নেপালে নিখোঁজ মুকুল-পুত্রবধূ! স্ত্রীর খোঁজ চেয়ে সমাজমাধ্যমের দ্বারস্থ শুভ্রাংশু
কলকাতা: নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানের পর কেটে গিয়েছে আটটি দীর্ঘ দিন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও খোঁজ মিলল না মুকুল রায়ের পুত্রবধূ তথা শুভ্রাংশু রায়ের স্ত্রী…
কলকাতা: নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানের পর কেটে গিয়েছে আটটি দীর্ঘ দিন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও খোঁজ মিলল না মুকুল রায়ের পুত্রবধূ তথা শুভ্রাংশু রায়ের স্ত্রী শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়ের। প্রশাসনিক স্তরে যাবতীয় চেষ্টার পরেও স্ত্রীর কোনও হদিস না পেয়ে এ বার বাধ্য হয়েই সমাজমাধ্যমের দ্বারস্থ হলেন উৎকণ্ঠিত স্বামী শুভ্রাংশু। শর্মিষ্ঠার ছবি এবং তাঁর নেপাল যাত্রার বেশ কিছু তথ্য-সহ একটি পোস্টার সমাজমাধ্যমে শেয়ার করেছেন তিনি। মুকুল-পুত্রের কাতর আর্জি, যদি কারও কাছে শর্মিষ্ঠা সংক্রান্ত সামান্যতম কোনও তথ্যও থাকে, তবে তাঁরা যেন অবিলম্বে নির্দিষ্ট নম্বরে যোগাযোগ করেন।
জানা গিয়েছে, বুধবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ পোস্টারটি নিজের ফেসবুক পেজে শেয়ার করেন শুভ্রাংশু। কিন্তু বৃহস্পতিবার এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত স্ত্রীর বিষয়ে কোনও সদর্থক খবর তাঁর কাছে এসে পৌঁছয়নি। সংবাদমাধ্যমের কাছে হতাশা ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে শুভ্রাংশু বলেন, ‘‘এখনও পর্যন্ত কোনও আপডেট পাইনি। আজ শর্মিষ্ঠার ডিএনএ (DNA) নমুনা সাগর দত্ত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’’
পারিবারিক ও প্রশাসন সূত্রে খবর, ‘চলো যাই’ নামে কলকাতার একটি নামী পর্যটন সংস্থার ৩২ জনের একটি দলের সঙ্গে গত ২১ অগস্ট নেপালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন শর্মিষ্ঠা। গন্তব্য ছিল মানসরোবর। শুভ্রাংশু জানিয়েছেন, স্ত্রী ওই দলেই ছিলেন এবং তিনি একাই নেপালে গিয়েছিলেন। কিন্তু গত বুধবারের ওই ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর থেকে তাঁর আর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। মুকুল-পুত্রের শেয়ার করা পোস্টারে জানানো হয়েছে, নেপালে বিপর্যয়ের আগে শর্মিষ্ঠা সেখানকার ‘শুভম গেস্ট হাউস’-এ উঠেছিলেন এবং তাঁকে শেষবার দেখা গিয়েছিল ‘গিরং পোর্ট’-এ। পোস্টারে যোগাযোগের জন্য ৯০৫১৩৭৭০৬৮ (9051377068) নম্বরটি দেওয়া হয়েছে।
নেপালে হড়পা বানের পর রাজ্যের কত জন পর্যটক নিখোঁজ, তার একটি তালিকা প্রকাশ করেছে রাজ্য সরকার। সেই তালিকাতেও নাম রয়েছে শর্মিষ্ঠার। নিখোঁজদের যাতে দ্রুত হদিশ মেলে, তার জন্য সব রকম চেষ্টা করা হচ্ছে বলে নবান্নের তরফে জানানো হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও শুভ্রাংশু এবং তাঁর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে শর্মিষ্ঠা-সহ বাকিদের খুঁজে বার করার বিষয়ে সব রকম প্রশাসনিক সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন।
তবে শুভ্রাংশু বৃহস্পতিবার জানান, রাজ্য সরকার বা সংশ্লিষ্ট পর্যটন সংস্থা, কারও তরফেই এখনও কোনও আশার খবর মেলেনি। এ বিষয়ে পর্যটন সংস্থা ‘চলো যাই’-এর প্রজেক্ট হেড যশজিৎ বসু বলেন, ‘‘নিখোঁজ চার জনের পরিবারের লোকেদের নিয়ে গত ১ সেপ্টেম্বর আমরা নেপালে গিয়েছিলাম। এ জন্য শুভ্রাংশুবাবুকেও ফোন করা হয়েছিল। কিন্তু ছোট বাচ্চাদের দেখভাল করতে হচ্ছে বলে উনি যেতে পারেননি। তবে যাঁদের নেপালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তাঁরা ওখানকার পরিস্থিতি নিজের চোখে দেখে এসেছেন। নেপাল প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে তাঁদের কথা বলিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তাঁরা ওখানে ডিএনএ নমুনাও দিয়ে এসেছেন।’’
যশজিৎ আরও জানান, বাকি পর্যটকদেরও ডিএনএ নমুনা রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের উদ্যোগে সংগ্রহ করা হচ্ছে। সম্ভবত সেই সব নমুনার রিপোর্ট নেপাল সরকারের দেওয়া একটি নির্দিষ্ট মেল আইডিতে পাঠানো হবে। প্রসঙ্গত, উদ্ধার হওয়া বেওয়ারিশ মৃতদেহগুলির শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে একটি কড়া সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেপাল সরকার। তারা ঠিক করেছে, গণসৎকার বা দেহগুলি কবর দেওয়ার আগে সমস্ত বেওয়ারিশ দেহের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে রাখা হবে। যাতে ভবিষ্যতে পরিবারের কেউ খোঁজ করতে এলে শনাক্তকরণে কোনও সমস্যা না হয়।
মৃতদের ৯ লাখ, ক্ষতিগ্রস্তদের ৩০ হাজার! সবং পরিদর্শনে গিয়ে আর কী ঘোষণা শুভেন্দুর?
বাড়ি সংক্রান্ত নথি তলব! আজই পুরসভার দফতরে যেতে পারেন অভিষেকের বাবা