১০ লাখে বুকিং Range Rover ইলেকট্রিক, ৬০০ কিমি রেঞ্জ, দাম ৩.৫ কোটি - 24 Ghanta Bangla News
Home

১০ লাখে বুকিং Range Rover ইলেকট্রিক, ৬০০ কিমি রেঞ্জ, দাম ৩.৫ কোটি

Spread the love

কলকাতা: ভারতে রেঞ্জ রোভার (Range Rove) ইলেকট্রিকের বুকিং শুরু করল জেএলআর। ১০ লাখ টাকার টোকেন মূল্যে এই বিলাসবহুল বৈদ্যুতিক এসইউভি বুক করা যাবে। উৎপাদনের জন্য…

কলকাতা: ভারতে রেঞ্জ রোভার (Range Rove) ইলেকট্রিকের বুকিং শুরু করল জেএলআর। ১০ লাখ টাকার টোকেন মূল্যে এই বিলাসবহুল বৈদ্যুতিক এসইউভি বুক করা যাবে। উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত মডেলটির প্রযুক্তিগত তথ্যও প্রকাশ করেছে সংস্থা। নতুন রেঞ্জ রোভার ইলেকট্রিকের ব্যাটারি থেকে ডব্লিউএলটিপি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ৬০০ কিলোমিটার রেঞ্জ পাওয়া যাবে বলে দাবি করা হয়েছে। বাস্তব পরিস্থিতিতে সংস্থার দাবি, রেঞ্জ প্রায় ৫৩৫ কিলোমিটার। ভারতে স্ট্যান্ডার্ড হুইলবেস মডেলটি অটোবায়োগ্রাফি ট্রিমে এবং লং-হুইলবেস সংস্করণ এসভি, এসভি আল্ট্রা ও এসভি ব্ল্যাক ট্রিমে বুক করা যাবে। পাশাপাশি স্ট্যান্ডার্ড হুইলবেস রেঞ্জ রোভার ইলেকট্রিক ফার্স্ট এডিশনের বুকিংও নেওয়া হচ্ছে।

১১৮.৫ কিলোওয়াট আওয়ার ব্যাটারি, ৫৫০ এইচপি শক্তি

রেঞ্জ রোভার ইলেকট্রিক তৈরি হয়েছে ফ্লেক্সিবল মডিউলার লংগিটিউডিনাল আর্কিটেকচার বা এমএলএ-ফ্লেক্স প্ল্যাটফর্মে। এই একই প্ল্যাটফর্মে রেঞ্জ রোভারের পেট্রল-ডিজেল ইঞ্জিন এবং প্লাগ-ইন হাইব্রিড সংস্করণও তৈরি হয়। বৈদ্যুতিক এসইউভিটিতে রয়েছে বিশাল ১১৮.৫ কিলোওয়াট আওয়ার ব্যাটারি প্যাক। এই ব্যাটারি দুটি বৈদ্যুতিক মোটরকে শক্তি জোগায়। দুই মোটর মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৫৫০ এইচপি শক্তি এবং ৮৫০ এনএম টর্ক উৎপন্ন করতে পারে। ০ থেকে ১০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায় পৌঁছতে সময় লাগে মাত্র ৪.৫ সেকেন্ড। ফলে আকার ও ওজনের দিক থেকে বড় বিলাসবহুল এসইউভি হলেও পারফরম্যান্সে এটি যথেষ্ট দ্রুত।

৩৫০ কিলোওয়াট চার্জারে ২২ মিনিটে ১০-৮০ শতাংশ চার্জ

চার্জিংয়ের ক্ষেত্রেও রেঞ্জ রোভার ইলেকট্রিক বেশ শক্তিশালী। ৩৫০ কিলোওয়াট ডিসি ফাস্ট চার্জার ব্যবহার করলে মাত্র ২২ মিনিটে ব্যাটারি ১০ শতাংশ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ করা যায়। এমনকি মাত্র ১০ মিনিট চার্জ করলেই প্রায় ২২০ কিলোমিটার অতিরিক্ত রেঞ্জ পাওয়া যেতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থা। ডব্লিউএলটিপি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ৬০০ কিলোমিটার রেঞ্জের দাবি করা হলেও বাস্তব পরিস্থিতিতে ৫৩৫ কিলোমিটার পর্যন্ত রেঞ্জ পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে জেএলআর।

range-rover-electric-booking-india-600km-range-price-3-5-crore

৪৫ ডিগ্রি ঢালেও উঠতে পারবে

রেঞ্জ রোভার ইলেকট্রিক শুধু বিলাসবহুল শহুরে এসইউভি নয়, অফ-রোড সক্ষমতার দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। সিঙ্গল-পেডাল ড্রাইভিং ব্যবস্থায় গাড়িটি সর্বোচ্চ ৪৫ ডিগ্রি ঢাল বেয়ে উঠতে পারে। গাড়িতে রয়েছে ব্র্যান্ডের ইন্টেলিজেন্ট ড্রাইভলাইন ডায়নামিক্স ব্যবস্থা। রাস্তার পরিস্থিতি ও ভূখণ্ড অনুযায়ী এটি টর্কের বণ্টন নিয়ন্ত্রণ করে, যাতে চাকা গ্রিপ হারানোর সম্ভাবনা কমে। এছাড়া ট্র্যাকশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম মাত্র ৫০ মিলিসেকেন্ডের মধ্যে মোটরের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। সংস্থার দাবি, ইঞ্জিনচালিত গাড়ির সমতুল্য ব্যবস্থার তুলনায় এটি ১০০ গুণ দ্রুত স্লিপ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ইঞ্জিনচালিত রেঞ্জ রোভারের মতোই নতুন বৈদ্যুতিক মডেলের ওয়াটার-ওয়েডিং ক্ষমতা ৯০০ মিমি। সঙ্গে থাকছে এয়ার সাসপেনশন।

