টার্গেট পাক-চিন-বাংলাদেশ সীমান্ত! ৩৬ হাজার কিমি উচ্চতায় ভারতের ‘আকাশচোখ’ EOS-05 - 24 Ghanta Bangla News
Home

টার্গেট পাক-চিন-বাংলাদেশ সীমান্ত! ৩৬ হাজার কিমি উচ্চতায় ভারতের ‘আকাশচোখ’ EOS-05

Spread the love

নয়াদিল্লি: মহাকাশ থেকে ভারতের সীমান্ত ও গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলিতে এবার আরও ধারাবাহিক নজরদারির সুযোগ তৈরি হতে চলেছে। শুক্রবার শ্রীহরিকোটা থেকে ভারতের প্রথম জিওসিঙ্ক্রোনাস অরবিট বা GEO…

নয়াদিল্লি: মহাকাশ থেকে ভারতের সীমান্ত ও গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলিতে এবার আরও ধারাবাহিক নজরদারির সুযোগ তৈরি হতে চলেছে। শুক্রবার শ্রীহরিকোটা থেকে ভারতের প্রথম জিওসিঙ্ক্রোনাস অরবিট বা GEO কক্ষপথে থাকা ইমেজিং স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করবে ইসরো। সফল হলে প্রায় ৩৬ হাজার কিলোমিটার উচ্চতায় থাকা এই উপগ্রহ পৃথিবীর একই অঞ্চলের উপর কার্যত নিরবচ্ছিন্ন নজর রাখতে পারবে।

ইসরোর GSLV F17 মিশনের মাধ্যমে EOS-05 উৎক্ষেপণ করা হবে ৪ সেপ্টেম্বর রাত ২টা ৫৫ মিনিটে। এই উপগ্রহটি Gisat-1A নামেও পরিচিত। ইসরোর দাবি, এটি জিওসিঙ্ক্রোনাস কক্ষপথ থেকে ভারতের প্রথম অত্যাধুনিক ইমেজিং স্যাটেলাইট।

এই উপগ্রহ সফলভাবে কক্ষপথে স্থাপিত হলে মহাকাশ থেকে ভারতের সীমান্ত, গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সম্পদ এবং বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলের উপর নজরদারির সুযোগ তৈরি হবে। এর ব্যবহার শুধু প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকবে না। অসামরিক ক্ষেত্রেও পৃথিবী পর্যবেক্ষণ এবং পরিবেশ সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে এই উপগ্রহের তথ্য ব্যবহার করা যাবে।

Read More: ভারতের ১১ টাকা ইউনিট বিদ্যুতে না তারেকের! চিনের ২৫ টাকা ইউনিটের বিদ্যুতেই ভরসা বাংলাদেশের

কেন গুরুত্বপূর্ণ GEO কক্ষপথ?

বর্তমানে ইসরোর অধিকাংশ ইমেজিং এবং আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট, যেমন Cartosat ও Risat সিরিজের উপগ্রহ, লো আর্থ অরবিট বা LEO-তে অবস্থান করে। সাধারণত এই কক্ষপথ পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬০ থেকে ২,০০০ কিলোমিটারের মধ্যে। LEO স্যাটেলাইট পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করার সময় কোনও নির্দিষ্ট অঞ্চলের উপর দিয়ে অতিক্রম করে। ফলে কোনও এলাকার ছবি নেওয়ার পর একই জায়গায় ফেরত আসতে সময় লাগে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে সেই পুনরায় পর্যবেক্ষণের জন্য কয়েক দিনও অপেক্ষা করতে হতে পারে।

GEO কক্ষপথের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আলাদা। প্রায় ৩৬ হাজার কিলোমিটার উচ্চতায় স্যাটেলাইট পৃথিবীর ঘূর্ণনের সঙ্গে একই গতিতে প্রদক্ষিণ করে। ফলে সেটি পৃথিবীর নির্দিষ্ট একটি অঞ্চলের উপর স্থির রয়েছে বলে মনে হয়। এর ফলে EOS-05 একই অঞ্চলের উপর দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ চালাতে পারবে। কোনও নির্দিষ্ট এলাকার ছবি নেওয়ার জন্য বারবার সেই অঞ্চলের উপর দিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না।

