MG Hector Tomahawk পিএইচইভি লঞ্চ, ১১০০ কিমি রেঞ্জ, দাম ২৫.৭০ লাখ - 24 Ghanta Bangla News
Home

MG Hector Tomahawk পিএইচইভি লঞ্চ, ১১০০ কিমি রেঞ্জ, দাম ২৫.৭০ লাখ

Spread the love

ভারতের বাজারে প্লাগ-ইন হাইব্রিড এসইউভির তালিকায় নতুন সংযোজন এমজি হেক্টর টমাহক (MG Hector Tomahawk) পিএইচইভি। গত মাসে ২৫.৭০ লাখ টাকা, এক্স-শোরুম দাম থেকে ভারতে লঞ্চ হয়েছে এই সাত আসনের এসইউভি। বড় ১৫.৬ ইঞ্চির ইনফোটেইনমেন্ট স্ক্রিন, একাধিক হাইব্রিড ড্রাইভ মোড, রিয়ার উইন্ডো সানশেড থেকে শুরু করে লেভেল-২ এডিএএসের মতো একাধিক ফিচার রয়েছে এতে।

যাঁরা সাত আসনের এসইউভির মধ্যে হাইব্রিড মডেল খুঁজছেন, তাঁদের কাছে হেক্টর টমাহক পিএইচইভি আকর্ষণীয় বিকল্প হতে পারে। এই গাড়ি বুক করার পদ্ধতি, ডেলিভারির সময়, ফিচার, ইঞ্জিন এবং দাম সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

অনলাইনে কীভাবে বুক করবেন এমজি হেক্টর টমাহক পিএইচইভি?

এমজি হেক্টর টমাহক পিএইচইভি অনলাইনে বুক করা যায়। বুকিংয়ের জন্য কয়েকটি সহজ ধাপ অনুসরণ করতে হবে। প্রথমে এমজি কারসের বিভাগে গিয়ে হেক্টর টমাহক পিএইচইভি মডেলটি বেছে নিতে হবে। এরপর পছন্দের ভ্যারিয়েন্ট এবং গাড়ির বাইরের রং নির্বাচন করতে হবে। এর পরবর্তী ধাপে কাছাকাছি বা পছন্দের এমজি ডিলারশিপ বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকবে। এখান থেকেই গাড়ির ডেলিভারি নেওয়া যাবে। ক্রেতাকে পেমেন্টের ধরনও নির্বাচন করতে হবে। সম্পূর্ণ টাকা একসঙ্গে দেওয়ার পাশাপাশি গাড়ির ঋণ নেওয়ার বিকল্পও রয়েছে। সব তথ্য যাচাই করে বুকিংয়ের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে গিয়ে অনলাইনে বুকিংয়ের টাকা জমা দিলেই সংরক্ষণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

ডিলারশিপে গিয়ে বুকিংয়ের সুবিধাও রয়েছে

অনলাইনের পাশাপাশি নিকটবর্তী এমজি ডিলারশিপে গিয়েও হেক্টর টমাহক পিএইচইভি বুক করা যাবে। ডিলারশিপে পৌঁছনোর পর একজন বিক্রয়কর্মী গাড়িটির সম্পূর্ণ ওয়াকঅ্যারাউন্ড দেখাবেন। প্রয়োজনে টেস্ট ড্রাইভও নেওয়া যাবে। গাড়িটি পছন্দ হলে পরবর্তী বুকিং প্রক্রিয়ার জন্য ব্যক্তিগত তথ্য দিতে হবে।

এরপর পছন্দের ভ্যারিয়েন্ট এবং রং চূড়ান্ত করে বুকিংয়ের টাকা জমা দিতে হবে। বুকিংয়ের আগে বাতিলের নিয়ম, ঋণের বিকল্প এবং সম্ভাব্য ডেলিভারি সময় ডিলারশিপের কাছ থেকে জেনে নেওয়া ভালো। কারণ ভ্যারিয়েন্ট এবং রঙের উপর ভিত্তি করে অপেক্ষার সময় আলাদা হতে পারে।

নভেম্বর থেকে টেস্ট ড্রাইভ ও ডেলিভারি

হেক্টর টমাহক পরিবারের বৈদ্যুতিক সংস্করণ, হেক্টর টমাহক ইভি-র ডেলিভারি চলতি মাসে শুরু হওয়ার কথা। তবে পিএইচইভি সংস্করণের ক্ষেত্রে আরও কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে। হেক্টর টমাহক পিএইচইভির টেস্ট ড্রাইভ এবং ডেলিভারি নভেম্বর ২০২৬ থেকে শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট ভ্যারিয়েন্ট এবং রঙের উপর ভিত্তি করে প্রত্যাশিত ডেলিভারির সময় পরিবর্তিত হতে পারে।

ডিজাইনে ইভি সংস্করণের থেকে আলাদা

হেক্টর টমাহক পিএইচইভির সামনের অংশে আয়তাকার এলইডি হেডল্যাম্পের সঙ্গে ইন্টিগ্রেটেড এইচ-আকৃতির এলইডি ডিআরএল রয়েছে। ক্রোম-স্টাডেড গ্রিল এবং আরও বড়সড় ডিজাইনের সামনের বাম্পার গাড়িটিকে আলাদা চেহারা দিয়েছে। পাশের অংশে রয়েছে কালো রুফ রেল, ক্রোম উইন্ডো লাইন এবং পিছনের দিকে উঠে যাওয়া উইন্ডো লাইন। রিয়ার কোয়ার্টার প্যানেলে রয়েছে সিলভার ইনসার্ট। বডি-কালার ডোর হ্যান্ডেল, কালো হুইল-আর্চ ক্ল্যাডিং এবং ১৮ ইঞ্চির অ্যালয় হুইল গাড়িটির এসইউভি চরিত্র আরও জোরালো করেছে। সাইড ডোর ক্ল্যাডিংও রয়েছে।

পিছনের ডিজাইনটি অবশ্য টমাহক ইভির সঙ্গে অনেকটাই মিল। এখানে এইচ-আকৃতির নকশার স্প্লিট এলইডি টেলল্যাম্প, লুকনো রিয়ার ওয়াইপার ও ওয়াশার এবং সিলভার ইনসার্ট-সহ স্কাল্পটেড রিয়ার বাম্পার রয়েছে।

১৫.৬ ইঞ্চির বড় টাচস্ক্রিন

কেবিনের অন্যতম আকর্ষণ ১৫.৬ ইঞ্চির ইনফোটেইনমেন্ট টাচস্ক্রিন। এতে ওয়্যারলেস অ্যান্ড্রয়েড অটো এবং অ্যাপল কারপ্লে রয়েছে। ফ্যানের গতি, এসির তাপমাত্রা এবং ভেন্টিলেটেড সিটের মতো বেশ কিছু নিয়ন্ত্রণও স্ক্রিনের মাধ্যমে করা যায়। এছাড়াও রয়েছে ওয়্যারলেস ফোন চার্জার, অটোমেটিক ক্লাইমেট কন্ট্রোল এবং চারটি দরজার অটো আপ-ডাউন পাওয়ার উইন্ডো, সঙ্গে অ্যান্টি-পিঞ্চ ফিচার।

কেবিনে ক্যাম্প, ভ্যালেট, ন্যাপ এবং পেটের মতো একাধিক মোডও রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী এই মোডগুলি এসির তাপমাত্রা পরিবর্তন করে। চালকের জন্য ৬-ওয়ে পাওয়ারড সিট এবং সামনের সহযাত্রীর জন্য ৪-ওয়ে পাওয়ারড সিট দেওয়া হয়েছে। দু’টি সামনের সিটেই ভেন্টিলেশন রয়েছে।

