২০ বছর পর AFC U20 এশিয়ান কাপে ফেরার হাতছানি, বাংলাদেশকে হারাতেই নামছে ভারত
কলকাতা: ২০ বছর পর এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ-এর (AFC U20 Asian Cup) মূলপর্বে ফেরার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বাংলাদেশের মুখোমুখি হতে চলেছে ভারতীয় অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দল।…
কলকাতা: ২০ বছর পর এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ-এর (AFC U20 Asian Cup) মূলপর্বে ফেরার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বাংলাদেশের মুখোমুখি হতে চলেছে ভারতীয় অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দল। রবিবার তাশখন্দের দোস্তলিক স্টেডিয়ামে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বের গ্রুপ বি-র শেষ ম্যাচে বাংলাদেশকে হারিয়ে পরের ধাপে যাওয়ার আশা বাঁচিয়ে রাখতে চাইছে ব্লু কল্টসরা।
অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন বা এআইএফএফ জানিয়েছে, বাংলাদেশকে হারাতে পারলে ভারতের অবস্থান শক্ত হবে। এমনকি ম্যাচটি ড্র হলেও ভারত গ্রুপে দ্বিতীয় স্থানে শেষ করতে পারে, তবে তার জন্য পরের ম্যাচে সিরিয়া যেন গ্রুপের শীর্ষে থাকা উজবেকিস্তানকে হারাতে না পারে।
সিরিয়া ও উজবেকিস্তানের ম্যাচ শুরু হবে ভারতীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে। ফলে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ম্যাচের ফল যাই হোক, গ্রুপে ভারতের চূড়ান্ত অবস্থান জানতে ওই ম্যাচের ফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
দ্বিতীয় হলে মিলবে এশিয়ান কাপের সুযোগ
গ্রুপে ভারত দ্বিতীয় স্থানে শেষ করলে সরাসরি মূলপর্ব নিশ্চিত হবে না। তবে আটটি গ্রুপের মধ্যে সেরা সাত রানার্স-আপের একটি হয়ে চিনে অনুষ্ঠিতব্য এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ ২০২৭-এ জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
Advertisements
ভারত শেষবার এই প্রতিযোগিতার মূলপর্বে খেলেছিল ২০০৬ সালে, যখন দেশটি প্রতিযোগিতার আয়োজক ছিল। ফলে দুই দশক পর ফের এশিয়ান কাপের মূলপর্বে জায়গা করে নেওয়া এই প্রজন্মের ফুটবলারদের কাছে বড় সাফল্য হতে পারে।
শুরুটা হয়েছিল জয়ে
যোগ্যতা অর্জন পর্বে ভারতের শুরুটা হয়েছিল দুর্দান্ত। সোমবার সিরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল ব্লু কল্টসরা। সেই ম্যাচে শেষ মুহূর্তে জয়সূচক গোল করেছিলেন শামি সিংগামায়ুম। কিন্তু বৃহস্পতিবার আয়োজক উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে বড় ধাক্কা খায় ভারত। ম্যাচটি ০-৪ গোলে হেরে যায় তারা। ফলে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচটি এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ এখনও গ্রুপের তলানিতে রয়েছে। প্রথম ম্যাচে উজবেকিস্তানের কাছে ০-২ গোলে হারার পর দ্বিতীয় ম্যাচে সিরিয়ার কাছে ০-৩ গোলে পরাজিত হয়েছে তারা।
বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বদলার সুযোগও ভারতের
ভারত ও বাংলাদেশ এই পর্যায়ে একে অপরের পরিচিত প্রতিপক্ষ। চলতি বছরের শুরুতেই সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। ৯০ মিনিটের ম্যাচ গোলশূন্য থাকার পর টাইব্রেকারে বাংলাদেশ জয় পেয়েছিল। ফলে রবিবারের ম্যাচে সেই হারের বদলা নেওয়ার সুযোগও থাকবে ভারতের সামনে। তবে ভারতীয় কোচ মহেশ গাওয়ালি অতীতের দিকে না তাকিয়ে বর্তমান ম্যাচেই পুরো মনোযোগ দিতে চাইছেন।
“উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে ফল হতাশাজনক ছিল। ওরা অবশ্যই ভালো দল। আমরাও ভালো দল, কিন্তু আমরা নিজেদের কাঙ্ক্ষিত স্তরে খেলতে পারিনি। তবে আমরা এখনও যোগ্যতা অর্জনের লড়াইয়ে আছি। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ম্যাচ নিয়েই এখন আমাদের পুরো মনোযোগ। আমাদের আর একটি ম্যাচ রয়েছে এবং সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
হার থেকে শিক্ষা নিয়ে দলকে একসঙ্গে থাকার বার্তাও দিয়েছেন গাওয়ালি। তাঁর মতে, প্রথম ম্যাচ থেকে ইতিবাচক দিকগুলি নিতে হবে এবং দ্বিতীয় ম্যাচের ভুলগুলি থেকে শিক্ষা নিতে হবে।
বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আত্মবিশ্বাসী ভারত
উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে হারের পর শুক্রবার ভারতীয় দলের জন্য ছিল রিকভারি ডে। মাঠে কোনও অনুশীলন না করে হোটেলেই পুল ও জিম সেশনের মাধ্যমে খেলোয়াড়রা নিজেদের প্রস্তুত করেছেন। শনিবার দুপুরে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে মাঠে শেষবারের মতো অফিসিয়াল ট্রেনিং করে ভারত। কোচ গাওয়ালি বলেছেন, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ম্যাচটি শুধু দলের জন্য নয়, গোটা দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। “বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। আমাদের কী করতে হবে, সেটা আমরা জানি। ইতিবাচক মানসিকতা, আত্মবিশ্বাস এবং সঠিক মনোভাব নিয়ে ম্যাচে নামতে হবে। এই ম্যাচ শুধু ছেলেদের জন্য নয়, দেশের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
ড্যানি মেইতেইয়ের চোখে বড় স্বপ্ন
ভারতের ১৮ বছর বয়সী মিডফিল্ডার ড্যানি মেইতেই লাইশরাম তাশখন্দে দলের দুই ম্যাচেই প্রথম একাদশে ছিলেন। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ম্যাচের গুরুত্ব তিনিও ভালোভাবেই বুঝছেন। ড্যানির কথায়, দলের শিবিরে ইতিবাচক পরিবেশ রয়েছে এবং প্রত্যেকেই নিজেদের দায়িত্বের দিকে মনোযোগী।
উজবেকিস্তানের কাছে হারের পর দলের প্রতিক্রিয়াও তুলে ধরেছেন তিনি। ম্যাচের পর হোটেলে ফিরে খেলোয়াড়রা ম্যাচের ভিডিও দেখতে চেয়েছিলেন এবং নিজেদের ভুলগুলি নোট করেছিলেন। ড্যানি বলেন, হার নিয়ে হতাশা থাকলেও দ্রুত তা কাটিয়ে উঠে ভুল বিশ্লেষণ করে পরের ম্যাচের দিকে মনোযোগ দেওয়া হয়েছে।
২০২৩ অনূর্ধ্ব-১৭ এশিয়ান কাপের অভিজ্ঞতা
ড্যানি ২০২৩ সালে ভারতের হয়ে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ এশিয়ান কাপ খেলেছিলেন। ফলে দেশের হয়ে কোনও মহাদেশীয় মূলপর্বে খেলার অভিজ্ঞতা তাঁর রয়েছে। তাঁর মতে, অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপে জায়গা করে নিতে পারলে সেটি তাঁর ব্যক্তিগত উন্নতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।
তবে ব্যক্তিগত সাফল্যের থেকেও দলের হয়ে বিশেষ কিছু অর্জন করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। দেশের হয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাওয়ার স্বপ্নই এখন ভারতীয় দলের তরুণ মিডফিল্ডারের সামনে।
সমীকরণ পরিষ্কার
বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ম্যাচে ভারতের সামনে এখন মূল লক্ষ্য একটাই, নিজেদের কাজটা ঠিকভাবে করা। ৯০ মিনিট মনোযোগ ধরে রেখে নিজেদের সেরা ফুটবল খেলতে হবে। বাংলাদেশকে হারাতে পারলে ভারতের অবস্থান শক্ত হবে। এরপর সন্ধ্যায় সিরিয়া-উজবেকিস্তান ম্যাচের ফলের উপর নির্ভর করবে গ্রুপে ভারতের চূড়ান্ত অবস্থান এবং এশিয়ান কাপের যোগ্যতা অর্জনের সম্ভাবনা। অর্থাৎ বাংলাদেশের বিরুদ্ধে জয়ই এখন ভারতের সবচেয়ে নিরাপদ পথ। সেই সঙ্গে বাকি ম্যাচের ফল অনুকূলে এলে দুই দশক পর এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপে ফেরার স্বপ্ন আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।