Expired Food: এটাই খাচ্ছেন লোকজন? ফ্রিজ খুলতেই রক্ত মাখা মাংস, পচা ললিপপ-ড্রামস্টিক ভর্তি! আঁতকে উঠলেন আধিকারিকও | Food Safety Shock: Blood Stained Meat, Rotten Chicken Lollipops drumstick Found in Fridge, Officer Left Stunned in Hoogly & East Burdwan
মনোতোষ পোদ্দার, সনৎ মাজি ও আশিক ইনসান
বর্ধমান ও হুগলি: লোকজন খাবার কিনছেন দাম দিয়ে। দোকানদারদের কথায় বিশ্বাস করে সেই খাবার খেয়েও নিচ্ছেন, কিন্তু ভিতরে কী থাকছে জানেন? নামী-দামি রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে মিষ্টির দোকান। যেখানেই অভিযান চালানো হচ্ছে, সেখানেই ভয়ঙ্কর ছবি উঠে আসছে। কোথাও ফ্রিজ থেকে পাওয়া যাচ্ছে পচা মাংস, কোথাও আবার রাখা কেজি কেজি মেয়াদ উত্তীর্ণ পনির।
সীতাভোগ-মিহিদানার শহর বর্ধমানের নামী মিষ্টির দোকানে খাদ্য সুরক্ষা দফতরের অভিযান চালাতেই উদ্ধার হল কেজি কেজি মেয়াদ উত্তীর্ণ পনির। বুধবার বর্ধমান পৌরসভার সামনে একটি মিষ্টির দোকানে অভিযান চালায় খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকরা। তাঁদের সঙ্গে ছিল বর্ধমান থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। সেই দোকান থেকে উদ্ধার হল বেশ কয়েক কেজি মেয়াদ উত্তীর্ণ পনির। একই অভিযোগে বি বি ঘোষ রোডের আরও একটি নামী মিষ্টির দোকানেও অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকেও বিপুল পরিমাণ মেয়াদ উত্তীর্ণ পনির পাওয়া যায়। উদ্ধার হওয়া পনির নষ্ট করে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আপাতত পনির বিক্রি বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।
বি বি ঘোষ রোডের একটি নামী মিষ্টির দোকান থেকে মিষ্টিতে ব্যবহৃত রং, মশলা, ঘি এবং বিভিন্ন মিষ্টির নমুনা সংগ্রহ করেন আধিকারিকরা। শুধু মেয়াদ উত্তীর্ণ পনির নয়, পাশাপাশি মেয়াদ উত্তীর্ণ আইসক্রিম ও কোল্ড ড্রিঙ্কসও বাজেয়াপ্ত করা হয়।
একটি দোকান থেকে ঘিয়ের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষায় ঘি-তে কোনও গরমিল ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট দোকানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে খাদ্য সুরক্ষা দফতরের তরফে সতর্ক করা হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, নামী মিষ্টির দোকানগুলির উপর সাধারণ মানুষের নির্ভরতা তুলনামূলকভাবে বেশি। তাই ক্রেতাদের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে এই ধরনের দোকানগুলিতে বিশেষভাবে নজর দেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার শক্তিগড়ের ল্যাংচার দোকানগুলিতেও অভিযান চালিয়েছিল খাদ্য সুরক্ষা দফতর। আগামিদিনেও জেলার বিভিন্ন মিষ্টির দোকান ও খাবারের প্রতিষ্ঠানে এই অভিযান ধারাবাহিকভাবে চলবে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।
একইভাবে হুগলিতেও একাধিক জায়গায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে তো আরও ভয়ঙ্কর ছবি। যতগুলো ফ্রিজ সবেতেই ডাঁই করা মাংস। কোনওটায় ছাতা পরেছে, কোনওটায় আবার জমাট বেঁধে আছে রক্ত। অস্বাস্থ্যকর মাংসের যেন সম্ভার দাদপুরের হোটেলে। ফুড সেফটি সপ্তাহে যেখানেই যাচ্ছেন আধিকারিকরা, সেখানেই দেখছেন খাদ্য সুরক্ষা না মানাটাই যেন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আজ, বুধবার হুগলির দাদপুর থানার মহেশ্বরপুরে জাতীয় সড়কের পাশের একাধিক হোটেল রেস্তোরাঁয় অভিযান চালায় জেলা স্বাস্থ্য দফতরের খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকরা। কোনও হোটেলে দেখা যায় দুধে মাছি পরে থাকতে। কোথাও আবার ফ্রিজ খুলতেই দেখা যায়, থরে থরে প্লাস্টিকের প্যাকেটে ভরা মাংস। হোটেল কর্তৃপক্ষ এই মাংস দুইদিন আগে কেনা হয়েছে বলে দাবি করলেও, তার স্বপক্ষে কোনও বিল দেখাতে পারেনি। ছাতা পরে যাওয়া মাংস, সিদ্ধ করা মাংসও ফ্রিজে জমা করে রাখা হয়েছে দেখা যায়। খারাপ মাংস বিক্রি করতে নিষেধ করে যান আধিকারিকরা। পাশাপাশি কাসুন্দি-সস যেগুলি খাওয়া হয়, সেগুলি স্বাস্থ্যকর কিনা, তা পরীক্ষা করে দেখতে স্যাম্পেল নিয়ে যান আধিকারিকরা।
শুধু মাংস নয়, বাঙালির প্রিয় বিরিয়ানিতেও ভেজাল। দেখা গেল, মানুষের খাবার জন্য নয়, এমন রঙ মেশানো হচ্ছে জনপ্রিয় খাবার বিরিয়ানিতে। রিষড়ায় খাদ্য সুরক্ষা দফতর অভিযান অভিযান চালাতেই এই ছবি ধরা পড়ল। রিষড়ায় একটি জনপ্রিয় বিরিয়ানির দোকানে অভিযান চালিয়ে আধিকারিকরা দেখেন, মানুষ খাবার উপযুক্ত নয় এমন রঙ মেশানো হচ্ছে। হলুদ রঙের বিরিয়ানি দেখে চমকে ওঠেন আধিকারিকরা। সঙ্গে সঙ্গে বিরিয়ানি ফেলে দিতে বলেন।আধিকারিকরা বলেন, “মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে এসব না খেতে।পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হচ্ছে।খাদ্য বিধি না মানলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”