Army বা…
ইম্ফল: মণিপুরে ফের নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষে উত্তেজনা ছড়াল। (Manipur )চূড়াচাঁদপুর জেলায় ভারতীয় সেনা ও অসম রাইফেলসের যৌথ অভিযানে United Kuki National Army বা UKNA-র দুই সদস্য নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সরকারি আধিকারিকরা। সংঘর্ষে আরও দুই UKNA সদস্য আহত হয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে ওই এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং আশপাশের জঙ্গলজুড়ে তল্লাশি অভিযান এখনও চলছে বলে জানিয়েছে অসম রাইফেলস।
নিরাপত্তা সূত্রে জানা গিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৯ আগস্ট রাতে চূড়াচাঁদপুর জেলার হেংলেপ মহকুমার ফাইবং গ্রামে অভিযান শুরু করে ভারতীয় সেনা ও অসম রাইফেলসের যৌথ বাহিনী। সেখানে UKNA-র একটি শিবিরের অবস্থান সম্পর্কে আগে থেকেই তথ্য পেয়েছিল নিরাপত্তাবাহিনী। সেই তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় নজরদারি শুরু করা হয়। বেশ কিছু সময় ধরে শিবিরটির গতিবিধির উপর নজর রাখার পর বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ভোরে শুরু হয় কৌশলগতভাবে শিবির ঘিরে ফেলার প্রক্রিয়া।
আরও দেখুনঃ পশ্চিমবঙ্গের পর এবার ত্রিপুরাতেও ৮০৫ কিলোমিটার বাংলাদেশ সীমান্তে বসল কাঁটাতার
সকাল প্রায় ৫টা নাগাদ নিরাপত্তাবাহিনী ওই এলাকায় tactical closing-in শুরু করে। (Manipur)এর কিছুক্ষণ পর, প্রায় সাড়ে ৫টা নাগাদ UKNA-র সদস্যরা নিরাপত্তাবাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে বলে অভিযোগ। অসম রাইফেলসের দাবি, UKNA-র সদস্যরা ‘নির্বিচারে গুলি চালালে’ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বাহিনীর সদস্যরা পাল্টা নিয়ন্ত্রিত গুলি চালান। এরপর দু’পক্ষের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ গুলির লড়াই চলে।
Advertisements
অভিযান শেষে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দুই UKNA সদস্যের নিহত হওয়ার (Manipur )বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে অসম রাইফেলস। আরও দুই সদস্য আহত হয়েছে বলেও বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। নিহত ও আহতদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। সংঘর্ষের পর পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে তল্লাশি শুরু করে নিরাপত্তাবাহিনী। শিবিরটিতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে অসম রাইফেলস।
উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে দুটি MA রাইফেল, একটি AK-56 রাইফেল এবং একটি লাথোড গান। এছাড়াও সাতটি লাথোড গ্রেনেড, ১৫টি AK ম্যাগাজিন, ৩৭১ রাউন্ড AK-56-এর গুলি, ৬০১ রাউন্ড MA রাইফেলের গুলি এবং ১৭২ রাউন্ড SLR-এর গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ১৫টি কমব্যাট ইউনিফর্ম এবং সাতটি অ্যামুনিশন পাউচও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নিরাপত্তাবাহিনী। বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের ঘটনায় ওই শিবিরে সশস্ত্র সদস্যদের উপস্থিতি এবং তাদের কার্যকলাপ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, United Kuki National Army বা UKNA মণিপুরে সক্রিয় কুকি ও জোমি সশস্ত্র সংগঠনগুলির মধ্যে থাকলেও কেন্দ্র, মণিপুর সরকার এবং একাধিক কুকি-জোমি সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে স্বাক্ষরিত Suspension of Operations বা SoO চুক্তির অংশ নয়। ফলে UKNA-কে ঘিরে নিরাপত্তাবাহিনীর অভিযান এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে।