‘মেধাই একমাত্র মাপকাঠি’, শিক্ষক দিবসে স্বচ্ছ নিয়োগের বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর - 24 Ghanta Bangla News
Home

‘মেধাই একমাত্র মাপকাঠি’, শিক্ষক দিবসে স্বচ্ছ নিয়োগের বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

Spread the love

কলকাতা: শিক্ষক নিয়োগে পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতির জেরে গত কয়েক বছরে কার্যত কালিমালিপ্ত হয়েছে রাজ্যের শিক্ষামহল। পথে বসে দিনের পর দিন চোখের জল ফেলেছেন যোগ্য চাকরিপ্রার্থীরা। তবে…

কলকাতা: শিক্ষক নিয়োগে পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতির জেরে গত কয়েক বছরে কার্যত কালিমালিপ্ত হয়েছে রাজ্যের শিক্ষামহল। পথে বসে দিনের পর দিন চোখের জল ফেলেছেন যোগ্য চাকরিপ্রার্থীরা। তবে সেই ঘোর  কাটিয়ে রাজ্যে মেধাভিত্তিক ও ১০০ শতাংশ স্বচ্ছ নিয়োগের ব্লু-প্রিন্ট সামনে আনলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার শিক্ষক দিবসের পুণ্যলগ্নে তাঁর সুস্পষ্ট বার্তা, মেধা এবং লিখিত পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বর ছাড়া চাকরি পাওয়ার আর কোনও দ্বিতীয় ‘শর্টকাট’ থাকবে না।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় হারানো বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনতে স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) খোলনলচে বদলে ফেলার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। স্বজনপোষণের সমস্ত রাস্তা চিরতরে বন্ধ করতে এ বার রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের তিন জন সন্ন্যাসীকে কমিশনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়ে আসা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “যাঁরা সর্বত্যাগী, তাঁদের হাত দিয়ে কখনও কোনও অবিচার হতে পারে না।” শুধু সন্ন্যাসীরাই নন, নিখুঁত ও পেশাদার মূল্যায়নের স্বার্থে কমিশনে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট (IIM)-এর এক জন বিশেষজ্ঞকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে ইন্টারভিউ বা মৌখিক পরীক্ষায় ১৫ নম্বর বরাদ্দ রাখার তীব্র সমালোচনা করেন শুভেন্দু। তাঁর মতে, পেছনের দরজা দিয়ে অযোগ্যদের চাকরি পাইয়ে দেওয়ার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার ছিল এই বিপুল নম্বরের ইন্টারভিউ। এই বেনিয়মের শিকড় উপড়ে ফেলতে মৌখিক পরীক্ষায় ৫ নম্বরের বেশি না রাখার জন্য এসএসসি-কে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, এখন থেকে আর গোপনে মোবাইলে মেসেজ পাঠিয়ে চাকরি দেওয়া হবে না। প্যানেলভুক্তদের সম্পূর্ণ মেধা-তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে এ দিন আশ্বস্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। আইনি জটিলতা কাটাতে ইতিমধ্যেই বিধানসভায় বিল এনে ওবিসি তালিকা থেকে ভুয়ো শংসাপত্রধারীদের বাতিল করেছে বর্তমান সরকার। শীর্ষ আদালতের নির্দেশিকা এবং সংরক্ষণ বিধি মেনেই যে আগামী দিনে নিয়োগ হবে, তা-ও স্পষ্ট করা হয়েছে।

এ দিন শুধু নিয়োগ প্রক্রিয়া নয়, রাজ্যের স্কুলগুলির কঙ্কালসার পরিকাঠামো নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আক্ষেপ করেন, পূর্বতন জমানায় মেলা-খেলা বা পুজোয় দেদার অর্থ বিলি হলেও স্কুলগুলির ভাগ্যে জুটত না কানাকড়িও। দৃষ্টান্ত হিসেবে মিত্র ইনস্টিটিউশনের একটি মর্মান্তিক ঘটনার কথা উল্লেখ করেন তিনি। সামান্য কার্বলিক অ্যাসিড কেনার টাকা না থাকায় সেখানে সাপের কামড় খাওয়া এক পড়ুয়াকে বাধ্য হয়ে এসএসকেএম-এ দৌড়তে হয়েছিল। কারণ, তিন বছর ধরে স্কুলটি কোনও সরকারি অনুদানই (Composite Grant) পায়নি।

Advertisements


   


   

স্কুলের পড়াশোনার পরিবেশ ফেরাতে পর্যাপ্ত অশিক্ষক কর্মী নিয়োগেও জোর দিয়েছে বর্তমান সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর সাফ কথা, শিক্ষকদের কাজ হলো ছাত্রছাত্রীদের পাঠদান করা। তাঁদের দিয়ে সারা দিন মিড-ডে মিলের হিসেব করানো বা চাল-ডালের বস্তা গোনার দিন শেষ। স্কুলের আনুষঙ্গিক কাজ, ল্যাবরেটরি রক্ষণাবেক্ষণ কিংবা ঘণ্টা বাজানোর জন্য পর্যাপ্ত কর্মী নিয়োগ করবে রাজ্য। সব মিলিয়ে, শিক্ষক দিবসের এই মঞ্চ থেকে বাংলার রুগ্ণ শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুন করে অক্সিজেন জোগানোরই এক স্পষ্ট রূপরেখা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী।

মহারাষ্ট্রে গরবা-ডান্ডিয়া উৎসবে মুসলিম প্রবেশ নিষেধ! আর্জি বিশ্ব হিন্দু পরিষদের

দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মোবাইল নিষিদ্ধ রাজ্যে? শিক্ষক দিবসের মঞ্চ থেকে জল্পনা উস্কালেন শুভেন্দু

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *