স্কুল থেকে উধাও নবম শ্রেণির চার ছাত্রী, পাঁশকুড়া স্টেশন থেকে উদ্ধার
জানা গিয়েছে, চার ছাত্রীর মধ্যে দু’জনের বাড়ি পুরুলিয়ায়। বাকি দু’জন পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতা-২ ব্লকের গোয়ালতোড়ে থাকে। স্কুলের ছাত্রী হস্টেলে প্রায় ৪৩ জন এবং ছাত্র হস্টেলে প্রায় ৫০ জন পড়ুয়া থাকে। বৃহস্পতিবার নিয়মমাফিক ক্লাসও করেছিল ওই চার ছাত্রী। কিন্তু ক্লাস শেষ হওয়ার পরে হস্টেলে না ফিরে কখন, কী ভাবে তারা নজর এড়িয়ে বেরিয়ে গেল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ জানিয়েছে, ট্রেনে যাওয়ার সময়ে এক ব্যক্তির মোবাইল থেকে এক ছাত্রী তার বাড়িতে ফোন করেছিল। পরে ওই ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি ওই ট্রেনের যাত্রী ছিলেন এবং ডেবরার রাধামোহনপুরে নেমে যান। তিনি আর কিছু জানেন না। এরপর ছাত্রীরা ট্রেনে করে পাঁশকুড়া পর্যন্ত যায়। তবে তারা কোন স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠেছিল, তা এখনও নিশ্চিত ভাবে জানা যায়নি। জানা গিয়েছে, নিখোঁজ হওয়ার প্রায় তিন দিন আগে ছাত্রীদের হস্টেল থেকে একটি মোবাইল উদ্ধার হয়েছিল। প্রাথমিক অনুমান, ওই মোবাইলের মাধ্যমে ছাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হতো। স্কুল কর্তৃপক্ষ উদ্ধার হওয়া মোবাইলটি পুলিশের কাছে জমা দিয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। কিন্তু হস্টেল থেকে মোবাইল উদ্ধারের পর কেন শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী এবং পড়ুয়াদের সতর্ক করা হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরলেও সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধির পরিচয় জানার পরে ফোন কেটে দেন।
পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণ বলেন, ‘চার ছাত্রী স্কুল থেকে নিখোঁজ হয়েছিল। তাদের রাতেই পাঁশকুড়া থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। আপাতত তাদের হোমে রাখা হয়েছে এবং কাউন্সেলিং করা হবে। কী জন্য এবং কেন তারা স্কুল থেকে বেরিয়েছিল, তা তদন্ত করে দেখা হবে। ঘটনায় কেউ জড়িত থাকলে কাউকে ছাড়া হবে না বলে জানিয়েছেন জেলাশাসক।’