নেপালের বিপর্যয় বিচ্ছিন্ন, নাকি আগামীর নিয়ম?
সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে, মার্চ থেকে নভেম্বর পর্যন্ত হিমালয়ে মেঘ-বৃষ্টির দাপট চলতেই থাকে। এর পর বরফ-গলা জলের বাষ্পায়ন-জাত অতিরিক্ত মেঘে বিপত্তি আরও বাড়ে। পাহাড়চূড়ায় থাকাকালীন মেঘের তাপমাত্রা কমে জলরাশি বরফেও পরিণত হয়। ক্লাউডবার্স্টের সময়ে শিলাবৃষ্টির কারণ বরফ-সমৃদ্ধ মেঘের ‘ফ্রিজ়িং নিউক্লি’। সাম্প্রতিক বিপর্যয়ে, নেপালের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি জেলা, রাসুয়া-নুয়াকোট-ধাদিং-এ রডোড্রেনডন-ওক-পাইন-বার্চের প্রাচুর্য, তারা জলীয় বাষ্প ধরে রাখে। একাধারে ব্ল্যাক কার্বন, এরোসল আর স্নো-অ্যালবেডো এফেক্টের ফলে বরফের অপস্রিয়মান চাদরের বাষ্পীভবনের দৌলতে ক্রমাগত বেড়ে চলেছে জলীয় বাষ্প এবং মেঘ। অন্য দিকে ‘স্পিসিস মাইগ্রেশন’-এ উদ্বাস্তু সরলবর্গীয় ও পর্ণমোচী বৃক্ষকুল অবিরাম জুগিয়ে চলেছে অতিরিক্ত জলীয়বাষ্প। পাহাড়ের সানুদেশের কম উচ্চতার তাপমাত্রা বৃদ্ধির জ্বরে সংক্রমিত হয়ে পড়ছে পাহাড়চূড়া। ডেকে আনছে বিভীষিকা। ভূ-বিজ্ঞানের পরিভাষায় যা ‘এলিভেশন ডিপেনডেন্ট ওয়ার্মিং’ হিসাবে পরিচিত।
কিংকর্তব্য
প্রায় সমগ্র হিমালয় ভূমিকম্পপ্রবণ। তুষারধৌত গিরিশৃঙ্গ শিথিল-ভঙ্গুর পাথর, যেমন শেল-স্লেট-লাইমস্টোন দ্বারা গঠিত। প্রবল বৃষ্টিতে আলগা শিলা খসে পড়ে নামায় ধস। বাড়ায় হড়পা বান, গ্লফ ও ক্লাউডবার্স্ট-এর ক্ষয়ক্ষতির বহর। নেপালের রাসুয়া-লাঙটাং-গন্ডোকি-বালুং সম্প্রতি শুরু করেছে ওক গাছের অবৈজ্ঞানিক, অপরিকল্পিত বন-সৃজন। ওক গাছের সংখ্যাধিক্যে বাড়ছে ক্লাউডবার্স্ট এবং ধস ও হড়পা বানের মাত্রা। প্রসাধনী উন্নয়ন ও মুনাফাখোর পর্যটনের গুঁতোয় পাহাড়ে অঢেল অবৈজ্ঞানিক নির্মাণ ফ্ল্যাশ ফ্লাড, গ্লফ, ক্লাউডবার্স্ট-এর সংখ্যা বাড়িয়ে যে কোনও দিন নিশ্চিহ্ন করে দিতেই পারে দেবভূমি উত্তরাখণ্ড-সহ নেপাল, সিকিম, ভুটান, দার্জিলিং, কাশ্মীর, অরুণাচলের বিস্তীর্ণ নয়নাভিরাম এলাকা। বিজ্ঞানকে ব্রাত্য করে শুধু ‘রিমোট সেন্সিং’ আর ‘আর্লি ওয়ার্নিং’-এর উপর ভর করে হিমালয়-সংলগ্ন একটি দেশেরও টিকে থাকা মুশকিল।
লেখক বিজ্ঞানী