ডিজাইনে ইঞ্জিনচালিত রেঞ্জ রোভারের মতোই

বাহ্যিক ডিজাইনে জেএলআর খুব বেশি পরিবর্তন করেনি। ইঞ্জিনচালিত রেঞ্জ রোভারের সঙ্গে নতুন বৈদ্যুতিক মডেলটির চেহারার মিল অত্যন্ত বেশি। এতে একই ধরনের এলইডি হেডল্যাম্প, দিনের আলো বা ডিআরএল এবং টেল-ল্যাম্প রয়েছে। সামনের দরজায় রেঞ্জ রোভারের পরিচিত গ্রাফিক, ফ্লাশ-ফিটিং দরজার হাতল, দুটি শার্ক-ফিন অ্যান্টেনা এবং রিয়ার স্পয়লারের ভিতরে লুকিয়ে থাকা ওয়াইপারও রয়েছে। টেলগেট এবং পিছনের বাম্পারে রুপালি রঙের ট্রিমও রাখা হয়েছে। মূল পার্থক্য দেখা যায় অ্যারোডায়নামিক্সে। বৈদ্যুতিক সংস্করণে অ্যারো-অপ্টিমাইজড ফ্রন্ট গ্রিল এবং বিশেষ নকশার চাকা ব্যবহার করা হয়েছে। মজার বিষয় হল, গাড়ির বডির কোথাও ‘ইলেকট্রিক’ লেখা নেই। আবার বৈদ্যুতিক গাড়ি হওয়ায় কোনও এক্সজস্ট পাইপও নেই। ডিজাইনের সঙ্গে এতটাই মিল যে রেঞ্জ রোভারের গ্লোবাল প্রোডাকশন ম্যানেজার র‌্যাচেল হগ জানিয়েছেন, প্রোটোটাইপ পরীক্ষার সময় গাড়িগুলিকে আলাদা করে ছদ্মবেশে ঢাকার প্রয়োজন হয়নি।

ভিতরেও প্রায় একই রেঞ্জ রোভার

কেবিনে ঢুকলেও ইঞ্জিনচালিত মডেলের সঙ্গে বৈদ্যুতিক সংস্করণের পার্থক্য সহজে বোঝা যাবে না। স্টিয়ারিং হুইল, ড্যাশবোর্ড, ড্রাইভ মোড সিলেক্টর, সেন্টার কনসোল এবং স্ক্রিনের নকশা পরিচিত রেঞ্জ রোভারের মতোই রাখা হয়েছে। ডিজিটাল ড্রাইভার ডিসপ্লের মাপ ১৩.৭ ইঞ্চি এবং ইনফোটেনমেন্ট টাচস্ক্রিন ১৩.১ ইঞ্চির। তবে বৈদ্যুতিক মডেলে নতুন কিছু প্রযুক্তি থাকছে। এর মধ্যে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর রেঞ্জ প্রেডিক্টর। এছাড়া ‘ডিজিটাল টুইন’ ব্যবস্থা ব্যাটারির স্বাস্থ্য এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পর্যবেক্ষণ করবে। এই প্রযুক্তি রেঞ্জ রোভার ইলেকট্রিকের সব সংস্করণেই স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে থাকার কথা।

প্যানোরামিক সানরুফ থেকে ম্যাসাজ সিট

ভারতীয় সংস্করণের বিভিন্ন ট্রিম অনুযায়ী একাধিক বিলাসবহুল ফিচার পাওয়া যেতে পারে। এর মধ্যে প্যানোরামিক সানরুফ, ব্র্যান্ডেড সাউন্ড সিস্টেম, মাল্টি-জোন ক্লাইমেট কন্ট্রোল এবং হিটেড, ভেন্টিলেটেড ও ম্যাসাজ ফাংশনযুক্ত আসন থাকতে পারে। রেঞ্জ রোভার হওয়ায় ক্রেতাদের জন্য একাধিক কাস্টমাইজেশন বা ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী গাড়ি সাজানোর বিকল্পও থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

ভারতে দাম হতে পারে প্রায় ৩.৫ কোটি টাকা

রেঞ্জ রোভার ইলেকট্রিক তৈরি হচ্ছে ব্রিটেনের সোলিহাল কারখানায়। ভারতে এটি সম্পূর্ণ তৈরি গাড়ি হিসেবে আমদানি করা হবে। বৈদ্যুতিক গাড়ি হওয়ায় ভারত-ব্রিটেন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আওতায় কোনও শুল্ক ছাড় পাওয়ার যোগ্য হবে না। ফলে আমদানি করা গাড়ি হিসেবে এর দাম বেশ চড়া হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রেঞ্জ রোভার ইলেকট্রিকের ভারতে সম্ভাব্য শুরুর দাম প্রায় ৩.৫ কোটি টাকা, এক্স-শোরুম হতে পারে। বুকিংয়ের জন্য অবশ্যই দিতে হবে ১০ লাখ টাকা টোকেন অর্থ।

আরও পড়ুন: ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি নিয়ে ভারতে Realme P4S 5G, দাম ৩৪,৯৯৯

আরও পড়ুন: মেড ইন ইন্ডিয়ায় ফের ইতিহাস! দেশের সফল মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার হচ্ছে দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর চিপ

আরও পড়ুন: DRDO র বড় সিদ্ধান্ত! এবার দেশেই তৈরী হতে চলেছে টর্পেডো সাবমেরিন

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *