২৫ বছর পরে মুক্ত ‘ক্রীতদাস’ কালীপদ, উদ্ধার আরও দুই নাবালক
উদ্ধারের পরে কালীপদ পুলিশকে জানিয়েছেন, তাঁকে আড়াই দশকে একবারের জন্যও বাড়ি ফেরার ‘অনুমতি’ দেওয়া হয়নি। এমনকী, তাঁর চলাফেরা থেকে শুরু করে খাওয়াদাওয়া- কোনও কিছুতেই স্বাধীনতা ছিল না। আরোপ করা হয়েছিল নানা ধরনের বিধিনিষেধ। তিনি জানিয়েছেন, প্রায় ২৫ বছর আগে শ্রমিক সরবরাহকারী এক সংস্থার পান্ডা পরিবারের হাতে ২৫ হাজার টাকা তুলে দিয়ে তাঁকে ‘বন্ধকি শ্রমিক’ হিসেবে ওই হিমঘরে নিয়ে আসে। অভিযোগ, তার পরে আর বাড়ি বা পরিবারের মুখ দেখেননি সুন্দরবনের ওই বাসিন্দা। এমনকী, তাঁকে এও বলা হয়েছিল, যতদিন না কাজ করে তিনি ২৫ হাজার টাকা পরিশোধ করছেন, ততদিন তাঁকে সেখানেই থাকতে হবে। কালীপদর দাবি, দীর্ঘদিন কাজ করার পরেও বারবার হিমঘর কর্তৃপক্ষ বলতেন, এখনও টাকা শোধ হয়নি। হিমঘরের সীমানা প্রাচীরের বাইরে তাঁকে কোনওদিন যেতে দেওয়া হতো না। তাঁর মোবাইল ফোন, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও নেই। কালীপদ পুলিশকে জানিয়েছেন, রোগ-ব্যধি হলেও তাঁর কোনও নিস্তার ছিল না। কাজ করে যেতে হতো। দিনের পর দিন আধপেটা খেয়ে দিন কাটাতে হয়েছে তাঁকে। আবার কখনও দরকার পড়লে জেলার অন্য। হিমঘরেও পাঠিয়ে দেওয়া হতো। ওই হিমঘরে বর্তমানে ১৫০ জন কাজ করেন। বেশিরভাগই অস্থায়ী শ্রমিক। আসেন, কাজ করেন, বাড়ি চলে যান। কালীপদই একমাত্র, যিনি ওই হিমঘরে একটি ছোট্ট কুঠুরিতে থাকতেন। তিনি যাতে পালিয়ে যেতে না-পারেন, তার জন্য হিমঘরে সর্বক্ষণের জন্য মোতায়েন থাকত ‘বাহুবলী’ গার্ড।