সোনার দাম দেড় লক্ষ পার! একদিনে রুপোর দাম বাড়ল ৬,৫০০ টাকা
নয়াদিল্লি: মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নিয়ে নতুন ইঙ্গিতের পর বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি ভারতের কমোডিটি বাজারেও সোনা ও রুপোর (Gold Price) দামে…
নয়াদিল্লি: মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নিয়ে নতুন ইঙ্গিতের পর বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি ভারতের কমোডিটি বাজারেও সোনা ও রুপোর (Gold Price) দামে বড় উত্থান দেখা গেল। এমসিএক্সে সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১.৫৫ লাখ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে। একই সঙ্গে রুপোর দাম একদিনে প্রায় ৬,৫০০ টাকা বেড়ে প্রতি কেজিতে ২.৩৬ লাখ টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে।
সুদের হার নিয়ে ফেড গভর্নর ক্রিস্টোফার ওয়ালারের মন্তব্যের পর মূল্যবান ধাতুর বাজারে এই ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়। মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতির উন্নতি হলে বর্তমান সুদের হার ধরে রাখার পক্ষে তিনি অবস্থান নিতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক বাজারেও সোনা-রুপোর দাম বাড়ল
বৃহস্পতিবার স্পট গোল্ডের দাম ২.৪৮ শতাংশ বা ১০৮.৮ ডলার বেড়ে প্রতি আউন্সে প্রায় ৪,৪৯৬.৯ ডলার হয়েছে। অন্যদিকে স্পট সিলভারের দামও ২.৭৩ শতাংশ বা ১.৭৯ ডলার বেড়ে প্রতি আউন্সে প্রায় ৬৭.১ ডলার হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের এই শক্তিশালী প্রবণতার প্রভাব পড়েছে ভারতীয় বাজারেও।
Read More: বোম্বে ক্রিমারি নাম নিয়ে এবার আইসক্রিমের বাজারে পা রাখল আম্বানি গ্ৰুপ
Advertisements
MCX-এ সোনার দাম ১.৫৫ লাখের উপরে
এমসিএক্সে সেপ্টেম্বরের গোল্ড ফিউচার্স কনট্র্যাক্টের দাম বৃহস্পতিবার ২.৩ শতাংশ বা ৩,৪৯৭ টাকা বেড়েছে। ফলে প্রতি ১০ গ্রাম সোনার দাম উঠে হয়েছে ১,৫৫,৪৫০ টাকা। অর্থাৎ, এমসিএক্সে সোনার দাম গুরুত্বপূর্ণ ১.৫৫ লাখ টাকার স্তর পেরিয়ে আরও উপরে উঠেছে।
রুপোয় একদিনে ৬,৫০০ টাকার বেশি বৃদ্ধি
সোনার পাশাপাশি রুপোর বাজারেও বড় উত্থান হয়েছে। এমসিএক্সে সেপ্টেম্বরের সিলভার ফিউচার্স কনট্র্যাক্টের দাম ২.৮৪ শতাংশ বা ৬,৫২৭ টাকা বেড়েছে। এর ফলে প্রতি কেজি রুপোর দাম দাঁড়িয়েছে ২,৩৬,৪৭০ টাকা। অর্থাৎ একদিনেই প্রতি কেজি রুপোর দাম ৬,৫০০ টাকার বেশি বেড়েছে।
সুদের হার নিয়ে কী বললেন ফেড গভর্নর ওয়ালার?
মূল্যবান ধাতুর বাজারে এই উত্থানের অন্যতম কারণ হিসেবে মার্কিন সুদের হার নিয়ে ক্রিস্টোফার ওয়ালারের মন্তব্যকে দেখা হচ্ছে। আগামী সপ্তাহে প্রকাশিত হতে চলা আগস্ট মাসের মূল্যস্ফীতির তথ্য সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলবে বলে জানিয়েছেন তিনি। ওয়ালারের বক্তব্য অনুযায়ী, মূল্যস্ফীতি যদি মার্কিন ফেডের ২ শতাংশের লক্ষ্যের দিকে আরও এগোয়, তাহলে বর্তমান নীতিগত সুদের হার ধরে রাখার পক্ষে তিনি থাকতে পারেন। তবে মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার তুলনায় বেশি বাড়লে সুদের হার বৃদ্ধির কথাও তিনি বিবেচনা করবেন বলে জানিয়েছেন।
Read More: ফের রেকর্ড UPI-তে! অগস্টে প্রথমবার ২৪.৫১ বিলিয়ন লেনদেনের মাইলফলক
মূল্যস্ফীতিতে স্বস্তির ইঙ্গিত
ওয়ালার আরও জানিয়েছেন, মূল্যস্ফীতি এখনও ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির ২ শতাংশ লক্ষ্যের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। তবে সাম্প্রতিক তথ্য থেকে মূল্যস্ফীতির চাপ কমার কিছু লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তাঁর মতে, গত কয়েক মাসের তথ্য থেকে শেষ পর্যন্ত কিছুটা ডিসইনফ্লেশনের বা মূল্যস্ফীতির গতি কমার ইঙ্গিত মিলছে। এই পরিস্থিতিতে সুদের হার স্থিতিশীল রাখার সম্ভাবনা নিয়ে বাজারে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সাধারণত সুদের হার কম থাকা বা ভবিষ্যতে হার কমার সম্ভাবনা বাড়লে সোনার মতো সুদবিহীন সম্পদের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়তে পারে।
সেপ্টেম্বরেই ফেডের বৈঠক
মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের কর্মকর্তারা আগামী ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনে বৈঠকে বসবেন। চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত টানা পাঁচটি বৈঠকে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। এই বৈঠকের আগে আগস্টের মূল্যস্ফীতির তথ্য বাজারের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে ফেডের পরবর্তী সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে। ওয়ালারের সর্বশেষ মন্তব্য এমন সময় এল, যখন এক সপ্তাহ আগেই ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ জ্যাকসন হোলে আয়োজিত বার্ষিক অর্থনৈতিক সম্মেলনে মূল্যস্ফীতি নিয়ে সতর্ক অবস্থান প্রকাশ করেছিলেন। ফলে এখন বিনিয়োগকারীদের নজর মূলত আগস্টের মার্কিন মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যান এবং সেপ্টেম্বরের ফেড বৈঠকের দিকে। এই দুই বিষয় আগামী দিনে আন্তর্জাতিক সোনা ও রুপোর বাজারের গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।