ভারত-চিন সীমানা নিয়ে উদ্বেগ! উত্তরপূর্বাঞ্চলে কর্পস কমান্ডার পর্যায়ে আলোচনায় দোভাল
ভারত ও চিনের মধ্যে সীমান্ত বিষয়ক আলোচনায় নতুন মোড় এসেছে। (India China)জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল ও চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-এর বেইজিং বৈঠকের কয়েকদিন পর…
ভারত ও চিনের মধ্যে সীমান্ত বিষয়ক আলোচনায় নতুন মোড় এসেছে। (India China)জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল ও চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-এর বেইজিং বৈঠকের কয়েকদিন পর উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কর্পস কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠক হতে চলেছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর থ্রি কর্পস বা স্পিয়ার কর্পসের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল গিরিশ কালিয়া তাঁর চিনা সমকক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন।
গত৮ আগস্ট বেইজিংয়ে ডোভাল ও ওয়াং ই সীমান্ত প্রশ্ন নিয়ে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠক করেন। সেই বৈঠকের পর দুই দেশ সীমান্ত নির্ধারণ ও ব্যবস্থাপনায় ‘প্রাথমিক ও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পূর্ব ও মধ্য সেক্টরে দুটি নতুন সামরিক হটলাইন স্থাপন, কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠকের জন্য দুটি নতুন মিটিং পয়েন্ট এবং সেপ্টেম্বরে আন্তঃসীমান্ত নদী বিষয়ক বৈঠক আয়োজনের বিষয়েও সম্মতি হয়।
আরও দেখুনঃ দেশীয় প্রযুক্তিতে আরও এক ধাপ! তেজস বিমানের কাবেরি ইঞ্জিনের পরীক্ষা সফল
এই পটভূমিতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কর্পস (India China)কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবানসিরি জেলার টাকসিং এলাকায় উত্তেজনার খবর পাওয়ার পর এই বৈঠকের প্রয়োজনীয়তা বাড়ে। নাগাল্যান্ডের দিমাপুরের কাছে রঙ্গাপাহারে থ্রি কর্পসের সদর দফতর। এই কর্পস উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সীমান্ত নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে।
Advertisements
দুই দেশের সেনা কমান্ডাররা স্থানীয় পর্যায়ের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই মূল লক্ষ্য। গত কয়েক বছরে লাদাখসহ বিভিন্ন সেক্টরে কর্পস কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। এবার পূর্ব সেক্টরেও এ ধরনের নিয়মিত যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।দোভাল-ওয়াং বৈঠকের পর দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের দিকে ধীরে ধীরে এগোচ্ছে বলে দুই পক্ষই মন্তব্য করেছে।
সীমান্ত বিরোধকে সামগ্রিক সম্পর্কের মধ্যে সঠিক জায়গায় রাখার কথাও উঠে এসেছে। নতুন হটলাইন ও মিটিং পয়েন্ট স্থাপনের সিদ্ধান্ত যোগাযোগ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে। উত্তরাখণ্ডের জোশিমঠেও একটি নতুন বর্ডার পার্সোনেল মিটিং পয়েন্ট তৈরির কথা রয়েছে।এই বৈঠকগুলো সীমান্তে উত্তেজনা কমাতে সাহায্য করবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
অরুণাচল প্রদেশসহ পূর্ব সেক্টরে স্থানীয় সমস্যা দ্রুত সমাধানের পথ খুলতে পারে। (India China)দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়লে ভুল বোঝাবুঝির আশঙ্কা কমে। চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে পারেন। সেই পটভূমিতে সামরিক পর্যায়ের আলোচনা আরও গুরুত্ব পাচ্ছে। ভারত ও চিন দুই প্রতিবেশী দেশ হিসেবে স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখতে চাইছে। সীমান্ত শান্তি সেই লক্ষ্যের অন্যতম ভিত্তি।