‘ঘরে ঢুকে মারা হবে!’ পাকিস্তানকে জিরো টলারেন্সের বার্তা মোদীর
নয়াদিল্লি: ফের পাকিস্তানকে কড়া বার্তা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। (PM Modi)এসআরসিসিতে বক্তৃতা দিতে গিয়ে পাকিস্তানকে সরাসরি কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, পাকিস্তান যদি…
নয়াদিল্লি: ফের পাকিস্তানকে কড়া বার্তা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। (PM Modi)এসআরসিসিতে বক্তৃতা দিতে গিয়ে পাকিস্তানকে সরাসরি কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, পাকিস্তান যদি কোনো ধরনের দুরভিসন্ধিমূলক কাজ করে, তাহলে ভারতের সশস্ত্র বাহিনী তাদের ঘরে ঢুকে তাদের মারবে। এই হুঁশিয়ারি শুনে হলভর্তি শিক্ষার্থী ও উপস্থিত ব্যক্তিরা মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে যান।
মোদী আরও বলেন, যারা সন্ত্রাস ছড়ায়, তারা এখন কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। অথচ ইউপিএ সরকারের আমলে পাকিস্তান ছিল নিয়ন্ত্রণের বাইরে।এই বক্তব্য শুধু একটি রাজনৈতিক বক্তৃতা নয়। এটি ভারতের বর্তমান নিরাপত্তা নীতির স্পষ্ট প্রতিফলন। প্রধানমন্ত্রী বুঝিয়ে দিয়েছেন যে আগের মতো সহনশীলতা আর নেই। সীমান্তের ওপারে থেকে জঙ্গি হামলা চালিয়ে পার পাওয়ার দিন শেষ।
আরও দেখুনঃ আগুন নিভছে না ISRO র! বেসরকারিকরণের প্রতিবাদে মোদী সরকারকে চিঠি কর্মীদের
ভারত এখন সক্রিয়ভাবে জবাব দিতে প্রস্তুত। মোদীর (PM Modi)কণ্ঠস্বর ছিল দৃঢ়, কোনো ধরনের দ্ব্যর্থতা ছিল না। তিনি সরাসরি বলেছেন, ভারতের সেনারা প্রয়োজনে শত্রুর ঘরে ঢুকে যাবে। এই ভাষা আগের অনেক সরকারের তুলনায় অনেক বেশি স্পষ্ট ও কঠোর।স্মরণ করিয়ে দেওয়া যায়, গত কয়েক বছরে ভারত বেশ কয়েকবার সীমান্ত পেরিয়ে পাল্টা অভিযান চালিয়েছে। উরি হামলার পর সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, পুলওয়ামা হামলার পর বালাকোট বিমান হামলা এসব ঘটনাই প্রমাণ করেছে যে নয়া দিল্লির নীতি বদলেছে।
Advertisements
মোদী এবার সেই নীতিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেলেন। (PM Modi)তিনি স্পষ্ট করে দিলেন যে কোনো ধরনের দুরভিসন্ধি সহ্য করা হবে না। পাকিস্তানের ভূখণ্ডে ঢুকে জঙ্গিদের নির্মূল করার কথা বললেন তিনি। এই বক্তব্যকে অনেকেই দেখছেন কূটনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল হিসেবে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, এটি অভ্যন্তরীণ রাজনীতির জন্যও জোরালো বার্তা।মোদী তার বক্তৃতায় ইউপিএ আমলের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
তিনি বলেছেন, সেই সময় পাকিস্তান প্রায় নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে উঠেছিল।জঙ্গি হামলা একের পর এক ঘটত, কিন্তু জবাব ছিল দুর্বল। এখন পরিস্থিতি উল্টে গেছে। যারা সন্ত্রাস ছড়ায়, তারা এখন পিছু হটছে। এই কথাগুলো শুধু পাকিস্তানকে নয়, আন্তর্জাতিক মহলকেও শোনানো হয়েছে। ভারত যে আর আগের মতো শুধু নিন্দা করেই ক্ষান্ত হবে না, সেই বার্তা স্পষ্ট।এসআরসিসির মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন কঠোর বক্তব্য দেওয়ার অর্থও গভীর।
তরুণ প্রজন্মের সামনে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিকে সামনে এনেছেন। তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন যে দেশের নিরাপত্তা কোনো আপসযোগ্য বিষয় নয়। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কোনো দ্বিধা থাকবে না। এই বক্তব্যের পর পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া কী হবে, তা এখন দেখার বিষয়। ইসলামাবাদ সাধারণত এ ধরনের বক্তব্যকে উসকানিমূলক বলে আখ্যায়িত করে।
কিন্তু মোদীর সরকার বারবার দেখিয়েছে যে তারা চাপের মুখে পিছু হটে না। (PM Modi)বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বক্তব্যের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি। আফগানিস্তান থেকে আমেরিকার সেনা প্রত্যাহারের পর দক্ষিণ এশিয়ায় অস্থিরতা বেড়েছে। পাকিস্তানের মাটিতে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা নিয়ে ভারত বরাবরই উদ্বিগ্ন। সেই উদ্বেগই এখন প্রধানমন্ত্রীর ভাষায় প্রকাশ পেয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে ভারত আর প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে থাকবে না। প্রয়োজনে আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নেবে।