Kia Syros Flex-Fuel-এ ১.০-লিটার টার্বো ইঞ্জিন, ৬-স্পিড অটোমেটিকের নতুন তথ্য
ভারতে নিজেদের প্রথম ফ্লেক্স-ফুয়েল ভেহিকেল হিসেবে সাইরস ফ্লেক্স-ফুয়েল নিয়ে আরও তথ্য প্রকাশ করল কিয়া (Kia Syros)। নতুন এই গাড়ি শুধু পেট্রোল, শুধু ইথানল এবং বিভিন্ন…
ভারতে নিজেদের প্রথম ফ্লেক্স-ফুয়েল ভেহিকেল হিসেবে সাইরস ফ্লেক্স-ফুয়েল নিয়ে আরও তথ্য প্রকাশ করল কিয়া (Kia Syros)। নতুন এই গাড়ি শুধু পেট্রোল, শুধু ইথানল এবং বিভিন্ন অনুপাতে পেট্রোল-ইথানল মিশ্রণ দিয়ে চলতে পারবে। তবে এটি এখনও কনসেপ্ট পর্যায়ে রয়েছে। উৎপাদন সংস্করণ হিসেবে ভারতে গাড়িটি কবে লঞ্চ হবে বা এর দাম কত হতে পারে, তা কিয়া এখনও নিশ্চিত করেনি।
নতুন সাইরস ফ্লেক্স-ফুয়েলে স্ট্যান্ডার্ড সাইরস টার্বো-পেট্রোলের ইঞ্জিনের পরিবর্তিত সংস্করণ ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি গিয়ারবক্সেও আনা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।
১.০-লিটার টার্বো-পেট্রোল ইঞ্জিন
সাইরস ফ্লেক্স-ফুয়েলে রয়েছে ১.০-লিটার, তিন-সিলিন্ডার, ডাইরেক্ট-ইনজেকশন টার্বো-পেট্রোল ইঞ্জিন। তবে এই সংস্করণে ইঞ্জিন থেকে কত পিএস পাওয়ার এবং এনএম টর্ক পাওয়া যাবে, তা এখনও প্রকাশ করেনি কিয়া। বিভিন্ন মাত্রার ইথানলের সঙ্গে ইঞ্জিনকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার জন্য পাওয়ারট্রেনের বেশ কিছু অংশে পরিবর্তন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইঞ্জিন কন্ট্রোল ইউনিট বা ইসিইউ, ট্রান্সমিশন কন্ট্রোল ইউনিট বা টিসিইউ এবং ফুয়েল সিস্টেম। এর ফলে গাড়িটি জ্বালানিতে ইথানলের পরিমাণ পরিবর্তিত হলেও তা সামলাতে পারবে।
৬-স্পিড অটোমেটিক গিয়ারবক্স
সাইরস ফ্লেক্স-ফুয়েলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে ট্রান্সমিশনে। সাধারণ সাইরসের ১.০-লিটার টার্বো-পেট্রোল সংস্করণে রয়েছে ৭-স্পিড ডুয়াল-ক্লাচ ট্রান্সমিশন বা ডিসিটি। কিন্তু ফ্লেক্স-ফুয়েল সংস্করণে ব্যবহার করা হয়েছে ৬-স্পিড টর্ক-কনভার্টার অটোমেটিক গিয়ারবক্স। তবে উৎপাদন সংস্করণে ঠিক এই গিয়ারবক্সই ব্যবহার করা হবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত করেনি কিয়া।
Advertisements
পেট্রোল ও ইথানল, দুই জ্বালানিতেই চলবে
সাইরস ফ্লেক্স-ফুয়েলের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল এর জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষমতা। কিয়ার দাবি অনুযায়ী, গাড়িটি চালানো যাবে:
- শুধুমাত্র পেট্রোলে
- শুধুমাত্র ইথানলে
- বিভিন্ন অনুপাতে পেট্রোল-ইথানল মিশ্রণে
অর্থাৎ চালককে নির্দিষ্ট ধরনের জ্বালানি বেছে নেওয়ার জন্য আলাদা করে গাড়ির সেটিং পরিবর্তন করতে হবে না। ফ্লেক্স-ফুয়েল প্রযুক্তি বিভিন্ন মাত্রার ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি ব্যবহারের জন্যই তৈরি। ভারতে পেট্রোলে ইথানলের মিশ্রণের মাত্রা ভবিষ্যতে আরও বাড়ার সম্ভাবনা থাকায় এই প্রযুক্তির গুরুত্বও বাড়তে পারে।
ডিজাইনে বড় পরিবর্তন নেই
ইঞ্জিন ও ফুয়েল সিস্টেমে পরিবর্তন থাকলেও বাইরে থেকে সাইরস ফ্লেক্স-ফুয়েলকে স্ট্যান্ডার্ড মডেল থেকে আলাদা করা কঠিন। গাড়িতে আগের মতোই আপরাইট ও বক্সি ডিজাইন, এলইডি লাইটিং এলিমেন্ট, রুফ রেল এবং অ্যালয় হুইল রয়েছে। অর্থাৎ ফ্লেক্স-ফুয়েল প্রযুক্তির কারণে গাড়ির সামগ্রিক ডিজাইনে বড় কোনও পরিবর্তন আনা হয়নি।
কেবিনেও পরিচিত লেআউট
গাড়ির ভিতরেও স্ট্যান্ডার্ড সাইরসের ডিজাইনই বজায় রাখা হয়েছে। এতে রয়েছে পরিচিত মাল্টি-স্ক্রিন ড্যাশবোর্ড সেটআপ। ফ্লেক্স-ফুয়েল সংস্করণে মূল পরিবর্তনগুলি করা হয়েছে গাড়ির ইঞ্জিন, ইলেকট্রনিক্স এবং ফুয়েল সিস্টেমে। ফলে বাইরে বা কেবিনে খুব বেশি পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়নি।
কবে বাজারে আসবে Kia Syros Flex-Fuel?
এই মুহূর্তে কিয়া সাইরস ফ্লেক্স-ফুয়েলের লঞ্চের তারিখ বা দাম কোনওটাই ঘোষণা করেনি। বর্তমানে গাড়িটি মূলত ভারতে কিয়ার ফ্লেক্স-ফুয়েল প্রযুক্তি প্রদর্শনের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ভারতীয় বাজারে বিভিন্ন ধরনের পাওয়ারট্রেন আনার ক্ষেত্রে সংস্থার পরিকল্পনারও ইঙ্গিত দিচ্ছে এই কনসেপ্ট।
তাই উৎপাদন সংস্করণে ৬-স্পিড অটোমেটিক, বর্তমান ইঞ্জিনের নির্দিষ্ট পাওয়ার-টর্ক এবং অন্যান্য ফিচার অপরিবর্তিত থাকবে কি না, তা কিয়ার পরবর্তী ঘোষণার পরই স্পষ্ট হবে।
আরও পড়ুন: ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি নিয়ে ভারতে Realme P4S 5G, দাম ৩৪,৯৯৯
আরও পড়ুন: মেড ইন ইন্ডিয়ায় ফের ইতিহাস! দেশের সফল মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার হচ্ছে দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর চিপ
আরও পড়ুন: DRDO র বড় সিদ্ধান্ত! এবার দেশেই তৈরী হতে চলেছে টর্পেডো সাবমেরিন