দেশীয় প্রযুক্তিতে আরও এক ধাপ! তেজস বিমানের কাবেরি ইঞ্জিনের পরীক্ষা সফল - 24 Ghanta Bangla News
Home

দেশীয় প্রযুক্তিতে আরও এক ধাপ! তেজস বিমানের কাবেরি ইঞ্জিনের পরীক্ষা সফল

Spread the love

নয়াদিল্লি: দেশীয় সামরিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আরও এক ধাপ এগোল ভারত। (Kaveri)প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO) বেঙ্গালুরুর GTRE (Gas Turbine Research Establishment) কেন্দ্রে ‘Kaveri Derivative…

নয়াদিল্লি: দেশীয় সামরিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আরও এক ধাপ এগোল ভারত। (Kaveri)প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO) বেঙ্গালুরুর GTRE (Gas Turbine Research Establishment) কেন্দ্রে ‘Kaveri Derivative Engine’ বা KDE-এর গ্রাউন্ড টেস্ট চালিয়েছে। এই ইঞ্জিনের পরীক্ষার নতুন ছবি প্রকাশ্যে আসার পর ভারতের নিজস্ব সামরিক অ্যারো-ইঞ্জিন তৈরির কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একসময় তেজস যুদ্ধবিমানকে শক্তি দেওয়ার লক্ষ্যে তৈরি করা কাভেরি ইঞ্জিন প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলেও সেই প্রকল্প থেকে অর্জিত প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা এখন দেশের পরবর্তী প্রজন্মের একাধিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভিত্তি হয়ে উঠছে।

আরও দেখুনঃ মহারাষ্ট্রে গরবা-ডান্ডিয়া উৎসবে মুসলিম প্রবেশ নিষেধ! আর্জি বিশ্ব হিন্দু পরিষদের

GTRE-এর বেঙ্গালুরু পরীক্ষাকেন্দ্রে এয়ার মার্শাল সঞ্জীব ঘুরাটিয়ার সফরের সময় KDE-কে টেস্ট রিগে চালু করা হয়। গ্রাউন্ড টেস্টের মূল উদ্দেশ্য হল ইঞ্জিনের বিভিন্ন কর্মক্ষমতা বাস্তব পরিবেশে ব্যবহারের আগে মাটিতেই বিস্তারিতভাবে যাচাই করা। এই ধরনের পরীক্ষায় ইঞ্জিন কতটা থ্রাস্ট তৈরি করছে, বিভিন্ন অংশে তাপমাত্রা ও চাপের মাত্রা কেমন থাকছে, কম্পন কতটা হচ্ছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে ইঞ্জিনের সামগ্রিক কর্মক্ষমতা স্থিতিশীল থাকছে কি না এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পর্যবেক্ষণ করা হয়।

Advertisements


   


   

Kaveri Derivative Engine মূল কাভেরি (Kaveri)ইঞ্জিন কর্মসূচি থেকে অর্জিত প্রযুক্তি, গবেষণাগত অভিজ্ঞতা এবং পরিকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করা হচ্ছে। ভারতের নিজস্ব যুদ্ধবিমান ইঞ্জিন তৈরির দীর্ঘ প্রচেষ্টায় কাভেরি প্রকল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

যদিও সেই ইঞ্জিনকে তেজস লাইট কমব্যাট এয়ারক্র্যাফটে ব্যবহারের পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি, প্রকল্পটির মাধ্যমে ভারতীয় বিজ্ঞানী ও ইঞ্জিনিয়াররা গ্যাস টারবাইন প্রযুক্তি, উপকরণ, ডিজাইন, পরীক্ষা এবং ইঞ্জিন উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

এখন সেই জ্ঞানই নতুন প্রজন্মের প্রতিরক্ষা প্ল্যাটফর্মে কাজে লাগানোর চেষ্টা চলছে। KDE-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাব্য ব্যবহার ভারতের স্টেলথ আনম্যানড কমব্যাট এয়ারক্র্যাফট বা ‘ঘাতক’-এর মতো ভবিষ্যৎ মানবহীন যুদ্ধবিমানকে শক্তি জোগানো। স্টেলথ প্রযুক্তিনির্ভর এই ধরনের প্ল্যাটফর্মে ইঞ্জিনের আকার, ওজন, জ্বালানি দক্ষতা, থ্রাস্ট এবং তাপীয় স্বাক্ষর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে KDE-এর মতো দেশীয় ইঞ্জিন প্রযুক্তির বিকাশ ভবিষ্যতের মানবহীন যুদ্ধ ব্যবস্থার জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

তবে GTRE-এর সাম্প্রতিক প্রদর্শনী শুধু KDE-তেই সীমাবদ্ধ ছিল না। পরীক্ষাকেন্দ্রে ‘Manik’ নামের আরেকটি ইঞ্জিনও তুলে ধরা হয়েছে। এটি ভারতের সাবসনিক ক্রুজ মিসাইল কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত। পাশাপাশি নতুন ৩৫০ কেজিএফ থ্রাস্টের ATGG turbojet engine-এর কথাও সামনে এসেছে। এই ইঞ্জিনটি ভবিষ্যতের NASM-MR বা Naval Anti-Ship Missile–Medium Range ব্যবস্থায় ব্যবহারের জন্য পরিকল্পিত বলে জানা গিয়েছে।

সব মিলিয়ে GTRE-এর সাম্প্রতিক প্রদর্শনী ভারতের দেশীয় প্রপালশন প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান পরিসরকে সামনে এনেছে। একদিকে মানবহীন স্টেলথ যুদ্ধবিমান, অন্যদিকে ক্রুজ মিসাইল ও নৌবাহিনীর অ্যান্টি-শিপ মিসাইল বিভিন্ন ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য দেশীয় ইঞ্জিন তৈরির চেষ্টা চলছে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *