বাংলার শিল্পে নয়া মাইলস্টোন! সিমেন্সের সঙ্গে MOU সাক্ষর টিটাগড় রেল সিস্টেমের
কলকাতা: বাংলার শিল্পজগতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে টিটাগড় রেল সিস্টেমস (Titagarh)। কলকাতাভিত্তিক এই কোম্পানি গত সপ্তাহে জার্মান প্রযুক্তি জায়ান্ট সিমেন্সের সঙ্গে একটি অ-বাধ্যতামূলক সমঝোতা স্মারক…
কলকাতা: বাংলার শিল্পজগতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে টিটাগড় রেল সিস্টেমস (Titagarh)। কলকাতাভিত্তিক এই কোম্পানি গত সপ্তাহে জার্মান প্রযুক্তি জায়ান্ট সিমেন্সের সঙ্গে একটি অ-বাধ্যতামূলক সমঝোতা স্মারক বা MOU স্বাক্ষর করেছে। লক্ষ্য আন্তর্জাতিক মেট্রো রোলিং স্টক প্রকল্পে যৌথভাবে সুযোগ অন্বেষণ করা।
কেস-বাই-কেস ভিত্তিতে কাজ করার এই অংশীদারিত্ব টিটাগড়কে (Titagarh)দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্ব বাজারে পা রাখার পথ দেখাচ্ছে। কোম্পানির উৎপাদন ক্ষমতার সঙ্গে সিমেন্সের বিশ্বব্যাপী নেটওয়ার্ক ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা একসঙ্গে কাজে লাগানো হবে।টিটাগড় রেল সিস্টেমস দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় রেলের জন্য ওয়াগন ও যাত্রীবাহী কোচ তৈরি করে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে তারা যাত্রীবাহী রোলিং স্টক খাতে আরও শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তুলছে।
আরও দেখুনঃ বাংলায় UCC এলে বদলাবে ১৩টি বিবাহ আইন, এক নিয়মে বিয়ে-ডিভোর্স
উত্তরপাড়ায় নতুন ডিজাইন অ্যান্ড অপারেশনস সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে, যা নকশা ও কাস্টমাইজেশন ক্ষমতা বাড়াবে। কোম্পানি ২০২৮-২৯ অর্থবছরের মধ্যে বছরে ৮৫০টি যাত্রীবাহী কোচ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। অন্যদিকে ওয়াগন উৎপাদন মাসে ৬০০ থেকে ৬৫০ ইউনিটে সীমিত রাখা হয়েছে (Titagarh)। এই পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক মেট্রো প্রকল্পগুলো তাদের জন্য নতুন প্রবৃদ্ধির সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।সিমেন্সের সঙ্গে এই এমওইউ স্বাক্ষরের পর কোম্পানি জানিয়েছে, এটি ভারতে স্থানীয় উৎপাদনকে আরও শক্তিশালী করবে।
Advertisements
যদিও চুক্তিটি অ-বাধ্যতামূলক, তবুও দুই পক্ষ একসঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে মেট্রো কোচ সরবরাহের সম্ভাব্য প্রকল্পগুলো মূল্যায়ন করবে। কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা প্রকল্পের নাম এখনো ঘোষণা করা হয়নি। তবে সিমেন্সের বিশ্বব্যাপী উপস্থিতি টিটাগড়ের জন্য নতুন দ্বার খুলে দিতে পারে। ভারতের বাইরে মেট্রো নেটওয়ার্ক দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং সেখানে ভারতীয় নির্মাতাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।টিটাগড় ইতিমধ্যে দেশের কয়েকটি বড় মেট্রো প্রকল্পে সফলভাবে কাজ করছে।
পুনে মেট্রোতে অ্যালুমিনিয়াম বডি কোচ সরবরাহ করে তারা যাত্রীবাহী রোলিং স্টক খাতে প্রবেশ করেছিল। বেঙ্গালুরু ও গুজরাট মেট্রো প্রকল্পেও তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। মুম্বই মেট্রো লাইনগুলোর জন্যও অর্ডার পেয়েছে কোম্পানি।
এছাড়া বন্দে ভারত ট্রেন তৈরিতে বিএইচইএলের সঙ্গে কনসোর্টিয়ামে কাজ করছে তারা। (Titagarh)প্রথম বন্দে ভারত ট্রেন সরবরাহের লক্ষ্য ২০২৬ সালের শেষ বা ২০২৭ অর্থবছরের চতুর্থ ত্রৈমাসিক।এই অংশীদারিত্ব শুধু ব্যবসায়িক সম্প্রসারণ নয়, প্রযুক্তিগত উন্নয়নেরও সুযোগ তৈরি করছে।
সিমেন্সের উন্নত প্রপালশন সিস্টেম ও ট্রেন কন্ট্রোল প্রযুক্তির সঙ্গে টিটাগড়ের উৎপাদন দক্ষতা মিলিয়ে আন্তর্জাতিক মানের পণ্য তৈরি করা সম্ভব হবে। ভারত সরকারের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের সঙ্গেও এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ। দেশে তৈরি পণ্য বিদেশে রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথ প্রশস্ত হবে।শিল্প বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ টিটাগড়ের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুফল বয়ে আনতে পারে।