সীমান্তে ২৪x৭ নজরদারির সম্ভাবনা

এই প্রযুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হতে পারে নিরবচ্ছিন্ন পর্যবেক্ষণ। কোনও সীমান্ত এলাকা, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল বা নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের উপর দীর্ঘ সময় ধরে নজর রাখা সম্ভব হবে। শুধু ধীরগতির পরিবর্তন নয়, দ্রুত ঘটে যাওয়া প্রাকৃতিক ঘটনাও পর্যবেক্ষণ করা যাবে। যেমন ভয়াবহ ঝড়, বজ্রপাত, দাবানল বা আগুনের মতো দ্রুত পরিবর্তনশীল ঘটনাগুলির উপর নিয়মিত নজর রাখা সম্ভব হবে।

এই কারণেই EOS-05-কে ভারতের জন্য কার্যত ‘আই ইন দ্য স্কাই’ বা ‘আকাশচোখ’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারতীয় উপমহাদেশের উপর এটি দীর্ঘমেয়াদি নজরদারির একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশভিত্তিক ব্যবস্থা হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে LEO বা সান-সিঙ্ক্রোনাস অরবিটে থাকা উপগ্রহ পৃথিবীর চারদিকে ঘুরতে থাকে। পৃথিবীও একই সময়ে নিজের অক্ষে ঘোরে। ফলে একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের উপর দিয়ে উপগ্রহ চলে যাওয়ার পর সেটি আবার সেই জায়গায় ফিরে আসতে সময় লাগে।

Read More: ২০০ বছর পর বংশে কন্যাসন্তান! সদ্যোজাতকে রথে চাপিয়ে ঘরে আনল মহারাষ্ট্রের পরিবার

থাকছে দুটি মাল্টিস্পেকট্রাল ইমেজার

EOS-05-এ রয়েছে দুটি মাল্টিস্পেকট্রাল ইমেজার। এর মধ্যে একটি ক্যামেরার স্পেশিয়াল রেজোলিউশন প্রতি পিক্সেলে ৪২ মিটার। GEO বা জিওস্টেশনারি কক্ষপথে থাকা উপগ্রহগুলির মধ্যে এটিই এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ রেজোলিউশনের ক্যামেরা হবে বলে জানানো হয়েছে। এর ফলে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের তুলনামূলক বিস্তারিত ছবি সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। ভূমি ও পরিবেশ পর্যবেক্ষণ থেকে শুরু করে নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন এমন বিভিন্ন কাজে এই ডেটা ব্যবহার করা যাবে। উপগ্রহটির নকশাই এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে কোনও অঞ্চলের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং পৃথিবীর পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির উপর নজর রাখা যায়।

২০২১ সালের ব্যর্থ মিশনের পর নতুন Gisat

EOS-05 আসলে ২০২১ সালের ব্যর্থ Gisat-1 মিশনের পরিবর্তে তৈরি করা হয়েছে। ২০২১ সালের ১২ অগস্ট GSLV-F10 রকেটের মাধ্যমে Gisat-1 উৎক্ষেপণের চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু রকেটের ক্রায়োজেনিক আপার স্টেজে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে প্রয়োজনীয় ইগনিশন সঠিকভাবে হয়নি। ফলে মিশনটি সফল হয়নি এবং Gisat-1 হারিয়ে যায়। সেই উৎক্ষেপণ সফল হলে Gisat-1-ই জিওস্টেশনারি কক্ষপথ থেকে কাজ করা ভারতের প্রথম আর্থ-ইমেজিং স্যাটেলাইট হতে পারত। এবার সেই লক্ষ্য পূরণের জন্য EOS-05-কে পাঠানো হচ্ছে।

প্রায় আট মাস পর ফের বড় উৎক্ষেপণ

শুক্রবারের GSLV F17 মিশন ইসরোর জন্য আরও একটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় আট মাসের বিরতির পর ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ফের শ্রীহরিকোটার লঞ্চপ্যাড থেকে বড় উৎক্ষেপণ করতে চলেছে।

সফল হলে EOS-05 শুধু ভারতের আর্থ অবজারভেশন সক্ষমতাই বাড়াবে না, বরং জিওসিঙ্ক্রোনাস কক্ষপথ থেকে দীর্ঘক্ষণ ধরে একই অঞ্চলের পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে ইসরোর সক্ষমতাতেও নতুন মাত্রা যোগ করবে। বিশেষ করে সীমান্ত নজরদারি, কৌশলগত পর্যবেক্ষণ, আবহাওয়া ও পরিবেশ পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে এই উপগ্রহের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *