‘মা’-কে ‘আম্মা’, আকাশকে…..,পরিকল্পিত ভাষা বিকৃতি করেছিল তৃণমূল! তীব্র কটাক্ষ শুভেন্দুর
কলকাতা: পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় ‘পরিকল্পনামাফিক’ বিকৃতি ঘটানো হয়েছিল। বাংলা মাধ্যমের সিলেবাসে অত্যন্ত সুকৌশলে ‘মা’-কে ‘আম্মা’ এবং ‘আকাশ’-কে ‘আসমান’ করে ভাষার বিকৃতি…
কলকাতা: পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় ‘পরিকল্পনামাফিক’ বিকৃতি ঘটানো হয়েছিল। বাংলা মাধ্যমের সিলেবাসে অত্যন্ত সুকৌশলে ‘মা’-কে ‘আম্মা’ এবং ‘আকাশ’-কে ‘আসমান’ করে ভাষার বিকৃতি ঘটানো হয়। বৃহস্পতিবার গোলপার্ক রামকৃষ্ণ মিশনে আরএসএস (RSS)-এর একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে এ ভাষাতেই তৃণমূল আমলের শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে তীব্র তোপ দাগলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল না হলে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ব্যবস্থা বাংলাদেশের মতো ‘ইসলামিক শিক্ষা ব্যবস্থায়’ পরিণত হত।
এ দিনের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে পূর্বতন বাম ও তৃণমূল, দুই সরকারকেই কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘একটা সময়ে বামেরা বাংলায় শিক্ষার প্রসার ও প্রচারে বাধা সৃষ্টি করেছিল। আর তারপর তৃণমূল যে শিক্ষা ব্যবস্থা শুরু করেছিল, তাতে রাষ্ট্রবাদ ও দেশপ্রেম সম্পূর্ণ হারিয়ে যেতে বসেছিল।’’
তৃণমূল জমানায় তৈরি হওয়া স্কুলস্তরের সিলেবাস নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিদ্যাসাগর বা স্বামী বিবেকানন্দ যে আদর্শ শিক্ষা ব্যবস্থার কথা ভেবেছিলেন, পূর্বতন সরকারের সিলেবাস তার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। তাঁর কথায়, ‘‘পরিকল্পনা করে ভাষার বিকৃতি করা হয়েছিল। মা-কে আম্মা, আকাশ-কে আসমান করা হয়েছিল। সিলেবাস এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল, যাতে শিশুমনে বিভাজন ঘটানো যায়।’’
সিলেবাসে ইতিহাসের বিকৃতি নিয়েও এ দিন সরব হন শুভেন্দু। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যের পাঠ্যক্রমে টাটাদের ইতিহাস বা প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কথা তুলে ধরা হলেও, ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিত্বের পশ্চিমবঙ্গ তৈরির ইতিহাসকে সুকৌশলে বাদ দেওয়া হয়েছিল। শুধু সিলেবাস নয়, সরকারি অনুদানের ক্ষেত্রেও চরম বৈষম্য করা হত বলে অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর। তিনি বলেন, ‘‘পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শুধু মুসলিম ছাত্রদের স্কলারশিপ দেওয়া হত। বাকি ধর্মের ছাত্রদের এই সুযোগ থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে বঞ্চিত রাখা হত।’’
রাজ্যে নতুন সরকার আসার পর শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল সংস্কার আনা হয়েছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ‘‘সঠিক সময়ে রাজ্যে পরিবর্তন এসেছে। আমরা বেঁচে গিয়েছি। না হলে বাংলাদেশের ইসলামিক শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে এ রাজ্যের শিক্ষার কোনও তফাত থাকত না।’’ মুখ্যমন্ত্রী জানান, ক্ষমতায় আসার পরেই তাঁর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার রাজ্যে জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP) গ্রহণ করেছে এবং স্কুলগুলির প্রার্থনায় পূর্ণাঙ্গ ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করেছে।
নেপালে নিখোঁজ মুকুল-পুত্রবধূ! স্ত্রীর খোঁজ চেয়ে সমাজমাধ্যমের দ্বারস্থ শুভ্রাংশু
মাঝআকাশে আচমকা অসুস্থ পাইলট! মাসকটে জরুরি অবতরণ বেঙ্গালুরুগামী ইন্ডিগো বিমানের