নিরাপত্তায় লেভেল-২ এডিএএস

নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বেশ কিছু আধুনিক প্রযুক্তি রয়েছে। হেক্টর টমাহাক পিএইচইভিতে লেভেল-২ অ্যাডভান্সড ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেম বা এডিএএস দেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা এবং একাধিক ক্যামেরা ভিউ। এছাড়াও ভেহিকল-টু-লোড বা ভি২এল, ভেহিকল-টু-হোম বা ভি২এইচ এবং ভেহিকল-টু-ভেহিকল বা ভি২ভি প্রযুক্তি রয়েছে। ভি২এইচ এই সেগমেন্টে প্রথম বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া টায়ার প্রেসার মনিটরিং সিস্টেম, ইলেকট্রনিক স্ট্যাবিলিটি কন্ট্রোল, ইলেকট্রনিক পার্কিং ব্রেক, রেন-সেন্সিং ওয়াইপার, অটোমেটিক হেডল্যাম্প এবং আইএসওফিক্স চাইল্ড সিট মাউন্ট রয়েছে।

১১০০ কিমি পর্যন্ত সম্মিলিত রেঞ্জ

হেক্টর টমাহক পিএইচইভিতে রয়েছে ১.৫ লিটারের ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড পেট্রল ইঞ্জিন। এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে প্লাগ-ইন হাইব্রিড সিস্টেম, ২০.৫ কিলোওয়াট-ঘণ্টার ব্যাটারি প্যাক এবং একটি ইলেকট্রিক মোটর।

বিষয় স্পেসিফিকেশন
ইঞ্জিন ১.৫ লিটার ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড পেট্রল
ব্যাটারি ২০.৫ কিলোওয়াট-ঘণ্টা
ইঞ্জিনের শক্তি ১০২ পিএস
ইলেকট্রিক মোটরের শক্তি ২০১ পিএস
ইঞ্জিনের টর্ক ১২৫ এনএম
ইলেকট্রিক মোটরের টর্ক ২৩৭ এনএম
সম্মিলিত দাবি করা রেঞ্জ ১১০০ কিমি
শুধু ইভি মোডে রেঞ্জ ১১৫ কিমি
ইলেকট্রিক মোটর ১টি
ট্রান্সমিশন ডিএইচটি

সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এমআইডিসি পার্ট ১ এবং পার্ট ২ পরীক্ষার ভিত্তিতে এই রেঞ্জের দাবি করা হয়েছে।

দাম ও প্রতিদ্বন্দ্বী

এমজি হেক্টর টমাহাক পিএইচইভির দাম শুরু হচ্ছে ২৫.৭০ লাখ টাকা, এক্স-শোরুম থেকে। টপ ভ্যারিয়েন্টের দাম ২৭.৮০ লাখ টাকা, এক্স-শোরুম। তবে ব্যাটারি অ্যাজ আ সার্ভিস বা বিএএএস সাবস্ক্রিপশন বেছে নিলে গাড়িটির প্রাথমিক দাম কমে ২১.৭৯ লাখ টাকা, এক্স-শোরুম হতে পারে। এর সঙ্গে আলাদা ব্যাটারি ভাড়া দিতে হবে।

এই এসইউভির সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে রয়েছে মাহিন্দ্রা এক্সইউভি ৭এক্সও, টাটা সাফারি এবং হুন্ডাই আলকাজার। পাশাপাশি ভবিষ্যতে হাইব্রিড প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে কিয়া সোরেন্টোর সঙ্গেও লড়াই করতে হতে পারে।

২০.৫ কিলোওয়াট-ঘণ্টার ব্যাটারি, ১১৫ কিলোমিটারের বৈদ্যুতিক রেঞ্জ, ১১০০ কিলোমিটারের সম্মিলিত দাবি করা রেঞ্জ এবং দীর্ঘ ফিচার তালিকার কারণে এমজি হেক্টর টমাহাক পিএইচইভি সাত আসনের গাড়ির বাজারে একটি উল্লেখযোগ্য প্লাগ-ইন হাইব্রিড বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *